আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৯৪
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
কিরান হজ্জের বর্ণনা।
৩৯৪। নাফে (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) ফিতনার যুগে১ উমরা করার জন্য রওয়ানা হলেন। তিনি বললেন, যদি আমি কাবাঘরে পৌঁছতে বাঁধাপ্রাপ্ত হই, তবে এরূপ পরিস্থিতিতে আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর সাথে যে পন্থা অবলম্বন করেছিলাম, এক্ষেত্রেও তাই করবো। নাফে (রাহঃ) বলেন, অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন এবং উমরার ইহরাম বাঁধলেন। বাইদা নামক স্থানে পৌঁছে তিনি নিজের সফরসঙ্গীদের সম্বোধন করে বললেন, হজ্জ ও উমরার নিয়ম একই। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি উমরার সাথে হজ্জেরও নিয়াত করেছি।২ সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে তিনি বাইতুল্লায় পৌঁছলেন এবং সাতবার তাওয়াফ করলেন, অতঃপর সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করলেন, এর অধিক কিছু করলেন না। অর্থাৎ এক তাওয়াফকেই যথেষ্ট মনে করলেন এবং কোরবানী করলেন।
كتاب الحج
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ خَرَجَ فِي الْفِتْنَةِ مُعْتَمِرًا، وَقَالَ: " إِنْ صُدِدْتُ عَنِ الْبَيْتِ صَنَعْنَا كَمَا صَنَعْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَخَرَجَ فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ وَسَارَ، حَتَّى إِذَا ظَهَرَ عَلَى ظَهْرِ الْبَيْدَاءِ الْتَفَتَ إِلَى أَصْحَابِهِ، وَقَالَ: مَا أَمْرُهُمَا إِلا وَاحِدٌ، أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ الْحَجَّ مَعَ الْعُمْرَةِ، فَخَرَجَ حَتَّى إِذَا جَاءَ الْبَيْتَ طَافَ بِهِ، وَطَافَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعًا لَمْ يَزِدْ عَلَيْهِ، وَرَأَى ذَلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ وَأَهْدَى "

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

১. যে বছর আবদুল্লাহ ইবনুব যুবায়ের (রা) ও হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের মধ্যে খেলাফতের ব্যাপার নিয়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয়, তাকে ফিতনার যুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে (অনুবাদক)।

২. হজ্জ তিন প্রকার। যথা ইফরাদ, কিরান ও তামাত্তু। শুধু হজ্জের নিয়াত করে ইহরাম বাঁধলে তাকে ইফরাদ হজ্জ বলে। এক্ষেত্রে হজ্জের সমস্ত অনুষ্ঠান পালন করার পর পুনরায় নতুনভাবে ইহরাম বেঁধে ও নিয়াত করে উমরা করতে হয়। হজ্জের মাসে প্রথমে উমরার নিয়াত করে হজ্জের নিয়াতে ইহরাম বাঁধলে তাকে তামাত্তু হজ্জ বলে। এক্ষেত্রে মক্কায় পৌঁছে প্রথমে উমরা করতে হয়। অতঃপর ইহরাম ভঙ্গ করে পুনরায় ইহরাম বেঁধে হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাধা করতে হয়। তামাত্তু হজ্জকারীদের জন্য কোরবানী করা বাধ্যতামূলক। অন্য দুই প্রকারের হজ্জকারীদের জন্য তা বাধ্যতামূলক নয়। একত্রে হজ্জ ও উমরার নিয়তে ইব্রাম বাঁধলে তাকে কিরান হজ্জ বলে। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ইহরাম অবস্থায় থাকতে হয় এবং হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ করার পরই ইহরাম খোলা যায় ।
উমরা শব্দের অর্থ যিয়ারত বা দর্শন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে বাইতুল্লাহ যিয়ারত করা। হজ্জের কার্যক্রম সমাধা করতে হয় যিলহজ্জ মাসে। কিন্তু উমরা বছরের যে কোন সময় করা যায়। তবে মক্কাবাসীদের জন্য হজ্জের মাসে উমরা করা নিষেধ। ইমাম মালেক ও শাফিঈর মতে উমরা করা ফরয। কেননা কুরআন মজীদে হজ্জ এবং উমরাকে যুগপৎভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম আবু হানীফার মতে উমরা করা সুন্নাত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে জিজ্ঞেস করা হলো, “উমরা কি ফরয?” তিনি বলেনঃ “না, তবে তোমাদের পক্ষে উমরা করা উত্তম" (তিরমিযী) (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান