আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৯- কুরবানী,জবাই ও শিকারের বিধান
হাদীস নং: ৬৬৩
- কুরবানী,জবাই ও শিকারের বিধান
আকীকা সম্পর্কে।
৬৬৩। মুহাম্মাদ (ইমাম বাকের) ইবনে আলী (যয়নুল আবেদীন) ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) তার পুত্র হাসান (রাযিঃ) ও হুসাইন (রাযিঃ)-র মাথার চুল বাটখারায় ওজন করেন এবং ওজনের সম-পরিমাণ রূপা দান-খয়রাত করেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আকীকা সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি যে, জাহিলী যুগে এর প্রচলন ছিলো এবং ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়েও আকীকা করা হতো। অতঃপর কোরবানীর প্রচলন যে কোন ধরনের যবেহ রহিত করে দেয়, রমযানের রোযা তার পূর্বেকার সমস্ত রোযাকে রহিত করে দেয়, নাপাকীর গোসল তার পূর্বে প্রচলিত সমস্ত প্রকারের গোসল রহিত করে দেয় এবং যাকাত তার পূর্বেকার প্রচলিত সমস্ত ধরনের দান-খয়রাত রহিত করে দেয়। আমরা এভাবেই জানতে পেরেছি।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আকীকা সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি যে, জাহিলী যুগে এর প্রচলন ছিলো এবং ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়েও আকীকা করা হতো। অতঃপর কোরবানীর প্রচলন যে কোন ধরনের যবেহ রহিত করে দেয়, রমযানের রোযা তার পূর্বেকার সমস্ত রোযাকে রহিত করে দেয়, নাপাকীর গোসল তার পূর্বে প্রচলিত সমস্ত প্রকারের গোসল রহিত করে দেয় এবং যাকাত তার পূর্বেকার প্রচলিত সমস্ত ধরনের দান-খয়রাত রহিত করে দেয়। আমরা এভাবেই জানতে পেরেছি।**
كتاب الضحايا وما يجزئ منها
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنِي رَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، أَنَّهُ قَالَ: «وَزَنَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَعْرَ حَسَنٍ، وَحُسَيْنٍ، فَتَصَدَّقَتْ بِوَزْنِهِ فِضَّةً» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: أَمَّا الْعَقِيقَةُ فَبَلَغَنَا أَنَّهَا كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَقَدْ فُعِلَتْ فِي أَوَّلِ الإِسْلامِ ثُمَّ نَسَخَ الأَضْحَى كُلَّ ذَبْحٍ كَانَ قَبْلَهُ، وَنَسَخَ صَوْمُ شَهْرِ رَمَضَانَ كُلَّ صَوْمٍ كَانَ قَبْلَهُ، وَنَسَخَ غُسْلُ الْجَنَابَةِ كُلَّ غُسْلٍ كَانَ قَبْلَهُ، وَنَسَخَتِ الزَّكَاةُ كُلَّ صَدَقَةٍ كَانَتْ قَبْلَهَا، كَذَلِكَ بَلَغَنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** ইমাম মুহাম্মাদ (র) যে আকীকার প্রচলন রহিত হওয়ার দাবি করেছেন তাকে জাহিলী পন্থায় আকীকা করার রীতিকে রহিত করার উপর প্রয়োগ করতে হবে এবং তা শরীআত নির্ধারিত পন্থায় করতে হবে। অন্যথায় তার এই মত সহীহ হাদীস ও সাহাবাদের কর্মপন্থার সম্পূর্ণ বিপরীত গণ্য হবে। অনুরূপভাবে জাহিলী পন্থায় রোযা রাখা, যবেহ করা, গোসল করা ও দান-খয়রাত করার ক্ষেত্রেই তার রহিত হওয়ার দাবি প্রযোজ্য হবে। অন্যথায় তার এ দাবি বিবাহ ভোজের জন্য পশু যবেহ করা, শাবান ও হজ্জের মাসে রোযা রাখা, জুমুআর দিন গোসল করা এবং ফিতরা দেয়ার নির্দেশের পরিপন্থী হবে।
শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে হয়, মাথার চুল কামাতে হয় এবং আকীকা করতে হয়। চুলের ওজনের সমপরিমাণ সোনা বা রূপা দান-খয়রাত করা মুস্তাহাব। ইমাম মালেক ও শাফিঈর মতে আকীকা করা সুন্নাত, ইমাম আবু হানীফার মতে মুস্তাহাব এবং আহমাদের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা সুন্নাত। তার অপর মত অনুযায়ী আকীকা করা ওয়াজিব। কোন হাদীসে পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরী দিয়ে আকীকা করার কথা উল্লেখ আছে। আবার কোন কোন হাদীসে উভয়ের পক্ষ থেকে একটি করে বকরী দিয়ে আকীকা করার কথাও বলা হয়েছে। ইমাম মালেক (র) এই শেষোক্ত মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অবশ্য এটা কোন বাধ্যতামূলক ব্যাপার নয়। ছেলে বা মেয়ে উভয়ের পক্ষ থেকে এক বা একাধিক বকরী দিয়ে একবার বা একাধিকবার আকীকা করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান ও হুসাইন (রা)-র দুইবার আকীকা করেছেন বলে উল্লেখ আছে।
মুহাম্মাদ ইবনে আলী বর্ণিত হাদীস দু'টি মুরসাল হাদীসের পর্যায়ভুক্ত। কেননা তিনি ফাতিমা (রা)-র সাক্ষাতও পাননি এবং তার কাছ থেকে হাদীসও শুনেননি। ফাতিমা (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর ইন্তেকালের ছয় মাস পর ইন্তেকাল করেন। মুহাম্মাদ ইবনে আলী তার অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেন (অনুবাদক)।
শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে তার নাম রাখতে হয়, মাথার চুল কামাতে হয় এবং আকীকা করতে হয়। চুলের ওজনের সমপরিমাণ সোনা বা রূপা দান-খয়রাত করা মুস্তাহাব। ইমাম মালেক ও শাফিঈর মতে আকীকা করা সুন্নাত, ইমাম আবু হানীফার মতে মুস্তাহাব এবং আহমাদের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা সুন্নাত। তার অপর মত অনুযায়ী আকীকা করা ওয়াজিব। কোন হাদীসে পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরী দিয়ে আকীকা করার কথা উল্লেখ আছে। আবার কোন কোন হাদীসে উভয়ের পক্ষ থেকে একটি করে বকরী দিয়ে আকীকা করার কথাও বলা হয়েছে। ইমাম মালেক (র) এই শেষোক্ত মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অবশ্য এটা কোন বাধ্যতামূলক ব্যাপার নয়। ছেলে বা মেয়ে উভয়ের পক্ষ থেকে এক বা একাধিক বকরী দিয়ে একবার বা একাধিকবার আকীকা করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ হাসান ও হুসাইন (রা)-র দুইবার আকীকা করেছেন বলে উল্লেখ আছে।
মুহাম্মাদ ইবনে আলী বর্ণিত হাদীস দু'টি মুরসাল হাদীসের পর্যায়ভুক্ত। কেননা তিনি ফাতিমা (রা)-র সাক্ষাতও পাননি এবং তার কাছ থেকে হাদীসও শুনেননি। ফাতিমা (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর ইন্তেকালের ছয় মাস পর ইন্তেকাল করেন। মুহাম্মাদ ইবনে আলী তার অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেন (অনুবাদক)।