আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
১০- নিহতের রক্তপণ সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৬৪
- নিহতের রক্তপণ সংক্রান্ত অধ্যায়
হত্যাকাণ্ডের রক্তপণ (দিয়াত)।
৬৬৪। আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বাকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ দিয়াত সম্পর্কে আমর ইবনে হাযম (রাযিঃ)-কে যে চিঠি লিখেছিলেন, সে সম্পর্কে আবু বাকর (রাযিঃ) তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে অবহিত করেছেন। চিঠিটি নিম্নরূপঃ “জীবনের দিয়াত এক শত উট, নাকের দিয়াত যদি গোটা নাকই কর্তিত হয়—এক শত উট, দেহের অভ্যন্তরভাগ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া জখমের দিয়াত জীবনের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ, মাথার জখমের দিয়াতও জীবনের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ, এক চোখের দিয়াত পঞ্চাশ উট, এক হাতের দিয়াত পঞ্চাশ উট, এক পায়ের দিয়াত পঞ্চাশ উট, প্রতিটি আংগুলের দিয়াত দশ উট, প্রতিটি দাঁতের দিয়াত পাঁচ উট এবং মস্তকের ঝিল্লি কেটে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া জখমের দিয়াত পাচঁ উট।”**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমল করি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমল করি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الديات
كِتَابُ الدِّيَاتِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ عَنِ الْكِتَابِ الَّذِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَهُ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ فِي الْعُقُولِ، فَكَتَبَ: «أَنَّ فِي النَّفْسِ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ، وَفِي الأَنْفِ إِذا أُوعِيَتْ جَدْعًا مِائَةً مِنَ الإِبِلِ، وَفِي الْجَائِفَةِ ثُلُثَ النَّفْسِ، وَفِي الْمَأْمُومَةِ مِثْلَهَا، وَفِي الْعَيْنِ خَمْسِينَ، وَفِي الْيَدِ خَمْسِينَ، وَفِي الرِّجْلِ خَمْسِينَ، وَفِي كُلِّ إِصْبَعٍ مِمَّا هُنَالِكَ عَشْرًا مِنَ الإِبِلِ، وَفِي السِّنِّ خَمْسًا مِنَ الإِبِلِ، وَفِي الْمُوضِحَةِ خَمْسًا مِنَ الإِبِلِ» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا كُلِّهِ نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا كُلِّهِ نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলে অথবা তার কোন অঙ্গ আহত করলে অথবা তার দেহের কোন অংশ কেটে ফেললে জরিমানা হিসাবে যে অর্থদণ্ড দিতে হয় তাকে 'দিয়াত' বলে। পেট পর্যন্ত পৌছে যাওয়া জখম মূলে রয়েছে জাইফাহ। অর্থাৎ যে আঘাত পেটের দিক থেকে অথবা পিঠের দিক থেকে দেহের অভ্যন্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। মাথার জখম মূলে রয়েছে মামূমাহ। অর্থাৎ যে আঘাত মাথার চামড়ার নিচে পর্যন্ত পৌঁছে যায়। হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া জখম মূলে রয়েছে মূদিহাহ। অর্থাৎ যে আঘাতে চামড়ার নিচের হাড় পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়েছে কিন্তু হাড় ভাঙ্গেনি। হাড় ভেঙ্গে যাওয়া আঘাতকে বলা হয় হাশিমাহ।
ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে না। বরং ইসলামী আদালত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ ইচ্ছা করলে অর্থের বিনিময়ে অথবা কোন কিছু গ্রহণ না করেও হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে পারে। এরূপ অবস্থায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অধিকার রাখে না। আমাদের দেশে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক হত্যাকারীকে ক্ষমা করার যে ব্যবস্থা প্রচলিত আছে তা কুরআনের নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কুরআন মজীদ হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার অধিকার কেবল নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসদের দান করেছে। তবে কিসাস (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর করার কতগুলো শর্ত রয়েছে। যেমন, "হত্যাকারী স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে হত্যা করেছে, তার এই ইচ্ছার মধ্যে কোনরূপ সন্দেহ নাই, সে নিজের ক্ষমতাবলে এবং সরাসরি হত্যা করেছে। অপরদিকে নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর অংশ (সন্তান) নয়, সে নিহত হওয়ার মত অপরাধ করেনি, তার রক্ত ও হত্যাকারীর রক্তের মূল্য সমান এবং নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ হত্যার বিচার দাবি করেছে ইত্যাদি” (আল-বাদায়ে ওয়াস সানায়ে, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৩৪)।
উল্লেখিত শর্তের কোন একটির অনুপস্থিতি ঘটলে কিসাস কার্যকর হবে না। তখন দিয়াত (Blood Money) কার্যকর হবে। দিয়াতের পরিমাণ হচ্ছে এক শত উট অথবা তার আর্থিক মূল্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগে এক শত উটের মূল্য ছিল এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা (দীনার) বা দশ হাজার রৌপ্য মুদ্রা (দিরহাম)। হযরত উমার (রা)-র যুগে এসে এর বাজারমূল্য দাঁড়ায় বারো হাজার দিরহাম। বর্তমান কালেও দিয়াতের পরিমাণ হবে এক শত উট বা তার বাজার মূল্য। ইমাম আবু হানীফার মতে স্ত্রীলোকদের রক্তমূল্য পুরুষলোকদের অর্ধেক। কিন্তু ইমাম মালেক ও আহমাদের মতে পুরুষ এবং স্ত্রীলোকদের দিয়াতের পরিমাণ এক সমান (অনুবাদক)।
ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে না। বরং ইসলামী আদালত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ ইচ্ছা করলে অর্থের বিনিময়ে অথবা কোন কিছু গ্রহণ না করেও হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে পারে। এরূপ অবস্থায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অধিকার রাখে না। আমাদের দেশে রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক হত্যাকারীকে ক্ষমা করার যে ব্যবস্থা প্রচলিত আছে তা কুরআনের নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কুরআন মজীদ হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার অধিকার কেবল নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসদের দান করেছে। তবে কিসাস (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর করার কতগুলো শর্ত রয়েছে। যেমন, "হত্যাকারী স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে হত্যা করেছে, তার এই ইচ্ছার মধ্যে কোনরূপ সন্দেহ নাই, সে নিজের ক্ষমতাবলে এবং সরাসরি হত্যা করেছে। অপরদিকে নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর অংশ (সন্তান) নয়, সে নিহত হওয়ার মত অপরাধ করেনি, তার রক্ত ও হত্যাকারীর রক্তের মূল্য সমান এবং নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ হত্যার বিচার দাবি করেছে ইত্যাদি” (আল-বাদায়ে ওয়াস সানায়ে, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৩৪)।
উল্লেখিত শর্তের কোন একটির অনুপস্থিতি ঘটলে কিসাস কার্যকর হবে না। তখন দিয়াত (Blood Money) কার্যকর হবে। দিয়াতের পরিমাণ হচ্ছে এক শত উট অথবা তার আর্থিক মূল্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগে এক শত উটের মূল্য ছিল এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা (দীনার) বা দশ হাজার রৌপ্য মুদ্রা (দিরহাম)। হযরত উমার (রা)-র যুগে এসে এর বাজারমূল্য দাঁড়ায় বারো হাজার দিরহাম। বর্তমান কালেও দিয়াতের পরিমাণ হবে এক শত উট বা তার বাজার মূল্য। ইমাম আবু হানীফার মতে স্ত্রীলোকদের রক্তমূল্য পুরুষলোকদের অর্ধেক। কিন্তু ইমাম মালেক ও আহমাদের মতে পুরুষ এবং স্ত্রীলোকদের দিয়াতের পরিমাণ এক সমান (অনুবাদক)।