আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১০- নিহতের রক্তপণ সংক্রান্ত অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৬৮
- নিহতের রক্তপণ সংক্রান্ত অধ্যায়
ভুলবশত হত্যার দিয়াত।**
৬৬৮ । সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, ভুলবশত হত্যার দিয়াত হচ্ছে এক বছর বয়সের বিশটি উষ্ট্রী, দুই বছর বয়সের বিশটি উষ্ট্রী, দুই বছর বয়সের বিশটি উট, তিন বছর বয়সের বিশটি উষ্ট্রী এবং চার বছর বয়সের বিশটি উস্ত্রী (মোট এক শত)।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করিনি। বরং আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-র বক্তব্যের উপর আমল করি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
أخماس، عشرون بنت مخاض، وعشرون ابن مخاض، وعشرون بنت لبون، وعشرون حقة، وعشرون جذعة، أخماس

“ভুলবশত হত্যার দিয়াত পাঁচ ভাগে বিভক্তঃ এক বছর বয়সের বিশটি উষ্ট্রী, এক বছর বয়সের বিশটি উট, দুই বছর বয়সের বিশটি উষ্ট্রী, তিন বছর বয়সের বিশটি উষ্ট্রী এবং চার বছর বয়সের বিশটি উষ্ট্রী। এভাবে পাঁচটি অংশ পূর্ণ হলো।”
সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) মর্দা উট নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, দুই বছর বয়সের বিশটি উট। আর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেন, এক বছর বয়সের বিশটি উট। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-র মত ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-র মতের অনুরূপ।
كتاب الديات
بَابُ: دِيَةِ الْخَطَأِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: فِي دِيَةِ الْخَطَأِ عِشْرُونَ بِنْتَ مَخَاضٍ، وَعِشْرُونَ بِنْتَ لَبُونٍ، وَعِشْرُونَ ابْنَ لَبُونٍ، وَعِشْرُونَ حِقَّةً، وَعِشْرُونَ جَذَعَةً.
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَلَسْنَا نَأْخُذُ بِهَذَا، وَلَكِنَّا نَأْخُذُ بِقَوْلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: " دِيَةُ الْخَطَأِ أَخْمَاسٌ، عِشْرُونَ بِنْتَ مَخَاضٍ، وَعِشْرُونَ ابْنَ مَخَاضٍ، وَعِشْرُونَ بِنْتَ لَبُونٍ، وَعِشْرُونَ حِقَّةً، وَعِشْرُونَ جَذَعَةً، أَخْمَاسٌ.
وَإِنَّمَا خَالَفَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ فِي الذُّكُورِ، فَجَعَلَهَا مِنْ بَنِي اللَّبُونِ، وَجَعَلَهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ مِنْ بَنِي مَخَاضٍ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ مِثْلُ قَوْلِ ابْنِ مَسْعُودٍ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** কোন কোন সময় মানুষ হয়তো কোন বৈধ কাজ করছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও হুঁশিয়ারির অভাবে তার এ কাজের দরুন অন্য কোন ব্যক্তি নিহত হয়, অথচ তাকে হত্যা করার কোনরূপ ইচ্ছাই তার থাকে না। এ জাতীয় খুনকে 'ভুলবশত হত্যা' বলা হয় (তাব্‌ঈনুল হাকাইক ফী শারহিল কানয, ইমাম যায়লাঈ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ১০১; আল-বাদায়ে ওয়াস সানায়ে, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৫২; ইমাম মাওয়ারদীর আহকামুস সুলতানিয়াহ, পৃ. ২২০; আবু ইয়ালার আল-আহকামুস সুলতানিয়াহ, পৃ. ২৫৭)। এক্ষেত্রে হত্যাকারী হত্যার অপরাধে অপরাধী নয়, বরং অসাবধানতা ও অসতর্কতার অপরাধে অপরাধী। কেননা কোন বৈধ এবং মুবাহ কাজের শর্ত হচ্ছে, তা এমনভাবে করতে হবে যেন অন্যের কোন ক্ষতি না হয়। কিন্তু যখনই অন্যের ক্ষতি সাধিত হলো তখন প্রমাণিত হলো যে, হত্যাকারী অসাবধনতা ও অসতর্কর্তার অপরাধে অপরাধী। ভুলবশত হত্যা তিনভাবে হতে পারেঃ
(ক) ক্রিয়ার মধ্যে ভুল—যেমন কোন ব্যক্তি পাখিকে লক্ষ্য করে গুলী ছুড়লো। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তা গিয়ে পাখির কাছাকাছি কোন ব্যক্তির গায়ে পড়লো এবং সে নিহত হলো। (খ) অথবা কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে শিকার মনে করে তার উপর গুলী চালালো অথবা কোন মুসলমানকে শত্রুবাহিনীর লোক মনে করে হত্যা করে বসলো। এক্ষেত্রে অপরাধী তার কাজের মধ্যে ভুল করেনি। কেননা সে যাকে মারতে চেয়েছে তাকেই মেরেছে। কিন্তু সে ভুল করেছে তার ধারণা ও অনুমানের মধ্যে। (গ) অথবা কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে শিকার মনে করে তার উপর গুলী ছুড়লো, কিন্তু তা তৃতীয় কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলো। এক্ষেত্রে শিকারী তার ক্রিয়া এবং অনুমান উভয় ক্ষেত্রেই ভুল করেছে। কেননা সে একটি মানুষকে শিকার অনুমান করে ভুল করেছে এবং সে শিকারক্রিয়া প্রয়োগ করেছে একজনের উপর, কিন্তু তা পড়েছে গিয়ে অন্যের উপর। এই তিন প্রকারের হত্যাই ভুলবশত হত্যার অন্তর্ভুক্ত। ভুলবশত হত্যাকে তিনভাগে বিভক্ত করার ভিত্তি এই যে, মানুষ যুগপৎভাবে তার অংগ-প্রতংগ ও মস্তিষ্কের (বুদ্ধি) সাহায্যে কাজ করে । অতএব সে উভয় ক্ষেত্রে অথবা যে কোন একটি ক্ষেত্রে ভুলের শিকার হতে পারে।
ভুলবশত হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড (কিসাস) কার্যকর হবে না, বরং দিয়াত আদায়ের সাথে সাথে কাফ্ফারাও দিতে হবে। কাফ্ফারা হিসাবে একটি মুমিন গোলাম আযাদ করতে হবে। তা না পাওয়া গেলে একাধারে দুই মাস রোযা রাখতে হবে (দ্র. সূরা নিসাঃ ৯২) (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান