আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৫- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৮৭
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
যেসব কারণে ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামূলক হয়।
৭৮৭। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাদের উভয়ের জন্য ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ থাকে। কিন্তু ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ শর্ত রাখলে স্বতন্ত্র কথা।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি এবং এ সম্পর্কে আমরা ইবরাহীম নাখঈর ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেছেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা পরস্পর পৃথক না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয়ের কথাবার্তা থেকে অবসর না হওয়া পর্যন্ত উভয়ের তা প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ থাকে। বিক্রেতা বললো, আমি এই পণ্য তোমার কাছে বিক্রি করলাম। ক্রেতা যতোক্ষণ 'আমি তা ক্রয় করলাম' না বলবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত বিক্রেতার জন্য বিক্রয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ থাকে। অপরদিকে প্রথমে ক্রেতা বললো, আমি এতো দামে তোমার এই পণ্য ক্রয় করলাম। এক্ষেত্রে বিক্রেতা যতোক্ষণ 'আমি তা বিক্রি করলাম’ না বলবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতার ক্রয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ থাকবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের ফিকহবিদদের এটাই সাধারণ মত ।
كتاب البيوع في التجارات والسلم
بَابُ: مَا يُوجِبُ الْبَيْعَ بَيْنَ الْبَائِعِ وَالْمُشْتَرِي
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمُتَبَايِعَانِ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِالْخِيَارِ عَلَى صَاحِبِهِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، إِلا بَيْعَ الْخِيَارِ» .
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَتَفْسِيرُهُ عِنْدَنَا عَلَى مَا بَلَغَنَا عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ أَنَّهُ قَالَ: الْمُتَبَايِعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا، قَالَ: مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا عَنْ مَنْطِقِ الْبَيْعِ إِذَا قَالَ الْبَائِعُ: قَدْ بِعْتُكَ فَلَهُ أَنْ يَرْجِعَ مَا لَمْ يَقُلِ الآخَرُ: قَدِ اشْتَرَيْتُ، فَإِذَا قَالَ الْمُشْتَرِي: قَدِ اشْتَرَيْتُ بِكَذَا وَكَذَا فَلَهُ أَنْ يَرْجِعَ مَا لَمْ يَقُلِ الْبَائِعُ قَدْ بِعْتُ.
وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** বিভিন্ন কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্য ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ রয়েছে। যেমন,
(ক) ক্রেতা পণ্য দেখেনি, কেবল মৌখিক বর্ণনার উপর ভিত্তি করে তা ক্রয় করেছে। এক্ষেত্রে পণ্যের কোন দোষ-ত্রুটি না থাকলেও শুধু পূর্বে না দেখার অজুহাতে সে ক্রয়চুক্তি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এজন্য বিক্রেতা তার সাথে কোনরূপ অভদ্র ব্যবহার করলে গুনাহগার হবে। ইসলামের বাণিজ্য আইনের পরিভাষায় এটাকে বলা হয় খিয়ারুর রুইয়াত (خيارالرؤيات)
(খ) ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর, এমনকি মূল্য পরিশোধ করার পর পণ্যের মধ্যে কোন ত্রুটি পরিদৃষ্ট হলে (যে সম্পর্কে পূর্বে কোন মীমাংসা হয়নি) ক্রেতার জন্য এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ থাকে। এক্ষেত্রেও বিক্রেতা কোন আপত্তি করতে পারবে না। এটাকে বলা হয় খিয়ারুল আয়েব (خيار العيب)।
(গ) ক্রেতা-বিক্রেতা যে কোন এক পক্ষ অথবা উভয় পক্ষ যদি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সম্পাদন করাকালে, নির্দিষ্ট সময়-সীমার মধ্যে তা প্রত্যাখ্যান করার শর্ত রাখে তবে সে ক্ষেত্রেও শর্ত আরোপকারী এই ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এই অবকাশকে বলে খিয়ারুশ শর্ত (خيار الشرط)
(ঘ) বিক্রেতা কোন পণ্য নির্দিষ্ট মূল্যে বিক্রি করার কথা দিয়েছে। ক্রেতা ঐ পণ্য নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করার জন্য বিক্রেতাকে বাধ্য করতে পারে, যাবত না তারা ক্রয়-বিক্রয় পূর্ণরূপে সাব্যস্ত করার পূর্বে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
(ঙ) অনুরূপভাবে ক্রেতা কোন পণ্য নির্দিষ্ট মূল্যে ক্রয় করার কথা দিয়েছে। বিক্রেতা ঐ পণ্য নির্ধারিত মূল্যে ক্রয় করার জন্য ক্রেতাকে বাধ্য করতে পারে, যতোক্ষণ তারা ক্রয়-বিক্রয় পূর্ণরূপে সাব্যস্ত করার পূর্বে পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে না যায়।
উল্লেখিত ক্ষেত্রদ্বয়ে ক্রয়-বিক্রয় পূর্ণরূপে সাব্যস্ত করার পূর্বে ক্রেতা-বিক্রেতা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তারা একে অপরকে নিজ নিজ কথার উপর অটল থাকার জন্য বাধ্য করতে পারবে না। এটাকে বলা হয় খিয়ারুল আক্দ (خيار العقد)।
(চ) ক্রয়-বিক্রয়ের কথাবার্তা পূর্ণরূপে সাব্যস্ত হয়েছে, কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতা এখনো পরস্পর থেকে পৃথক হয়নি, নিজ নিজ স্থানে বসা আছে। এমতাবস্থায় ক্রেতা বা বিক্রেতা কোন কারণ ব্যতিরেকে এই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এই অবকাশকে বলা হয় খিয়ারুল মজলিস(خيار المجلس)। কিন্তু ক্রয়-বিক্রয়ের কথা সাব্যস্ত হওয়ার পর একজন অপরজনকে বললো, গ্রহণ করলেন তো? উত্তরে অপরজন বললো, গ্রহণ করলাম। তবে এক্ষেত্রে পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হলেও ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাখ্যান করার অবকাশ থাকে না। (আলোচনাটি মাওলানা নূর মোহাম্মদ আজমী অনূদিত মেশকাত শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ২১ ও ২২ থেকে নেয়া হয়েছে—অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)