আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
১৫- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
হাদীস নং: ৮২৩
- ক্রয় - বিক্রয়ের অধ্যায়
ওজন ও পরিমাপের মাধ্যমে বিনিময়কৃত জিনিসের মধ্যে সূদ।
৮২৩। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে (সাওয়াদ) খায়বার এলাকায় প্রশাসক নিয়োগ করেন। তিনি সেখান থেকে উৎকৃষ্ট মানের খেজুর নিয়ে তাঁর কাছে ফিরে এলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “খায়বারের সব খেজুরই কি এরূপ উৎকৃষ্ট মানের?” তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! না; বরং নিকৃষ্ট মানের দুই সা খেজুরের বিনিময়ে এক সা এই (উৎকৃষ্ট) খেজুর অথবা তিন সা নিকৃষ্ট খেজুরের বিনিময়ে দুই সা এই খেজুর গ্রহণ করে থাকি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “এরূপ করো না। বরং তোমার খেজুর দিরহামের বিনিময়ে (নগদ মূল্যে) বিক্রি করো, অতঃপর এই দিরহাম দিয়ে উৎকৃষ্ট মানের খেজুর কিনে নাও।” তিনি আরো বলেনঃ “বাটখারায় ওজন করা জিনিসের ক্ষেত্রেও এই বিধান।”**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই হাদীসের উপর আমল করি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের ফিকহবিদ সাধারণেরও এই মত।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই হাদীসের উপর আমল করি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের ফিকহবিদ সাধারণেরও এই মত।
كتاب البيوع في التجارات والسلم
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ سُهَيْلٍ، وَالزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَعْمَلَ رَجُلا عَلَى خَيْبَرَ، فَجَاءَ بِتَمْرٍ جَنِيبٍ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكُلُّ تَمْرِ خَيْبَرَ هَكَذَا؟» قَالَ: لا وَاللَّهِ، يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَكِنَّ الصَّاعَ مِنْ هَذَا بِالصَّاعَيْنِ، وَالصَّاعَيْنِ بِالثَّلاثَةِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَلا تَفْعَلْ، بِعْ تَمْرَكَ بِالدَّرَاهِمِ، ثُمَّ اشْتَرِ بِالدَّرَاهِمِ جَنيِبًا» .
وَقَالَ: فِي الْمِيزَانِ مِثْلُ ذَلِكَ.
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا كُلِّهِ نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
وَقَالَ: فِي الْمِيزَانِ مِثْلُ ذَلِكَ.
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا كُلِّهِ نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** সূদ (سود) শব্দের মূল আরবী পরিভাষা হচ্ছে 'রিবা' (ربوا) রিবার আভিধানিক অর্থঃ বৃদ্ধি, বিকাশ, ধন বৃদ্ধি হওয়া এবং আসল থেকে বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। কোন ঋণদাতা ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে মূলধনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট হারে যে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে, আরববাসীরা পরিভাষাগতভাবে একেই বলতো রিবা, আমরা বলি সূদ। ইসলামী শরীআত সূদকে সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করেছে। কুরআন মজীদে এ সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ
ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِى يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيْطَٰنُ مِنَ ٱلْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلْبَيْعُ مِثْلُ ٱلرِّبَوٰاْ ۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلْبَيْعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْ
“যেসব লোক সূদ খায় তাদের অবস্থা হয় সেই ব্যক্তির মতো, যাকে শয়তান নিজের স্পর্শ দ্বারা পাগল ও সুস্থ জ্ঞানশূন্য করে দিয়েছে। তাদের এরূপ অবস্থা হওয়ার কারণ এই যে, তারা বলে, ব্যবসা-বাণিজ্য তো সূদেরই অনুরূপ। অথচ আল্লাহ ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন” (সূরা বাকারাঃ ২৭৫)।
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ
“আল্লাহ সূদকে নির্মূল করেন এবং দান-খয়রাতকে বৃদ্ধি করেন” (বাকারাঃ ২৭৬)।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং লোকজনের কাছে তোমাদের যে সূদ পাওনা রয়েছে তার দাবি ত্যাগ করো, যদি তোমরা বাস্তবিকই মুমিন হয়ে থাকো। যদি তোমরা তা না করো, তবে জেনে রাখো! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা রইলো। আর যদি তোমরা তওবা করো (এবং সূদের দাবি ত্যাগ করো), তবে তোমরা মূলধন ফেরত পাওয়ার অধিকারী হবে। তোমরাও যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও যুলুম করা হবে না" (বাকারাঃ ২৭৮-৯)।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأْكُلُواْ ٱلرِّبَوٰٓاْ أَضْعَٰفًا مُّضَٰعَفَةً ۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাওয়া পরিত্যাগ করো এবং আল্লাহ্কে ভয় করো। আশা করা যায় তোমরা কল্যাণ লাভ করবে” (আল ইমরানঃ ১৩০)।
وَمَآ ءَاتَيْتُم مِّن رِّبًا لِّيَرْبُوَاْ فِىٓ أَمْوَٰلِ ٱلنَّاسِ فَلَا يَرْبُواْ عِندَ ٱللَّهِ
“লোকদের ধন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তোমরা যে সূদ দাও, আল্লাহর নিকট তার সাহায্যে ধন বৃদ্ধি পায় না” (সূরা রূমঃ ৩৯)।
রিবা (সূদ) আবার দুই ভাগে বিভক্ত। যথা, রিবা আন-নাসী (ربا الناسى) এবং রিবা আল-ফাদল (ربا الفضل)। নগদ অর্থে প্রদত্ত ঋণের উপর যে সূদ আরোপ করা হয় তাকে রিবা আন-নাসী বলা হয়। আমাদের দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় নগদ ঋণের উপর যে সূদ আরোপ করা হয়, তা এই রিবা আন-নাসীর পর্যায়ভুক্ত। কুরআন মজীদ এই সূদকেই হারাম ঘোষণা করেছে। এর হারাম হওয়ার ব্যাপারে উম্মাতের বিশেষজ্ঞ আইনবিদগণের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সূদ সম্পর্কিত প্রাথমিক বিধান কেবল ঋণের ক্ষেত্রে সূদ হারাম হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। উসামা ইবনে যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ
انما الربا في النسبة أو في بعض الألفاظ لا ربا الأ في النسية
“কেবলমাত্র আর্থিক ঋণের সাথে সূদী লেনদেন সম্পৃক্ত।”
পরবর্তী পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ রিবা আল-ফাদলকেও হারাম ঘোষণা করেন। একই শ্রেণীভুক্ত দু'টি জিনিসের নগদ বিনিময়ের ক্ষেত্রে এক পক্ষ অপর পক্ষের নিকট থেকে অতিরিক্ত যা গ্রহণ করে তাকে রিবা আল-ফাদল বলা হয়। অর্থাৎ পণ্যদ্রব্যের লেনদেনের (commodity transaction) ক্ষেত্রে যে সূদ হয় তাকে রিবা আল-ফাদল বলে। এই সূদ হাদীসের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
তবে পশুর সাথে পশুর অসম বিনিময়কে সূদের বাইরে রাখা হয়েছে। সম জাতের পশুর মধ্যে বৃদ্ধি সহকারে বিনিময় করা যেতে পারে। কারণ পশুদের মধ্যে মূল্য ও মানের দিক থেকে বিরাট ব্যবধান রয়েছে। যেমন একটি সাধারণ ঘোড়া এবং একটি উৎকৃষ্ট জাতের ঘোড়ার মধ্যে মূল্য ও মানের যথেষ্ট পার্থক্য আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে পশুর অসম বিনিময় করেছেন এবং তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণও এ ধরনের বিনিময় করেছেন। অতএব দু'টি পশুর সাথে একটি পশুর বিনিময় জায়েয।
ইসলামী শরীআত সূদের কারবার চরমভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ
الربوا سبعون جزءا أيسرها أن ينكح الرجل أمه
“সূদের গুনাহের সত্তরটি স্তর আছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের গুনাহের পরিমাণ হচ্ছে কোন ব্যক্তির নিজ মাকে বিবাহ করা” (ইবনে মাজা, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান)।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “মিরাজের রাতে আমি এমন এক শ্রেণীর লোকের নিকট পৌছলাম, যাদের পেটগুলো ঘরের ন্যায় বিরাটকায় ছিল এবং তা সাপে ভর্তি ছিল। সেগুলো বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি আমার সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বলেন, এরা সূদখোর” (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজা)। হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। “রাসূলুল্লাহ ﷺ সূদখোর, সূদদাতা এবং সূদের চুক্তিপত্র লেখকের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন" (নাসাঈ)।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “লোকদের উপর এমন এক যুগ আসবে (সূদের কারবার ব্যাপক হয়ে পড়বে, এমনকি) একটি লোকও সূদের কারবার থেকে অব্যাহতি পাবে না। সে সরাসরি সূদ না খেলেও সূদের ধোঁয়া বা ধূলা তাকে স্পর্শ করবে” (আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজা)।
জাবের (রা) থেকে বর্ণিত। বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “জাহিলী যুগের সমস্ত সূদ হারাম করা হলো। আমি সর্বপ্রথম আমার বংশের সূদের দাবি অর্থাৎ (আমার চাচা) আব্বাসের সূদের দাবি রহিত করলাম। সুতরাং সকল সূদই আজ হারাম করা হলো” (মুসলিম) (অনুবাদক)।
ٱلَّذِينَ يَأْكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِى يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيْطَٰنُ مِنَ ٱلْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلْبَيْعُ مِثْلُ ٱلرِّبَوٰاْ ۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلْبَيْعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْ
“যেসব লোক সূদ খায় তাদের অবস্থা হয় সেই ব্যক্তির মতো, যাকে শয়তান নিজের স্পর্শ দ্বারা পাগল ও সুস্থ জ্ঞানশূন্য করে দিয়েছে। তাদের এরূপ অবস্থা হওয়ার কারণ এই যে, তারা বলে, ব্যবসা-বাণিজ্য তো সূদেরই অনুরূপ। অথচ আল্লাহ ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন” (সূরা বাকারাঃ ২৭৫)।
يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ
“আল্লাহ সূদকে নির্মূল করেন এবং দান-খয়রাতকে বৃদ্ধি করেন” (বাকারাঃ ২৭৬)।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং লোকজনের কাছে তোমাদের যে সূদ পাওনা রয়েছে তার দাবি ত্যাগ করো, যদি তোমরা বাস্তবিকই মুমিন হয়ে থাকো। যদি তোমরা তা না করো, তবে জেনে রাখো! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা রইলো। আর যদি তোমরা তওবা করো (এবং সূদের দাবি ত্যাগ করো), তবে তোমরা মূলধন ফেরত পাওয়ার অধিকারী হবে। তোমরাও যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও যুলুম করা হবে না" (বাকারাঃ ২৭৮-৯)।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأْكُلُواْ ٱلرِّبَوٰٓاْ أَضْعَٰفًا مُّضَٰعَفَةً ۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খাওয়া পরিত্যাগ করো এবং আল্লাহ্কে ভয় করো। আশা করা যায় তোমরা কল্যাণ লাভ করবে” (আল ইমরানঃ ১৩০)।
وَمَآ ءَاتَيْتُم مِّن رِّبًا لِّيَرْبُوَاْ فِىٓ أَمْوَٰلِ ٱلنَّاسِ فَلَا يَرْبُواْ عِندَ ٱللَّهِ
“লোকদের ধন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তোমরা যে সূদ দাও, আল্লাহর নিকট তার সাহায্যে ধন বৃদ্ধি পায় না” (সূরা রূমঃ ৩৯)।
রিবা (সূদ) আবার দুই ভাগে বিভক্ত। যথা, রিবা আন-নাসী (ربا الناسى) এবং রিবা আল-ফাদল (ربا الفضل)। নগদ অর্থে প্রদত্ত ঋণের উপর যে সূদ আরোপ করা হয় তাকে রিবা আন-নাসী বলা হয়। আমাদের দেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় নগদ ঋণের উপর যে সূদ আরোপ করা হয়, তা এই রিবা আন-নাসীর পর্যায়ভুক্ত। কুরআন মজীদ এই সূদকেই হারাম ঘোষণা করেছে। এর হারাম হওয়ার ব্যাপারে উম্মাতের বিশেষজ্ঞ আইনবিদগণের মধ্যে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সূদ সম্পর্কিত প্রাথমিক বিধান কেবল ঋণের ক্ষেত্রে সূদ হারাম হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। উসামা ইবনে যায়েদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ
انما الربا في النسبة أو في بعض الألفاظ لا ربا الأ في النسية
“কেবলমাত্র আর্থিক ঋণের সাথে সূদী লেনদেন সম্পৃক্ত।”
পরবর্তী পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ রিবা আল-ফাদলকেও হারাম ঘোষণা করেন। একই শ্রেণীভুক্ত দু'টি জিনিসের নগদ বিনিময়ের ক্ষেত্রে এক পক্ষ অপর পক্ষের নিকট থেকে অতিরিক্ত যা গ্রহণ করে তাকে রিবা আল-ফাদল বলা হয়। অর্থাৎ পণ্যদ্রব্যের লেনদেনের (commodity transaction) ক্ষেত্রে যে সূদ হয় তাকে রিবা আল-ফাদল বলে। এই সূদ হাদীসের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
তবে পশুর সাথে পশুর অসম বিনিময়কে সূদের বাইরে রাখা হয়েছে। সম জাতের পশুর মধ্যে বৃদ্ধি সহকারে বিনিময় করা যেতে পারে। কারণ পশুদের মধ্যে মূল্য ও মানের দিক থেকে বিরাট ব্যবধান রয়েছে। যেমন একটি সাধারণ ঘোড়া এবং একটি উৎকৃষ্ট জাতের ঘোড়ার মধ্যে মূল্য ও মানের যথেষ্ট পার্থক্য আছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে পশুর অসম বিনিময় করেছেন এবং তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণও এ ধরনের বিনিময় করেছেন। অতএব দু'টি পশুর সাথে একটি পশুর বিনিময় জায়েয।
ইসলামী শরীআত সূদের কারবার চরমভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ
الربوا سبعون جزءا أيسرها أن ينكح الرجل أمه
“সূদের গুনাহের সত্তরটি স্তর আছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের গুনাহের পরিমাণ হচ্ছে কোন ব্যক্তির নিজ মাকে বিবাহ করা” (ইবনে মাজা, বায়হাকীর শুআবুল ঈমান)।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “মিরাজের রাতে আমি এমন এক শ্রেণীর লোকের নিকট পৌছলাম, যাদের পেটগুলো ঘরের ন্যায় বিরাটকায় ছিল এবং তা সাপে ভর্তি ছিল। সেগুলো বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। আমি আমার সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এরা কারা? তিনি বলেন, এরা সূদখোর” (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজা)। হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। “রাসূলুল্লাহ ﷺ সূদখোর, সূদদাতা এবং সূদের চুক্তিপত্র লেখকের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন" (নাসাঈ)।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “লোকদের উপর এমন এক যুগ আসবে (সূদের কারবার ব্যাপক হয়ে পড়বে, এমনকি) একটি লোকও সূদের কারবার থেকে অব্যাহতি পাবে না। সে সরাসরি সূদ না খেলেও সূদের ধোঁয়া বা ধূলা তাকে স্পর্শ করবে” (আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজা)।
জাবের (রা) থেকে বর্ণিত। বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “জাহিলী যুগের সমস্ত সূদ হারাম করা হলো। আমি সর্বপ্রথম আমার বংশের সূদের দাবি অর্থাৎ (আমার চাচা) আব্বাসের সূদের দাবি রহিত করলাম। সুতরাং সকল সূদই আজ হারাম করা হলো” (মুসলিম) (অনুবাদক)।