আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

১৮- বিবিধ প্রসঙ্গ।

হাদীস নং: ৯০৬
- বিবিধ প্রসঙ্গ।
ঘরে ছবি রাখা এবং পশুর গলায় ঘণ্টা বাঁধা মাকরূহ।
৯০৬। আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি অসুস্থ আবু তালহা আল-আনসারী (রাযিঃ)-কে দেখতে গেলেন। তিনি সেখানে পৌঁছে তাঁর কাছে সাহল ইবনে হুনাইফ (রাযিঃ)-কে উপস্থিত পেলেন। আবু তালহা (রাযিঃ) একটি লোক ডাকলেন এবং নিজ বিছানার নীচের গদি টেনে বের করে নিতে বলেন। সাহল ইবনে হুনাইফ (রাযিঃ) বলেন, তা টানছেন কেন? তিনি বলেন, কারণ এতে ছবি আঁকা আছে। আর এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ যা বলেছেন তা তোমার জানা আছে। সাহল (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ কি এও বলেননি যে, কাপড়ের উপর ছবি অংকিত থাকলে তাতে কোন দোষ নেই? আবু তালহা (রাযিঃ) বলেন, কিন্তু আমার মতে এ থেকেও বেঁচে থাকা উত্তম।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীসের উপর আমল করি। যদি বিছানার চাদর, সতরঞ্জি, কার্পেট, বালিশ ইত্যাদির উপর ছবি অংকিত থাকে তবে তাতে কোন দোষ নেই । কিন্তু দরজা-জানালার পর্দা এবং যেসব কাপড় ঝুলানো অবস্থায় থাকে তাতে ছবি অংকিত থাকা মাকরূহ। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের ফিকহবিদ সাধারণের এই মত।
الابواب الجامعة
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَهَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيِّ يَعُودُهُ، فَوَجَدَ عِنْدَهُ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ، فَدَعَا أَبُو طَلْحَةَ إِنْسَانًا يَنْزِعُ نَمَطًا تَحْتَهُ، فَقَالَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ: لِمَ تَنْزِعُهُ؟ قَالَ: لأَنَّ فِيهِ تَصَاوِيرُ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ فِيهَا مَا قَدْ عَلِمْتَ، قَالَ سَهْلٌ: أَوَ لَمْ يَقُلْ إِلا مَا كَانَ رَقْمًا فِي ثَوْبٍ؟ قَالَ: بَلَى، وَلَكِنَّهُ أَطْيَبُ لِنَفْسِي، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، مَا كَانَ فِيهِ مِنْ تَصَاوِيرَ مِنْ بِسَاطٍ يُبْسَطُ أَوْ فِرَاشٍ يُفْرَشُ أَوْ وِسَادَةٍ فَلا بَأْسَ بِذَلِكَ، إِنَّمَا يُكْرَهُ مِنْ ذَلِكَ فِي السِّتْرِ، وَمَا يُنْصَبُ نَصْبًا.
وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** বিচরণশীল জীবজন্তুর ছবি অংকন করা মূলতই হারাম। হাদীসে এ সম্পর্কে কঠোর বাণী উচ্চারিত হয়েছে। আবু জুহায়ফা (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ তার ছবি এবং প্রতিকৃতি অংকনকারীর উপর অভিসম্পাত করেছেন (বুখারী)। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, নবী ﷺ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ছবি বানায় তাকে আযাব দেয়া হবে এবং তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে বাধ্য করা হবে। অথচ সে তা করতে কখনো সক্ষম হবে না” (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)। আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা) বলেন, নবী ﷺ বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে কঠিন শাস্তি পাবে ছবি ও প্রতিকৃতি নির্মাণকারীগণ” (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)।
আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, নবী ﷺ বলেছেনঃ “যারা এই প্রতিকৃতি বানায় তাদেরকে কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যা কিছু বানিয়েছো তা জীবন্ত করে দাও” (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন যেসব লোককে সবচেয়ে মর্মান্তিক শাস্তি দেয়া হবে, তাদের মধ্যে সেইসব লোকও রয়েছে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে” (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘরে ছবি রাখতেও নিষেধ করেছেন এবং ছবি তৈরী করতেও নিষেধ করেছেন" (তিরমিযী)।
তবে গাছপালা, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, প্রাণহীন বস্তু, প্রাকৃতিক দৃশ্য, চাঁদ, সূর্য, তারকা, সৌরমণ্ডল, গ্রহ-নক্ষত্র ইত্যাদির ছবি অংকন করা জায়েয। সাঈদ ইবনে আবুল হাসান (র) বলেন, এক ব্যক্তি এসে ইবনে আব্বাস (রা)-র কাছে বললো যে, সে নিজ শ্রমে উপার্জন করে সংসার চালায় এবং তার পেশা হচ্ছে চিত্রাংকন। ইবনে আব্বাস (রা) তাকে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি প্রতিকৃতি নির্মাণ করে, আল্লাহ তাকে শান্তি দিবেন এবং যতোক্ষণ পর্যন্ত সে তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে না পারবে, ততোক্ষণ তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না। অথচ সে কখনও তাতে প্রাণ সঞ্চার করতে পারবে না।” একথা শুনে তার খুব রাগ হলো এবং তার চেহারার বর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। তখন ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, হে আল্লাহ্ বান্দা! তোমাকে যদি ছবি বানাতেই হয়, তবে এই গাছটির ছবি বানাও অথবা কোন প্রাণহীন জিনিসের ছবি বানাও (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)। বর্তমান কালের একদল ফিকহবিদ তামদ্দুনিক প্রয়োজনে সীমিত পর্যায়ে ছবি নির্মাণের অনুমতি ব্যক্ত করেছেন। যমন পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, ডকুমেন্টারী ছবি ইত্যাদি।
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ দ্রষ্টব্যঃ তাফসীর গ্রন্থসমূহে সূরা সাবা-এর ১৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা, তাফহীমুল কুরআনে অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা (২০ নং টীকা)। ফাতহুল বারী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩০০; উমদাতুল কারী ২২ খণ্ড, পৃ. ৭০; শরহে নববী (মুসলিমের শরাহ), ১৫ খণ্ড, পৃ. ৮১-২; ইসলামে হালাল-হারামের বিধান, আল্লামা কারদাবী, পৃ.১৫১-১৮২ এবং ফিকহের গ্রন্থসমূহের সংশ্লিষ্ট অধ্যায় । এমনকি ইহুদী-খৃস্টান ধর্মেও ছবি এবং প্রতিকৃতি নির্মাণ হারাম। এজন্য বাইবেলের নিম্নোক্ত স্থানসমূহ পাঠ করা যেতে পারেঃ যাত্রাপুস্তক, অধ্যায় ২০, আয়াত ৪, লেবীয় পুস্তক, অধ্যায় ২৬, আয়াত ১, দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায় ৪, আয়াত ১৫-১৮, অধ্যায় ২৭, আয়াত ১৫ (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান