আশ-শামাঈলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ- ইমাম তিরমিযী রহঃ
শামাইলে নববীর পরিচ্ছেদসমূহ
হাদীস নং: ৩০৮
শামাইলে নববীর পরিচ্ছেদসমূহ
রাসূলুল্লাহ্ -এর রোযার বিবরণ
৩০৮। মাহমুদ ইবন গায়লান (রাহঃ)... য়াযীদ আর-রিশ্ক (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেনঃ আমি মু'আযা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কোন্ কোন্ তারিখে তিনি রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, কোন নির্দিষ্ট তারিখ ছিল না। সুযোগ পেলেই তিনি রোযা রাখতেন।
আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, য়াযীদ আর-রিশ্ক হলেন য়াযীদ আদ্-দাব'ঈ আল-বসরী, তিনি একজন ছিকাহ্ রাবী। শু'বা, আব্দুল ওয়ারিছ ইবন সাঈদ, হাম্মাদ ইবন য়াযীদ, ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম প্রমুখ একাধিক রাবী তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন য়াযীদ আল-কাসিম এবং তাঁকে আল-কাসাম বলা হয়। আর-রিশক) الرِّشْكُ ( শব্দটি বসরাবাসীদের ভাষা, যা কাসাম (القسام) অর্থে ব্যবহৃত।
আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, য়াযীদ আর-রিশ্ক হলেন য়াযীদ আদ্-দাব'ঈ আল-বসরী, তিনি একজন ছিকাহ্ রাবী। শু'বা, আব্দুল ওয়ারিছ ইবন সাঈদ, হাম্মাদ ইবন য়াযীদ, ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম প্রমুখ একাধিক রাবী তাঁর কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন য়াযীদ আল-কাসিম এবং তাঁকে আল-কাসাম বলা হয়। আর-রিশক) الرِّشْكُ ( শব্দটি বসরাবাসীদের ভাষা, যা কাসাম (القسام) অর্থে ব্যবহৃত।
أبواب الشمائل المحمدية والخصائل المصطفوية
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ قَالَ : سَمِعْتُ مُعَاذَةَ ، قَالَتْ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ؟ قَالَتْ : نَعَمْ. قُلْتُ : مِنْ أَيِّهِ كَانَ يَصُومُ ؟ قَالَتْ : كَانَ لاَ يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ صَامَ.
قَالَ أَبُو عِيسَى : يَزِيدُ الرِّشْكُ هُوَ يَزِيدُ الضُّبَعِيُّ الْبَصْرِيُّ وَهُوَ ثِقَةٌ رَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الأَئِمَةِ ، وَهُوَ يَزِيدُ الْقَاسِمُ وَيُقَالُ : الْقَسَّامُ ، وَالرِّشْكُ بِلُغَةِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ هُوَ الْقَسَّامُ.
قَالَ أَبُو عِيسَى : يَزِيدُ الرِّشْكُ هُوَ يَزِيدُ الضُّبَعِيُّ الْبَصْرِيُّ وَهُوَ ثِقَةٌ رَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الأَئِمَةِ ، وَهُوَ يَزِيدُ الْقَاسِمُ وَيُقَالُ : الْقَسَّامُ ، وَالرِّشْكُ بِلُغَةِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ هُوَ الْقَسَّامُ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন কোন হাদীসে প্রতি মাসের শুরুতে হুযুর (ﷺ)-এর তিন দিন রোযা রাখার অভ্যাস ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। কোন কোন রেওয়ায়াতে মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখ এবং অপর কোন কোন বর্ণনায় সপ্তাহের বিশেষ বিশেষ তিন দিনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ বর্ণনা দ্বারা জানা গেল যে, এগুলোর মধ্য থেকে কোনটাই হুযুর (ﷺ)-এর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল না। এর একটি কারণ তো এ ছিল যে, হুযুর (ﷺ)-এর অনেক সময় বাইরে সফর এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রয়োজন বেশী করে দেখা দিত। এগুলোর কারণে বিশেষ বিশেষ তারিখ ও দিনের নিয়মানুবর্তিতা তাঁর জন্য উপযোগী ছিল না। দ্বিতীয় কারণ এটাও ছিল যে, তিনি যদি সর্বদা বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখে রোযা রাখতেন, তাহলে উম্মতের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য এটা কষ্টের কারণ হয়ে যেত এবং এর দ্বারা এ ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারত যে, এ রোযাগুলো ওয়াজিব পর্যায়ের। সারকথা, এ জাতীয় কল্যাণ চিন্তার কারণে তিনি নিজে বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখের পাবন্দী করতেন না এবং হুযুর (ﷺ)-এর বেলায় এটাই উত্তম ছিল। তবে সাহাবায়ে কেরামকে তিনি মাসের তিন রোযার ক্ষেত্রে অধিকতর আইয়ামে বীয তথা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের প্রতিই উৎসাহ দিতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)