ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৩. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩১৪
নামাযের অধ্যায়
মাগরিবের সালাত প্রথম ওয়াক্তে আদায় মুসতাহাব
(৩১৪) আবু আইউব রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার উম্মাত ততদিন পর্যন্ত কল্যাণের উপরে থাকবে, অথবা তিনি বলেন, ফিতরাতের (প্রকৃতির) উপরে থাকবে, যতদিন পর্যন্ত তারা মাগরিবের সালাত তারকারাজি স্পষ্ট হয়ে পরস্পরে সম্মিলিত হওয়া পর্যন্ত দেরি না করবে ।
كتاب الصلاة
عن أبي أيوب رضي الله عنه مرفوعا: لا تزال أمتي بخير أو قال على الفطرة ما لم يؤخروا المغرب إلى أن تشتبك النجوم

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আহমাদ ও আবু দাউদ । হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন) । [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২৩৫৩৪; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৪১৮; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-৬৮৫]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ মাগরিবের সালাত সাধারণত প্রথম ওয়াক্তে আদায় করতেন। এ হাদীস দ্বারা একথাই জানা যায়। উযর ব্যতীত তারকারাজি সমগ্র আকাশে দৃষ্টিগোচর হওয়া অবধি বিলম্বে মাগরিবের সালাত আদায় করা অপসন্দনীয় কাজ ও মাকরূহ। তবে 'শাফাক' অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত এই সালাতের সময় অবশিষ্ট থাকে যেমন অন্য হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে। কখনো যদি কোন দীনি কাজের চাপে মাগরিবের সালাত আদায় বিলম্ব হয় তখনই কেবল এহেন বিলম্বের অবকাশ থাকতে পারে। সহীহ বুখারীতে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে শাফীক (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা) আসরের সালাতের পর ওয়ায নসীহত শুরু করেন এমনকি সূর্য ডুবে সারা আকাশ জুড়ে তারকারাজি দীপ্তিমান হয়ে ওঠে আর তিনি তার ওয়ায অব্যাহত রাখেন। উপস্থিত জনতার কেউ কেউ আস্সালাত আস্সালাত বলতে থাকেন। এতদশ্রবণে তিনি ভীষণভাবে ধমক দেন এবং বলেন, এহেন পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও মাগরিবের সালাত বিলম্বে আদায় করতেন। তাই এমন অবস্থায় দেরী করা যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান