ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার
৩. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৯০
নামাযের অধ্যায়
স্বাধীন নারীগণ ও ক্রীতদাসীগণের আবৃতব্য গুপ্তাঙ্গ
(৩৯০) আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নারীদেহ আবৃতব্য গুপ্তাঙ্গ। যখন কোনো নারী বাইরে বের হন তখন শয়তান তার দিকে দৃষ্টি তুলে তাকায়।
كتاب الصلاة
عن عبد الله رضي الله عنه مرفوعا: المرأة عورة فإذا خرجت استشرفها الشيطان
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
(তিরমিযি। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)। [সুনান তিরমিযি, হাদীস-১১৭৩; সহীহ ইবন খুযাইমা, হাদীস-১৬৮৬; সহীহ ইবন হিব্বান, হাদীস-৫৫৯৯]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আরবী ভাষায় عورة ঐ জিনিস অথবা দেহের ঐ অংশকে বলা হয়, যাকে গোপন রাখা বা পর্দায় রাখা জরুরী এবং যাকে খুলে রাখা দূষণীয় মনে করা হয়। এ হাদীসে বলা হয়েছেঃ المرأة عورة অর্থাৎ, নারী জাতির বৈশিষ্ট্য এটাই যে, তাদের পর্দায় থাকা চাই। আরো বলা হয়েছে যে, যখন কোন মহিলা বাইরে বের হয়, তখন শয়তান তার দিকে উঁকিঝুঁকি মারতে থাকে। হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য ও দাবী এই যে, যতদূর সম্ভব মহিলাদের বাইরে বের না হওয়াই উচিত, যাতে শয়তান ও তার অনুচরদের শয়তানী ও দুষ্টামী করার সুযোগই না মিলে। আর যদি প্রয়োজনে বাইরে যেতেই হয়, তাহলে এমনভাবে পর্দার সাথে বের হবে যে, রূপ-সৌন্দর্য ও সাজ-সজ্জার প্রকাশ না ঘটে। কুরআন মজীদের আয়াতঃ وَقَرۡنَ فِیۡ بُیُوۡتِکُنَّ وَلَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ الۡجَاہِلِیَّۃِ الۡاُوۡلٰی এতেও এ নির্দেশই দেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া যাবে। এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফের এক হাদীসে হুযুর (ﷺ)-এর সুস্পষ্ট বাণী রয়েছে: قد أذن الله لكن أن تخرجن لحوائجكن অর্থাৎ, প্রয়োজনে তোমাদের বাইরে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)