আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৬৩- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৩৭৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৭৯২
- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
৩০৬৫. ঝালরযুক্ত ইযার।
ইমাম যুহরী, আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ, হামযা ইবনে আবু উসায়দ ও মুআবিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ঝালরযুক্ত পোশাক পরিধান করেছেন।
ইমাম যুহরী, আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ, হামযা ইবনে আবু উসায়দ ও মুআবিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ঝালরযুক্ত পোশাক পরিধান করেছেন।
৫৩৭৭। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রিফাআ কুরাযির স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল। এ সময় আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আবু বকর (রাযিঃ) তার কাছে ছিলেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি রিফাআর অধীনে (বিবাহ বন্ধনে) ছিলাম। তিনি আমাকে তালাক দেন এবং চূড়ান্তভাবে তালাক (তিন তালাক) দেন। এরপর আমি আব্দুর রহমান ইবনে যাবিরকে বিবাহ করি, কিন্তু আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার সাথে কাপড়ের ঝালরের ন্যায় ছাড়া কিছুই নেই। এ কথা বলার সময় স্ত্রীলোকটি তার চাদরের আচল ধরে দেখায়। খালিদ ইবনে সাইদ রাঃ যাকে তখনো (ভিতরে যাওয়ার) অনুমতি দেওয়া হয় নাই, দরজার কাছ থেকে স্ত্রীলোকটির কথা শুনেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, তখন খালিদ বললেন, হে আবু বকর! এ মহিলাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে জোরে জোরে এসব কথা বলছে, তা শুনে কেন আপনি তাকে বাঁধা দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীলোকটিকে বললেনঃ মনে হয়, তুমি রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চাও?তা হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তোমার মধু আস্বাদন করবে এবং তুমি তার মধু আস্বাদন করবে। পরবর্তী সময়ে এটা বিধানে পরিণত হয়ে যায়।
كتاب اللباس
بَابُ الإِزَارِ المُهَدَّبِ وَيُذْكَرُ عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَأَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، وَحَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ، وَمُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ: «أَنَّهُمْ لَبِسُوا ثِيَابًا مُهَدَّبَةً»
5792 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: جَاءَتْ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ القُرَظِيِّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا جَالِسَةٌ، وَعِنْدَهُ أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي كُنْتُ تَحْتَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِي فَبَتَّ طَلاَقِي، فَتَزَوَّجْتُ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ، وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا مَعَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا مِثْلُ هَذِهِ الهُدْبَةِ، وَأَخَذَتْ هُدْبَةً مِنْ جِلْبَابِهَا، فَسَمِعَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ قَوْلَهَا وَهُوَ بِالْبَابِ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، قَالَتْ: فَقَالَ خَالِدٌ: يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلاَ تَنْهَى هَذِهِ عَمَّا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَلاَ وَاللَّهِ مَا يَزِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى التَّبَسُّمِ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ، لاَ، حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ» فَصَارَ سُنَّةً بَعْدُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
শরীয়তের এ নির্দেশ কুরআন মজীদেও বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)