ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৩. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬১৬
নামাযের অধ্যায়
কুরআন পাঠে পারং্গমের মর্যাদা এবং কুরআন পাঠ ও শ্রবণের মর্যাদা
(৬১৬) আয়িশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠে সুদক্ষ সে পুণ্যময় সম্মানিত লেখকগণের (ফিরিশতাগণের) সঙ্গী। আর যে ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠ কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও কষ্ট করে ও অসুবিধাসহ সে তা তিলাওয়াত করে তার জন্য দুইটি পুরস্কার ।
كتاب الصلاة
عن عائشة رضي الله عنها مرفوعا: الماهر بالقرآن مع السفرة الكرام البررة والذي يقرأ القرآن ويتتعتع فيه وهو عليه شاق له أجران

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[সহীহ মুসলিম, হাদীস-৭৯৮; সহীহ বুখারি, হাদীস-৪৯৩৭; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-১৪৫৪; সুনান তিরমিযি, হাদীস-২৯০৪; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-৩৭৭৯]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে سفرة যে শব্দটি এসেছে, এর দ্বারা অধিকাংশ হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ ওহী বাহক ফেরেশতাদেরকে উদ্দেশ্য করেছেন। আর কেউ কেউ বলেছেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে নবী-রাসূলগণ। আর শাব্দিক অর্থে উভয়টিরই অবকাশ রয়েছে। হাদীসটির মর্ম এই যে, আল্লাহর যেসব বান্দা কুরআনকে আল্লাহর কালাম বিশ্বাস করে এর সাথে সম্পর্ক রাখে এবং অধিক তেলাওয়াত ও চর্চার কারণে কুরআনের সাথে তাদের বিশেষ সম্বন্ধ ও ব্যুৎপত্তি অর্জিত হয়ে যায়, তারা নবী-রাসূল অথবা ওহীবাহক ফেরেশতাদের সঙ্গ ও সান্নিধ্য লাভ করবে। আর যেসব বান্দার অবস্থা এই যে, যোগ্যতা ও চর্চার স্বল্পতার কারণে তারা কুরআন চালু পড়তে পারে না; বরং কষ্ট করে আটকে আটকে পড়ে এবং এ অবস্থা সত্ত্বেও সওয়াব ও পুণ্যের আশায় তেলাওয়াত করেই যায়। তারা তেলাওয়াতের সওয়াব ও প্রতিদান ছাড়া এই কষ্ট বরদাশত করার কারণে অতিরিক্ত সওয়াব পাবে। তাই এ অবস্থার কারণে তাদের মন ভেঙ্গে দেওয়ার কোন কারণ নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)