ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৫. রোযার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৩৭
রোযার অধ্যায়
দুই ঈদের দিনে সিয়াম পালনে নিষেধাজ্ঞা
(১৩৩৭) উমার ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই দুইদিন সিয়াম পালন করতে নিষেধ করেছেন: যে দিন তোমরা (রামাদানের) সিয়াম শেষ কর (ঈদুল ফিতরের দিন) এবং দ্বিতীয় দিন যে দিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুর গোশত ভক্ষণ কর (ঈদুল আযহার দিন)।
كتاب الصيام
عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: هذان يومان نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيامهما يوم فطركم من صيامكم واليوم الآخر تأكلون فيه من نسككم

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[সহীহ বুখারি, হাদীস-১৯৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস-১১৩৭]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী, হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত উমর রাযি.-এর হাদীসগুলোতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে রোযা রাখতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে। হযরত উমর রাযি.-এর বক্তব্যে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈদুল ফিতরের দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, আল্লাহ তা'আলা এ দিনটিকে রমযানের পর 'ইফতারের দিন' অর্থাৎ, রোযা না রেখে পানাহার করার দিন বানিয়েছেন। এই কারণে এ দিন রোযা রাখাতে আল্লাহর অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। আর কুরবানীর দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, এটা হচ্ছে কুরবানীর গোশত খাওয়ার দিন। আল্লাহর অভিপ্রায় যেন এই যে, এ দিন আল্লাহর নামে যেসব কুরবানী করা হয়, আল্লাহর বান্দারা যেন এগুলোর গোশত আল্লাহর মেহমানী মনে করে এবং তার দুয়ারের ভিখারী সেজে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়। নিঃসন্দেহে ঐ বান্দা খুবই অহংকারী ও অকৃতজ্ঞ বিবেচিত হবে, যে আল্লাহর এই আম মেহমানীর দিন জেনে শুনে রোযা রাখে। তথা পানাহার বর্জন করে আর যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখও যেহেতু কুরবানীর দিন, সুতরাং এগুলোর বিধানও তাই হবে। অর্থাৎ, এ দু'দিনও রোযা রাখা যাবে না। নুবাইশা হুযালীর হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) আইয়ামে তাশরীকের সবকটি দিনকেই পানাহার অর্থাৎ, আল্লাহর মেহমানীর দিন বলেছেন, যার মধ্যে ১৩ই যিলহজ্বও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ১০ ই যিলহজ্ব থেকে ১৩ ই যিলহজ্ব পর্যন্ত ৪ দিনই রোযা রাখা নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতএব, এ দিনগুলোতে রোযা রাখা আর ইবাদত হবে না; বরং গুনাহর কাজ হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)