ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

১৮. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য

হাদীস নং: ২০৫৯
ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্য
ত্রুটির এখতিয়ার বা ত্রুটির কারণে পণ্য ফেরতের অধিকার
(২০৫৯) আয়িশা রা. বলেন, একব্যক্তি একটি ক্রীতদাস ক্রয় করে। আল্লাহ যতদিন ইচ্ছা করলেন ততদিন ক্রীতদাসটি তার নিকট থাকল । এরপর সে ক্রীতদাসটির কিছু ত্রুটি দেখতে পেল। তখন সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বিচার দাবি করে। ফলে তিনি দাসটি বিক্রেতাকে ফেরত দেন। বিক্রেতা বলে, হে আল্লাহর রাসূল, ক্রেতা আমার দাসটিকে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করেছে । তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, উৎপাদন আর্থিক-দায়ভারের বিনিময়ে (অর্থাৎ পণ্য যার আর্থিক দায়িত্বে থাকবে, পণ্যের উৎপাদন তিনিই লাভ করবেন। দাসটি বিক্রেতার নিকট ফেরত দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ক্রেতার আর্থিক দায়ভারের মধ্যে ছিল তার মৃত্যু হলে বা কোনো ক্ষতি হলে তার জন্য বিক্রেতাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হত না; বরং ক্রেতারই আর্থিক ক্ষতি হত । এজন্য এই সময়ে তার দ্বারা উপার্জিত অর্থ ক্রেতাই লাভ করবে)।
كتاب البيوع
عن عائشة رضي الله عنها أن رجلا ابتاع غلاما فأقام عنده ما شاء الله أن يقيم ثم وجد به عيبا فخاصمه إلى النبي صلى الله عليه وسلم فرده عليه فقال الرجل: يا رسول الله قد استغل غلامي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الخراج بالضمان.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আবু দাউদ ও ইবন মাজাহ হাদীসটি সঙ্কলন করেছেন। হাকিম, যাহাবি ও মুনযিরি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। বুখারি, আবু দাউদ প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। মালিক মুআত্তা গ্রন্থে সহীহ সনদে উদ্ধৃত করেছেন যে, উসমান রা. তার বিচারে পণ্যের ত্রুটির কারণে পণ্য ফেরত প্রদানের বিধান দেন)। [সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৩৫১০; সুনান ইবন মাজাহ, হাদীস-২২৪৩; মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২৪৫১৪; মুস্তাদরাক হাকিম, হাদীস-২১৭৭]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসের শেষে তাঁর বাণী «الخراج بالضمان» শরী'আতের সেই মৌল নীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা দ্বারা ফকীহবৃন্দ শত শত মাসআলার নির্দেশ বের করেছেন। উদ্দেশ্য এই যে, লাভের উপযুক্ত সে-ই, যে ক্ষতির জিম্মাদার। যদি দাস ক্রয়কারীর নিকট দাসটি মরে যেত অথবা কোন দৈবাতে তার কোন অঙ্গহানি হয়ে যেত তবে এই ক্ষতি ক্রয়কারীরই হত। এ জন্য সেই দিনগুলোতে যে ফায়দা ক্রেতা দাস থেকে লাভ করেছেন, তা তারই অধিকার ছিল। সুতরাং তার বিনিময়ের প্রশ্নই উঠে না।

এ স্থলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা)-এর এক ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনা ইমাম মালিক তার মুআত্তায় উদ্ধৃত করেছেন। ঘটনাটি হচ্ছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) আটশত দিরহামে তাঁর এক দাস কারো নিকট বিক্রি করেছিলেন। বিক্রয়কালে তিনি একথা প্রকাশ করেছিলেন যে, এ দাসে কোন ত্রুটি নেই। পরে দাস ক্রয়কারী বললেন, তার মধ্যে অমুক রোগ রয়েছে যা তিনি বলেননি। [সম্ভবত হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) বলেছিলেন তার এ রোগ আমার এখানে ছিল না]। বস্তুত বিষয়টি তখনকার খলীফা হযরত উসমান (রা)-এর আদালতে পেশ হয়েছিল। তিনি বৃত্তান্ত শুনে (এবং এটা দেখে যে, ক্রেতা এ কথার সাক্ষী পেশ করতে সক্ষম নয় যে, দাসের এ রোগটি প্রথমে ছিল) শরী'আতের আইন মুতাবিক হযরত ইবনে উমর (রা) কে বললেন, আপনি শপথ করে এ কথা বলুন যে, দাসের এ রোগ আপনার ওখানে ছিল না। হযরত ইবনে উমর (রা) শপথ নিয়ে এ বর্ণনা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করে নিজের দাস ফেরত গ্রহণ করলেন। এরপর আল্লাহ এরূপ করলেন যে, রোগের লক্ষণ দূর হয়ে দাসটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। এরপর সেই দাসই হযরত ইব্‌ন ওমর (রা) পনের শত দিরহামে বিক্রি করেন।

এ মাসআলায় ফকীহবৃন্দের ঐকমত্য রয়েছে যে, যদি ক্রয়কৃত দ্রব্যে কোন ত্রুটি বের হয় (যে কারণে এর মূল্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়ে পড়ে) তবে এ কথা প্রমাণিত হওয়ার পর যে, এ ত্রুটি ক্রয়-বিক্রয়ের পূর্বে ছিল, ক্রেতার বিষয়টি বাতিল ও ক্রয়কৃত দ্রব্য ফেরত দিয়ে নিজের প্রদত্ত মূল্য ফেরত নেয়ার অধিকার আছে। এটাকেই 'খিয়ারে আয়ব' বলা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান