ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৩৫. বৈধ-অবৈধ বিষয়াদি ও বিভিন্ন আদব

হাদীস নং: ২৩৯৭
বৈধ-অবৈধ বিষয়াদি ও বিভিন্ন আদব
বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি, গায়িকা, তবলা, মাদক পানীয়, ঘুঁটি (ছক্কা)
(২৩৯৭) আবু উমামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহিমাময় পরাক্রান্ত আল্লাহ আমাকে সকল সৃষ্টিজগতের করুণা ও পথপ্রদর্শনরূপে প্রেরণ করেছেন । এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি বাঁশি, জুয়া জাতীয় খেলায় ব্যবহৃত লাঠি ও বাদ্যযন্ত্র বিনষ্ট করব।
كتاب الحظر والإباحة وآداب متفرقة
عن أبي أمامة رضي الله عنه مرفوعا: إن الله عز وجل بعثني رحمة وهدى للعالمين وأمرني أن أمحق المزامير والكبارات يعني البرابط والمعازف .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(আহমাদ যয়ীফ** সনদে)। [মুসনাদ আহমাদ, হাদীস-২২২১৮; মুসনাদ হারিস, হাদীস-৭৭১]

** [শুআইব আরনাউত বলেন, হাদীসটি যয়ীফ জিদ্দান বা অত্যন্ত দুর্বল। যাহাবি বলেন, সনদের তিনজন রাবী, অর্থাৎ ফারাজ ইবন ফাদালাহ, আলী ইবন ইয়াযীদ ও কাসিম ইবন আব্দুর রাহমান দুর্বল । দেখুন: যাহাবি, তানকীহুত তাহকীক ২/১২৫; আযীমাবাদি, আওনুল মা'বুদ ১৩/১৮৫ এবং মুসনাদ আহমাদে হাদীস নং ২২২১৮এ শুআইব আরনাউতকৃত টীকা । -সম্পাদক]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, এ কয়েকটি সংস্কারমূলক কাজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দুনিয়াতে প্রেরণের বিশেষ উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। মূর্তি ও ক্রুশের বিলোপ সাধন, জাহেলীযুগের জাহেলী প্রথা খতম করা এবং معازف ও مزامير তথা সর্ব প্রকার বাদ্যযন্ত্রের প্রচলনকে দূর করা। معازف বলা হয় সেই সব বাদ্যযন্ত্রকে, যেগুলো হাত দিয়ে বাজানো হয়। যেমন, ঢোলক, তবলা, সেতার ও সারেঙ্গী ইত্যাদি। আর مزامير হচ্ছে ঐসব বাদ্যযন্ত্র যা মুখ দ্বারা বাজানো হয়। যেমন, শানাই, বাঁশী ইত্যাদি।

এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, এসব বাদ্যযন্ত্র প্রকৃতপক্ষে খেল-তামাশা ও পাপাচারের যন্ত্র এবং দুনিয়া থেকে এগুলোর প্রচলনকে বিলুপ্ত করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ বিশেষ কাজসমূহের অন্তর্গত, যেগুলোর জন্য তিনি প্রেরিত হয়েছেন এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছেন। কিন্তু কতইনা দুঃখের কথা আর শয়তানের কতইনা বিরাট সফলতা যে, কোন কোন মাজারে ওরসের নামে যে মেলা বসে, এগুলোতে অন্যান্য অনিষ্টতা ছাড়া বাদ্যযন্ত্রেরও এমন আয়োজন থাকে যে, পাপাচারের কোন অনুষ্ঠানেও হয়ত এর চেয়ে বেশী হয় না। হায়! এসব লোক যদি বুঝত যে, এসব অপকর্ম ও গান-বাজনার দ্বারা স্বয়ং মাজারবাসী বুযুর্গের আত্মার কি পরিমাণ কষ্ট হয় এবং তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে শয়তানের মিশনকে সফলতা দান করে নবী করীম (ﷺ)-এর পবিত্র রূহকে কি পরিমাণ কষ্ট দিচ্ছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান