ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৪২. ইহসান-আত্মশুদ্ধির অধ্যায়

হাদীস নং: ২৫৯৫
ইহসান-আত্মশুদ্ধির অধ্যায়
গীবত বা অনুপস্থিতের নিন্দার পরিচয় ও তার কাফফারা
(২৫৯৫) আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা কি জান গীবত (অনুপস্থিতের নিন্দা) কী? সাহাবিগণ বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল অধিক জানেন। তিনি বললেন, তোমার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তুমি তার বিষয়ে এমন কথা উল্লেখ করবে যা সে অপছন্দ করে। বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যা বলছি তা যদি সত্যই আমার ভাইয়ের মধ্যে বিরাজমান থাকে, তবে কী হবে বলুন। তিনি বলেন, তুমি যা বলছ তা যদি তোমার ভাইয়ের মধ্যে বিরাজমান থাকে তবে তুমি তার গীবত করলে । আর তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে না থাকে তবে তুমি তার অপবাদ দিলে।
كتاب الإحسان
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا: أتدرون ما الغيبة؟ قالوا: الله ورسوله أعلم قال: ذكرك أخاك بما يكره قيل أفرأيت إن كان في أخي ما أقول؟ قال: إن كان فيه ما تقول فقد اغتبته وإن لم يكن فيه فقد بهته.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[সহীহ মুসলিম, হাদীস- ২৫৮৯; সুনান আবু দাউদ, হাদীস-৪৮৭৪; সুনান তিরমিযি, হাদীস-১৯৩৪]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মানুষের অসাক্ষাতে তার দোষ বর্ণনা করা গীবত। গীবতের দ্বারা সমাজের শান্তি বিঘ্নিত হয়, পারস্পরিক ভালবাসা ও সম্মান বিলুপ্ত হয় এবং অসাক্ষাতে দোষ বর্ণনা করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করা বা তার প্রতিবাদ করার সুযোগ লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তা এক জঘন্য ধরনের বে-ইনসাফী। গীবত মারাত্মক সামাজিক ব্যধি হওয়ার কারণে আল্লাহ কিয়ামতের দিন গীবতকারীকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন।

বুহতান গীবতের চেয়েও মারাত্মক। তাই ভুলক্রমেও কোন আল্লাহর বান্দার বিরুদ্ধে বুহতান বা অপবাদ আরোপ করা ঠিক নয়।

হাকিমের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোষ বর্ণনা করা, পেশাদার চোর, বদমায়েশ, গুন্ডা বা মারাত্মক দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে সমাজের মানুষকে হুঁশিয়ার করা, সংশোধন করার উদ্দেশ্যে শাসক ব্যক্তি বা সরকারী আমলাদের দোষ বর্ণনা করা, বিবাহ-শাদীর ব্যাপারে পাত্র-পাত্রীর দোষ-গুণ সম্পর্কে সঠিক রায় দান করা, পদস্থ ব্যক্তির কাছে অধীনস্থ ব্যক্তির দোষ-ত্রুটির উল্লেখ করা ইত্যাদি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
ফিকহুস সুনান - হাদীস নং ২৫৯৫ | মুসলিম বাংলা