ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার

৪৩. যাবতীয় মা'ছুর দোয়া-যিক্‌র

হাদীস নং: ২৬৪৮
যাবতীয় মা'ছুর দোয়া-যিক্‌র
তাহলীল, তাহমীদ, তাসবীহ, তাকবীর ও হাওকালার মর্যাদা
(২৬৪৮) আবু হুরাইরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কেউ একদিনের মধ্যে ১০০ বার বলে 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং তারই প্রশংসা করছি) তবে তার গোনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে, যদিও তা সমূদ্রের ফেনাতুল্য হয়।
كتاب الذكر و الدعاء
عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا: من قال: سبحان الله وبحمده في يوم مائة مرة خطت خطاياه وإن كانت مثل زبد البحر.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

[সহীহ বুখারি, হাদীস-৬৪০৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৬৯১; সুনান তিরমিযি, হাদীস-৩৪৬৮]

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সুবহানাল্লাহি ও বিহামদিহী এর অর্থ আর সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহ এর অর্থ একই। অর্থাৎ এমন সকল ব্যাপার থেকে আল্লাহ তা'আলার পবিত্রতা ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাঁর মাহাত্ম্য ও পবিত্রতার পরিপন্থী এবং যাতে সামান্যতম ত্রুটিবিচ্যুতি বা দোষণীয় কিছু থাকতে পারে। সাথে সাথে এতে সমস্ত কামালিয়াত বা পূর্ণতা, মাহাত্ম্য ও কৃতিত্ব তাঁর প্রতি আরোপ করা হয়েছে এবং তাঁর স্তবস্তুতি করা হয়েছে। এ হিসাবে এ সংক্ষিপ্ত কালিমা “সুবহানাল্লাহি ও বিহামদিহী" আল্লাহ তা'আলার প্রশংসায় কথিত সমস্ত ইতিবাচক ও নেতিবাচক উক্তির অর্থ নিজের মধ্যে ধারণ করে। এ সংক্ষিপ্ত দু'টি শব্দ সম্বলিত কালিমার শুভ প্রভাবের কথা বর্ণিত হয়েছে যে, যে বান্দা এ কালিমাটি দৈনিক ১০০ বার পাঠ করবে, তার সমস্ত পাপরাশি মোচন হবে এবং পাপের পঙ্কিলতা থেকে সে ব্যক্তি মুক্ত হয়ে যাবে, যদি তার গুনাহরাশি সমুদ্রের ফেনারাশির মত প্রচুর এবং অগণিতও হয়ে থাকে। প্রখর আলো যেভাবে তিমির রাশিকে বিনাশ করে বা প্রচণ্ড উত্তাপ যেভাবে আর্দ্রতাকে তিরোহিত করে দেয়, ঠিক তেমনি আল্লাহর যিকির ও অন্যান্য পুণ্যকর্ম গুনাহরাশির কুপ্রভাবকে তিরোহিত করে দেয়। কিন্তু কুরআন মজীদের কোন কোন আয়াত এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কোন কোন হাদীসের দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, নেকীর প্রভাব ও বরকতে কেবল সে সব গুনাহই মাফ হয়ে থাকে, যেগুলো 'কবীরা' পর্যায়ের নয়। এজন্যে বড় বড় মারাত্মক গুনাহ যেগুলোকে বিশেষ পরিভাষায় 'গুনাহে কবীরা' বলা হয়ে থাকে, সেগুলো থেকে নিষ্কৃতির জন্যে তাওবা-ইস্তেগফার অপরিহার্য। আল্লাহর সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)