আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং:
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) -এর চারিত্রিক সৌন্দর্য
৫। সিমাক (রাহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবন সামুরা (রাযিঃ)-কে বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাহচর্যে বসতেন ? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। (আমি তাঁর সাহচর্যে বসে দেখলাম) তিনি অধিকতর নীরব থাকতেন। সাহাবা (রাযিঃ) তাঁর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন; জাহিলী যুগের প্রসঙ্গ আলোচনা করতেন এবং পরিহাস করতেন। তাঁরা যখন হাসতেন, তখন তিনিও মুচকি হাসতেন।
أبواب الكتاب
فَأَمَّا حُسْنُ خُلُقِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
5 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْمَرْوَزِيُّ، نَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، نَا قَيْسٌ، نَا سِمَاكٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ، كَانَ طَوِيلَ الصَّمْتِ، وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَتَنَاشَدُونَ الشِّعْرَ عِنْدَهُ، وَيَذْكُرُونَ أَشْيَاءَ مِنْ أَمَرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَيَضْحَكُونَ، فَيَبْتَسِمُ مَعَهُمْ إِذَا ضَحِكُوا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. উপরোক্ত হাদীস প্রমাণ করে যে, বাচালতা ও বেশি কথা বলার তুলনায় স্বল্পভাষিতা ও কম কথা বলা অধিকতর ভালো অভ্যাস। নীরবতা ও মৌনতার মধ্যেই বস্তুত ইহকাল ও পরকালের মুক্তি ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এ কারণেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস-সমূহে এ বিষয়ের যথেষ্ট আলোচনা বিদ্যমান। যেমন ইরশাদ হচ্ছে, যে ব্যক্তি চুপ থাকে সে মুক্তি পায়। কোন সন্দেহ নেই যে, বাচালতা ও অনর্থক কথা বলা মানুষের জন্য নানা রকম বিপদের কারণ হয়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাদীসে এ ধরনের বদ অভ্যাসের অনেক নিন্দা করা হয়েছে।

২. মর্ম এই যে, হুযুর (ﷺ) শিক্ষা ও উপদেশদানের মত কোন প্রয়োজনেই কথা বলতেন। যদি কিছু বলার প্রয়োজন না হত, তাহলে তিনি চুপই থাকতেন। বুখারী ও মুসলিমে আছে, তিনি বলেছেন:
من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا أو ليصمت.
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের উপর বিশ্বাস ও ঈমান রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, (যার উপর প্রতিদান ও সওয়াবের আশা করা যায়।) অথবা সে যেন চুপ থাকে। এটা ছিল হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা এবং তিনি এর উপরই আমল করতেন। আল্লাহ আমাদেরকেও এর অনুসরণের তাওফীক দান করুন।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান