আখলাকুন্নবী (ﷺ)

কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ

হাদীস নং: ৭৬৯
কিতাবের পরিচ্ছেদ সমূহ
নবী (ﷺ) যে সব দিনে সফরে যাত্রা করতে ভালবাসতেন এবং সফর চলাকালীন সময়ে তাঁর আমলের বর্ণনা
৭৬৯। হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বৃহস্পতিবারকে ভালবাসতেন। আর এই দিনেই সফরের জন্য যাত্রা করা তাঁর নিকট পছন্দনীয় ছিলো।
أبواب الكتاب
ذِكْرُ مَحَبَّتِهِ لِلْيَوْمِ الَّذِي يُسَافَرُ فِيهِ وَفِعْلِهِ فِي سَفَرِهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
769 - حَدَّثَنَا جُبَيْرُ بْنُ هَارُونَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، نَا عَلِيُّ الطَّنَافِسِيُّ، نَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ إِلْيَاسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ يَوْمَ الْخَمِيسِ، وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يُسَافَرَ فِيهِ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আরবীতে বৃহস্পতিবারকে يَوْمُ الْخَمِيسِ বলা হয়। এর শাব্দিক অর্থ পঞ্চম দিন। বৃহস্পতিবারকে পঞ্চম দিন বলার কারণ শুক্র ও শনিবারকে যথাক্রমে বলা হয় ইয়াওমুল জুমু'আ ও ইয়াওমুস সাব্‌ত। তারপর রোববারকে সপ্তাহের প্রথম দিন ধরে এর নাম দেওয়া হয়েছে ইয়াওমুল আহাদ অর্থাৎ প্রথম দিন। সে হিসেবে পঞ্চম দিন হয় বৃহস্পতিবার।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবারে বের হওয়া পছন্দ করতেন সম্ভবত এ কারণে যে, এক রেওয়ায়েতে আছে, এ উম্মতের জন্য বৃহস্পতিবারের ভোর বেলায় বরকত রাখা হয়েছে। সম্ভবত সে বরকত লাভের উদ্দেশ্যেই তিনি এদিন ভোর বেলায় বের হতেন।

যদিও তিনি বৃহস্পতিবারে বের হওয়া পছন্দ করতেন এবং অধিকাংশ সফর তিনি বৃহস্পতিবারেই করতেন, কিন্তু তার মানে এ নয় যে, অন্য কোনওদিন বের হওয়া যাবে না। কেননা তিনি কোনও কোনও সফর অন্য দিনেও করেছেন। আলোচ্য হাদীছটির ভেতরেও সেদিকে ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা বলা হয়েছে, তিনি বৃহস্পতিবার ছাড়া কমই বের হতেন। বোঝা যাচ্ছে কখনও কখনও অন্যদিনও বের হতেন। কাজেই অন্যদিন বের হওয়াটাও নিঃসন্দেহে জায়েয। এমনকি তা মাকরূহও নয়। হাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু বৃহস্পতিবারে বের হওয়া পছন্দ করতেন, সে হিসেবে অন্য দিনের তুলনায় এদিন সফর করাটা অবশ্যই উত্তম।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. দিন হিসেবে সকল দিন সমান হলেও বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য একদিন অপেক্ষা অন্য দিন উত্তম হতে পারে।

খ. সফরের জন্য বৃহস্পতিবারকে বেছে নেওয়া উত্তম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)