আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

২- ইলমের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৯
- ইলমের অধ্যায়
৪৩. ইলমের অধ্যায়ঃ ইলমের ফযীলত।
আল্লাহ তাআলার বাণীঃ يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا العِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের ইলম দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন; তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। (৫৮ঃ ১১)। মহান আল্লাহর বাণীঃ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا হে আমার রব! আমার জ্ঞানের বৃদ্ধি সাধন কর। (২০ঃ ১১৪)
৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) ও ইবরাহীম ইবনুল মুনযির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূল (ﷺ) মজলিসে লোকদের সামনে কিছু আলোচনা করছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর কাছে একজন বেদু্ঈন এসে প্রশ্ন করলেন, কিয়ামত কবে হবে? রাসূল (ﷺ) তাঁর আলোচনায় রত রইলেন। এতে কেউ কেউ বললেন, লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা পছন্দ করেন নি। আর কেউ কেউ বললেন বরং তিনি শুনতেই পান নি।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলোচনা শেষ করে বললেনঃ কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বলল, এই যে আমি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ যখন আমানত নষ্ট করা হয় তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে। সে বলল, কিভাবে আমানত নষ্ট করা হয়? তিনি বললেনঃ যখন কোন কাজের দায়িত্ব অনুপযুক্ত লোকের প্রতি ন্যস্ত হয়, তখন তুমি কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।
كتاب العلم
كتاب العلم
بَابُ فَضْلِ العِلْمِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا العِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [المجادلة: 11] وَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا} [طه: 114]
باب مَنْ سُئِلَ عِلْمًا وَهُوَ مُشْتَغِلٌ فِي حَدِيثِهِ فَأَتَمَّ الْحَدِيثَ ثُمَّ أَجَابَ السَّائِلَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالَ حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، ح وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي هِلاَلُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسٍ يُحَدِّثُ الْقَوْمَ جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ مَتَى السَّاعَةُ فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ، فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ سَمِعَ مَا قَالَ، فَكَرِهَ مَا قَالَ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ بَلْ لَمْ يَسْمَعْ، حَتَّى إِذَا قَضَى حَدِيثَهُ قَالَ " أَيْنَ ـ أُرَاهُ ـ السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ ". قَالَ هَا أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ " فَإِذَا ضُيِّعَتِ الأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ". قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا قَالَ " إِذَا وُسِّدَ الأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ ".

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আমাদের উর্দু ভাষায় 'আমানত'-এর অর্থ খুবই সীমিত। কিন্তু কুরআন ও হাদীসের ভাষায় এর অর্থ ব্যাপক। শব্দটি নিজের মধ্যে মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে। প্রত্যেক মহান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বকে 'আমানত' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। আমানতের অর্থের প্রশস্ততা ও মর্যাদা বুঝার জন্যে সূরাঃ আল আহ্‌যাব - আয়াত নংঃ 72- اِنَّا عَرَضۡنَا الۡاَمَانَۃَ عَلَی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَالۡجِبَالِ .. الآية এর প্রতি দৃষ্টিদান করা যেতে পারে।

হযরত আবূ হুরাইরা (রা)-এর আলোচ্য হাদীসে আমানত ধ্বংস করার ব্যাখ্যা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন যে, দায়িত্বসমূহ এমন লোকদের প্রতি অর্পিত করা হবে যারা এর অযোগ্য। স্তর অনুযায়ী সর্ব প্রকার দায়িত্ব এর অন্তর্ভুক্ত।

রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয়পদ ও চাকুরী, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, এভাবে দীনী নেতৃত্ব ও ইমামত, ফাতওয়া, ফায়সালা, ওয়াক্‌ফের তত্ত্বাবধান ও এর ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি দায়িত্ব সমূহ। এরূপ যে কোন ছোট বড় দায়িত্ব যখন অযোগ্যদের প্রতি অর্পণ করা হয় তখন তা আমানতের ধ্বংস ও সামষ্টিক জীবনের জন্য ভীষণ অপরাধ। এটাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামত নিকটবর্তীতার লক্ষণ বলেছেন। আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী যদিও এক বেদুইনের জিজ্ঞাসার উত্তর ছিল, কিন্তু সর্বস্তরের উম্মতের জন্য এর বার্তা ও সবক হচ্ছে আমানত সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুভব কর। এর দাবি পূর্ণ কর, সর্বপ্রকার দায়িত্বসমূহ যোগ্য ব্যক্তির প্রতি সমর্পণ কর। এর বিপরীত করলে আমানত ধ্বংসের অপরাধী হবে। আল্লাহর সামনে এজন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)