রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ
৯. ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
হাদীস নং: ১০০০
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত: কুরআন পড়তে না পারা দুর্ভাগ্যজনক
১০০০. হযরত ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যার পেটের ভেতর কুরআনের কোনও অংশ নেই, সে বিরান ঘরের মতো। -তিরমিযী (জামে' তিরমিযী: ২৯১৩; মুসনাদে আহমাদ: ১৯৪৭; সুনানে দারিমী: ৩৩৪৯; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২০৩৭; বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান: ১৭৯৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ১১৮৫)
كتاب الفضائل
باب فضل قراءة القرآن
1000 - وعن ابن عباسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الَّذِي لَيْسَ في جَوْفِهِ شَيْءٌ مِنَ القُرْآنِ كَالبَيْتِ الخَرِبِ». رواه الترمذي، (1) وقال: «حديث حسن صحيح».
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
__________
(1) أخرجه: الترمذي (2913)، وفي سنده قابوس بن أبي ظبيان ضعيف.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটি মানুষের জীবন গঠনে কুরআন মাজীদের ভূমিকার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সে ভূমিকাও তুলে ধরা হয়েছে একটি সারগর্ভ দৃষ্টান্তের মাধ্যমে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কুরআনের কিছুই শেখেনি, সে যেন এক বিরান ঘর। যেন এক পরিত্যক্ত ঘর। হাদীছটির ভাষা হলো-
إِنَّ الَّذِي لَيْسَ فِي جَوْفِهِ شَيْءٌ مِنَ الْقُرْآنِ (যার পেটের ভেতর কুরআনের কোনও অংশ নেই)। পেটের ভেতর মানে অন্তরে। অর্থাৎ যার মেধায় ও মননে কুরআনের শিক্ষা নেই। এর দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝানো উদ্দেশ্য, যে কুরআন শেখেনি, কুরআনের কোনও অংশই মুখস্থ করেনি, কুরআন পাঠ করে না, কুরআনের উপদেশ শোনে না এবং কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলার চেষ্টা করে না।
كَالْبَيْتِ الْخَرِبِ (সে বিরান ঘরের মতো)। অর্থাৎ সে ওই ঘরের মতো, যে ঘরে কোনও লোক বাস করে না। ফলে সে ঘরে কোনও আসবাবপত্রও নেই এবং সে ঘরের কোনও যত্নও নেওয়া হয় না। সম্পূর্ণই পরিত্যক্ত একটি ঘর।
কুরআন না জানা ব্যক্তিকে বিরান ঘরের সঙ্গে তুলনা করাটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ঘরে যদি লোক বাস না করে, তবে সে ঘরের কোনও সার্থকতা থাকে না। এরকম ঘরে কোনও আসবাবপত্র রাখা হয় না। আসবাবপত্রহীন ঘরের কোনও সৌন্দর্য থাকে না। এমনকি তার কোনও পরিচর্যাও করা হয় না। এরূপ পরিত্যক্ত ঘর অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়। কুরআন না জানা লোকেরও একই অবস্থা। মানুষের দেহকাঠামো ঠিক বাসগৃহের মতো। কুরআন দ্বারা তার আবাদ হয়। কুরআন আল্লাহ তা'আলার দেওয়া নূর ও আলো। কুরআনের শিক্ষা দ্বারা দেহঘরে আলো জ্বলে। প্রথমে অন্তরে আসে ঈমানের আলো। তারপর যে যতটুক কুরআন শেখে, সে অনুপাতেই তার অন্তর আলোকিত হয়। আলোকিত অন্তর সৎকর্মের দিকে ধাবিত হয়। যার অন্তর কুরআনের আলোয় যত বেশি আলোকিত, সে তত বেশি সৎকর্ম করে। তার প্রত্যেকটি অঙ্গ সৎকর্মে ব্যবহৃত হয়। আসবাবপত্র যেমন বসতঘরের শোভা, তেমনি সৎকর্মও দেহঘরের শোভা।
কোনও ব্যক্তি যতই সুন্দর ও রূপবান হোক, তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যদি সৎকর্মের শোভা না থাকে, তবে সে নিতান্তই কুৎসিত। অপরদিকে যার বাহ্যিক রূপ-লাবণ্য নেই, তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যদি সৎকর্মে মশগুল থাকে, তবে সেই সত্যিকারের একজন সুন্দর মানুষ। তার ভেতরে আছে কুরআনের আলো, আর বাইরে আছে সৎকর্মের শোভা। কিংবা বলা যায়, তার অন্তর্জগৎ কুরআনের জ্ঞান দ্বারা প্রাণবন্ত আর বহির্দেশ কুরআনের অনুশাসন দ্বারা অলংকৃত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কুরআন মোটেই জানে না, তার অন্তর থাকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন। তাতে থাকে না সৎকর্মের সাড়া। ফলে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক ব্যবহার হয় না। তা অন্যায়-অসৎকর্মে জর্জরিত থাকে। এভাবে তার বহিরঙ্গও থাকে কদাকার।
ভেতর ও বাহির সবটাই কদাকার থাকবে, কোনও মুসলিম ব্যক্তির ক্ষেত্রে কি এটা ভাবা যায়? এটা কি সম্ভব যে, কোনও মুসলিম ব্যক্তি কুরআন একদম জানবে না? কুরআনের কোনও সূরা তার মুখস্থ থাকবে না? কুরআনের অনুশাসন সম্পর্কে তার কোনও জ্ঞান থাকবে না?
এমন কত লোক আছে, যার বিভিন্ন কবির বহু কবিতা মুখস্থ। অনেকে খেলাধুলা করা বা দেখার পেছনে রোজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করে। অহেতুক কথাবার্তা ও গল্পগুজবে কত সময়ই না নষ্ট করা হয়। সময় কাটানোর জন্য মানুষ কত বাহানা খুঁজে নেয়। অথচ কুরআন শেখার ফুরসত তাদের হয় না। সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন পড়া শিখতে কতই বা সময় লাগে? দু'-চারটা সূরা মুখস্থ করাও এমন কোনও কঠিন কাজ নয়। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ না সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে জানে, না উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুরা মুখস্থ বলতে পারে। এটা কতইনা আফসোসের কথা। অধিকাংশ লোক নিজ দেহঘরকে বিরান করে রেখেছে। সে বিরান ঘরে না আছে কুরআনের আলো, না আছে কুরআনের অনুশাসন পালনের তাগিদ। এ অবস্থার পরিবর্তন একান্ত কাম্য। আমাদের ইহজীবনকে অবশ্যই আবাদ করতে হবে। কুরআন পড়া, কুরআন মুখস্থ করা ও কুরআনের হিদায়াত অনুযায়ী চলার দ্বারাই তার যথার্থ আবাদ সম্ভব।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. প্রত্যেক মুমিনের কুরআন শেখা একান্ত কর্তব্য।
খ. যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব কুরআন মুখস্থ করা উচিত।
গ. কুরআন না শিখলে মানুষের জীবন খায়র ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকে।
إِنَّ الَّذِي لَيْسَ فِي جَوْفِهِ شَيْءٌ مِنَ الْقُرْآنِ (যার পেটের ভেতর কুরআনের কোনও অংশ নেই)। পেটের ভেতর মানে অন্তরে। অর্থাৎ যার মেধায় ও মননে কুরআনের শিক্ষা নেই। এর দ্বারা এমন ব্যক্তিকে বোঝানো উদ্দেশ্য, যে কুরআন শেখেনি, কুরআনের কোনও অংশই মুখস্থ করেনি, কুরআন পাঠ করে না, কুরআনের উপদেশ শোনে না এবং কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী চলার চেষ্টা করে না।
كَالْبَيْتِ الْخَرِبِ (সে বিরান ঘরের মতো)। অর্থাৎ সে ওই ঘরের মতো, যে ঘরে কোনও লোক বাস করে না। ফলে সে ঘরে কোনও আসবাবপত্রও নেই এবং সে ঘরের কোনও যত্নও নেওয়া হয় না। সম্পূর্ণই পরিত্যক্ত একটি ঘর।
কুরআন না জানা ব্যক্তিকে বিরান ঘরের সঙ্গে তুলনা করাটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ঘরে যদি লোক বাস না করে, তবে সে ঘরের কোনও সার্থকতা থাকে না। এরকম ঘরে কোনও আসবাবপত্র রাখা হয় না। আসবাবপত্রহীন ঘরের কোনও সৌন্দর্য থাকে না। এমনকি তার কোনও পরিচর্যাও করা হয় না। এরূপ পরিত্যক্ত ঘর অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়। কুরআন না জানা লোকেরও একই অবস্থা। মানুষের দেহকাঠামো ঠিক বাসগৃহের মতো। কুরআন দ্বারা তার আবাদ হয়। কুরআন আল্লাহ তা'আলার দেওয়া নূর ও আলো। কুরআনের শিক্ষা দ্বারা দেহঘরে আলো জ্বলে। প্রথমে অন্তরে আসে ঈমানের আলো। তারপর যে যতটুক কুরআন শেখে, সে অনুপাতেই তার অন্তর আলোকিত হয়। আলোকিত অন্তর সৎকর্মের দিকে ধাবিত হয়। যার অন্তর কুরআনের আলোয় যত বেশি আলোকিত, সে তত বেশি সৎকর্ম করে। তার প্রত্যেকটি অঙ্গ সৎকর্মে ব্যবহৃত হয়। আসবাবপত্র যেমন বসতঘরের শোভা, তেমনি সৎকর্মও দেহঘরের শোভা।
কোনও ব্যক্তি যতই সুন্দর ও রূপবান হোক, তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যদি সৎকর্মের শোভা না থাকে, তবে সে নিতান্তই কুৎসিত। অপরদিকে যার বাহ্যিক রূপ-লাবণ্য নেই, তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যদি সৎকর্মে মশগুল থাকে, তবে সেই সত্যিকারের একজন সুন্দর মানুষ। তার ভেতরে আছে কুরআনের আলো, আর বাইরে আছে সৎকর্মের শোভা। কিংবা বলা যায়, তার অন্তর্জগৎ কুরআনের জ্ঞান দ্বারা প্রাণবন্ত আর বহির্দেশ কুরআনের অনুশাসন দ্বারা অলংকৃত। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কুরআন মোটেই জানে না, তার অন্তর থাকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন। তাতে থাকে না সৎকর্মের সাড়া। ফলে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঠিক ব্যবহার হয় না। তা অন্যায়-অসৎকর্মে জর্জরিত থাকে। এভাবে তার বহিরঙ্গও থাকে কদাকার।
ভেতর ও বাহির সবটাই কদাকার থাকবে, কোনও মুসলিম ব্যক্তির ক্ষেত্রে কি এটা ভাবা যায়? এটা কি সম্ভব যে, কোনও মুসলিম ব্যক্তি কুরআন একদম জানবে না? কুরআনের কোনও সূরা তার মুখস্থ থাকবে না? কুরআনের অনুশাসন সম্পর্কে তার কোনও জ্ঞান থাকবে না?
এমন কত লোক আছে, যার বিভিন্ন কবির বহু কবিতা মুখস্থ। অনেকে খেলাধুলা করা বা দেখার পেছনে রোজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করে। অহেতুক কথাবার্তা ও গল্পগুজবে কত সময়ই না নষ্ট করা হয়। সময় কাটানোর জন্য মানুষ কত বাহানা খুঁজে নেয়। অথচ কুরআন শেখার ফুরসত তাদের হয় না। সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন পড়া শিখতে কতই বা সময় লাগে? দু'-চারটা সূরা মুখস্থ করাও এমন কোনও কঠিন কাজ নয়। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ না সহীহ-শুদ্ধভাবে কুরআন পড়তে জানে, না উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুরা মুখস্থ বলতে পারে। এটা কতইনা আফসোসের কথা। অধিকাংশ লোক নিজ দেহঘরকে বিরান করে রেখেছে। সে বিরান ঘরে না আছে কুরআনের আলো, না আছে কুরআনের অনুশাসন পালনের তাগিদ। এ অবস্থার পরিবর্তন একান্ত কাম্য। আমাদের ইহজীবনকে অবশ্যই আবাদ করতে হবে। কুরআন পড়া, কুরআন মুখস্থ করা ও কুরআনের হিদায়াত অনুযায়ী চলার দ্বারাই তার যথার্থ আবাদ সম্ভব।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. প্রত্যেক মুমিনের কুরআন শেখা একান্ত কর্তব্য।
খ. যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব কুরআন মুখস্থ করা উচিত।
গ. কুরআন না শিখলে মানুষের জীবন খায়র ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)