আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৬৬- দুআ - যিকরের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৯৫৯
আন্তর্জাতিক নং: ৬৪০১
- দুআ - যিকরের অধ্যায়
৩৪০৫. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ ইয়াহুদীদের ব্যাপারে আমাদের বদদুআ কবুল হবে। কিন্তু আমাদের প্রতি তাদের বদদুআ কবুল হবে না।
৫৯৫৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, একবার একদল ইয়াহুদী নবী (ﷺ) এর নিকট এসে সালাম দিতে গিয়ে বললঃ আসসামু আলাইকা (আপনার মৃত্যু হোক)। তিনি বললেনঃ ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরও)। কিন্তু আয়েশা (রাযিঃ) বললেনঃ ″আসসামু আলাইকুম ওয়া লাআনাকুমুল্লাহু ওয়া গাযিবা আলাইকুম″ (তোমাদের মৃত্যু হোক, আল্লাহ তোমাদের উপর লা'নত করুন আর তোমাদের উপর গযব নাযিল করুন)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আয়েশা, তুমি থামো! তুমি নম্র ব্যবহার করো, আর তুমি কঠোরতা পরিহার করো। আয়েশা (রাযিঃ) বললেনঃ তারা কী বলেছে আপনি কি শুনেননি? তিনি বললেনঃ আমি যা বললাম, তা কি তুমি শুননি? আমি তো তাদের কথা তাদের উপরই ফিরিয়ে দিলাম। সুতরাং তাদের উপর আমার বদদুআ কবুল হয়ে যাবে। কিন্তু আমার সম্বন্ধে তাদের বদদুআ কবুল হবে না।
كتاب الدعوات
باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: ‘يُسْتَجَابُ لَنَا فِي الْيَهُودِ، وَلاَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ فِينَا
6401 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ اليَهُودَ أَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: السَّامُ عَلَيْكَ، قَالَ: «وَعَلَيْكُمْ» فَقَالَتْ عَائِشَةُ: السَّامُ عَلَيْكُمْ، وَلَعَنَكُمُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْكُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَهْلًا يَا عَائِشَةُ، عَلَيْكِ بِالرِّفْقِ، وَإِيَّاكِ وَالعُنْفَ، أَوِ الفُحْشَ» قَالَتْ: أَوَلَمْ تَسْمَعْ مَا قَالُوا؟ قَالَ: «أَوَلَمْ تَسْمَعِي مَا قُلْتُ، رَدَدْتُ عَلَيْهِمْ، فَيُسْتَجَابُ لِي فِيهِمْ، وَلاَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ فِيَّ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এসব ইয়াহূদী নবী করীম ﷺ-এর সাথে খুব অভদ্র ও নিন্দনীয় আচরণ করেছিল। তারা নবী করীম ﷺ-কে বলেছিল, তোমার মৃত্যু হোক। উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) তা বরদাশত করতে পারেননি এবং মন্দ বাক্যের জবাব মন্দ বাক্যের দ্বারা দিয়েছিলেন। নবী করীম ﷺ ইয়াহুদীদের অভদ্র আচরণে হয়ত অন্তরে ব্যথা পেয়েছিলেন এবং এরূপ ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি ব্যথিত অবস্থায়ও মন্দকে মন্দের দ্বারা প্রতিরোধ করতে পসন্দ করেননি। কারণ নবী করীম ﷺ-এর অভ্যাস হল ক্রোধকে দমন করা, মানুষের প্রতি সদয় থাকা এবং তাঁর শিক্ষা হল উত্তম তরীকার দ্বারা মন্দকে দূর করা। ওয়াযের চেয়ে আমল মানুষের কাছে আকর্ষণীয় এবং গ্রহণযোগ্য। তাই আমাদের উচিত, নবী করীম ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করা এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁর বাস্তব নমুনা পেশ করা, যাতে আল্লাহর বান্দাগণ সহজে বুঝতে পারে যে, মুসলমানগণ আখেরী নবীর আদর্শের বাস্তব অনুসারী।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)