মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৫. কুরআন সুন্নাহ্‌কে আকড়ে ধরা

হাদীস নং: ১০
আন্তর্জাতিক নং: ১৭১৯৪
কুরআন সুন্নাহ্‌কে আকড়ে ধরা
(২) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নত সুদৃঢ়রূপে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর রীতিনীতির অনুকরণ করা প্রসঙ্গে
(১০) হাসান ইবন জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি মিকদাম ইবন্ মা'দিকারিব (রা)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবার যুদ্ধের সময়ে অনেক জিনিস হারাম বলে ঘোষণা করেন। এরপর বলেন, অচিরেই এমন হতে পারে যে, তোমাদের কেউ হয়ত তার আসনে আয়েশ করে বসে আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে। তাকে আমার হাদীস শোনানো হবে কিন্তু সে বলবে, আমাদের ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর গ্রন্থ কুরআন রয়েছে। কুরআনে আমরা যা হালাল হিসাবে দেখতে পাব, তাকে হালাল বলে মানব এবং কুরআনে যা হারাম হিসাবে দেখতে পাব তাকে হারাম হিসাবে গ্রহণ করব। তোমরা মনোযোগ সহকারে জেনে রাখ! আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই মত।
كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة
(2) باب في الاعتصام بسنته صلى الله عليه وآله وسلم والاهتداء بهديه
(10) عن الحسن بن جابر قال سمعت المقدام بن معد يكرب (رضي الله عنه) يقول حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم خيبر أشياء ثم قال يوشك (1) أحدكم أن يكذبني وهو متكيء وعلى أريكته (2) يحدث بحديثي فيقول بيننا وبينكم كتاب الله فما وجدنا فيه من حلال استحللناه وما وجدنا فيه من حرام حرمناه؛ ألا وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما حرم الله.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(تخريجه) (جه) وفي الباب من حديث أبي رافع عند (ك) و (مذ) وحسنه.

(ইবন্ মাজাহ । এই অর্থে অন্য সাহাবী আবূ রাফি বর্ণিত হাদীস হাকিম ও তিরমিযী সংলকন করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলে মন্তব্য করেছেন।)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখানে এ কথা বুঝা চাই যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যে ওহী আসত তার দু'টি পদ্ধতি ছিল। ১. নির্দিষ্ট শব্দাবলি ও রচনার আকৃতিতে। এটাকে 'ওহী মাতলু' বলা হয়। (অর্থাৎ সেই ওহী যা তিলাওয়াত করা হয়) এটা কুরআন মজীদের অবস্থা। ২. সেই ওহী যা তাঁর প্রতি বিষয়-বস্তু সম্বন্ধে ইলকা ও ইল্হাম হত। তিনি সেগুলো তাঁর ভাষায় বলতেন, কিংবা কাজের মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন। এটাকে 'ওহী গায়রে মাতলু' বলে। (অর্থাৎ যে ওহী তিলাওয়াত করা হয় না) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাধারণ দীনী দিকনির্দেশ ও বাণীসমূহের গুরুত্ব এটাই। বস্তুত এর ভিত্তি তো আল্লাহর ওহীর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এটা কুরআনের ন্যায়ই অপরিহার্য অনুসরণীয়।

আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এ বিষয় প্রতিভাত করে ছিলেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে এরূপ লোক জন্ম লাভ করবে, যারা এ কথা বলে লোকজনকে গোমরাহ ও ইসলামী শরী'আতকে অকেজো করবে যে, দীনের আহকাম কেবল তাই যা কুরআনে রয়েছে। আর যা কুরআনে নেই তা দীনী হুকুমই নয়। আলোচ্য হাদীসে রাসূল্লাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে এ ফিতনা থেকে সাবধান করেছেন। বলেছেন, হিদায়াতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে। এতদসাথে এ ছাড়াও ওহী গায়রে মাতলুর মাধ্যমে আহকাম দেওয়া হয়েছে। আর তা কুরআনের ন্যায়ই অপরিহার্য অনুসরণীয়।

প্রকৃত কথা হচ্ছে, যে সব লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসসমূহকে দীনের দলীল হতে অস্বীকার করে, তারা ইসলামী শরী'আতের পূর্ণ শিকল থেকে স্বাধীন হতে চায়। কুরআন মজীদের ব্যাপার হচ্ছে, তাতে মৌলিক শিক্ষা ও আহ্কাম রয়েছে। এর জন্য সেই প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা যেগুলো ছাড়া এ আহকামের ওপর আমলই করা যেতে পারে না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কার্য কিংবা বাণী সম্পর্কিত হাদীসসমূহ থেকেই জানা যায়। যেমন কুরআন মজীদে নামাযের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নামায কিভাবে আদায় করা হবে? কোন্ কোন্ সময়ে আদায় করা হবে? এবং কোন্ ওয়াক্তে কত রাকাআত নামায আদায় করা হবে? এটা কুরআনের কোথাও নেই। হাদীসসমূহ থেকেই এসব বিস্তারিত জানা যায়।

এভাবে কুরআন মজীদে যাকাতের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু এটা বলা হয়নি কোন্ হিসাবে যাকাত বের করা হবে। সারা জীবনে একবার দেওয়া হবে অথবা প্রতি বছর, কিংবা প্রতি মাসে দেওয়া হবে? এভাবে কুরআনের অধিকাংশ আহকামের অবস্থা এরূপই। বস্তুত দলীল হওয়ার ব্যাপারে হাদীস অস্বীকারের পরিণতি হচ্ছে গোটা দীনী শৃঙ্খলাকে অস্বীকার করা। এজন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে উম্মতকে বিশেষভাবে সাবধান করেছেন। এ হিসাবে আলোচ্য হাদীস হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মু'জিযা বিশেষ। উম্মতের মধ্যে সেই ফিতনা সৃষ্টি হবে বলে (হাদীস অস্বীকার)-এর সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর যুগে এবং সাহাবা ও তাবিঈনের যুগে বরং তাবে তাবিঈনের যুগসমূহেও কল্পনা করা যেত না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১০ | মুসলিম বাংলা