মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৫. কুরআন সুন্নাহ্‌কে আকড়ে ধরা

হাদীস নং: ১১
আন্তর্জাতিক নং: ১৭১৭৪
কুরআন সুন্নাহ্‌কে আকড়ে ধরা
(২) পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুন্নত সুদৃঢ়রূপে আঁকড়ে ধরা এবং তাঁর রীতিনীতির অনুকরণ করা প্রসঙ্গে
(১১) মিকদাদ ইবন মা'দিকারিব (রা) থেকে আরও বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা মনোযোগ সহকারে জেনে রাখ! নিশ্চয় আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে অনুরূপ বিধান (হাদীস) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন হতে পারে যে, কোনো মানুষ ভরপেটে পরিতৃপ্ত হয়ে তার আসনে আয়েশ করে বসে বলবে, তোমরা কুরআন অবলম্বন করে চলবে। তাতে (কুরআনে) যা হালাল বলা হয়েছে তাকে হালাল বলে মানবে এবং যা হারাম বলা হয়েছে তাকে হারাম বলে মানবে। তোমরা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার গোশত হালাল নয়। অনুরূপভাবে দাঁত দিয়ে শিকারকারী (মাংশাসী) হিংস কোনো জীবজন্তু তোমাদের জন্য হালাল নয় । সাবধান, কোনো অমুসলিম নাগরিকের ফেলে যাওয়া বা পড়ে পাওয়া দ্রব্য তোমাদের জন্য হালাল নয়, তবে যদি সেই দ্রব্যের মালিক তা ইচ্ছাকৃতভাবে অপ্রয়োজনীয় হিসাবে ফেলে দেয় (তাহলে তা গ্রহণ করা হালাল হবে)। যদি কোনো পথচারী কাফেলা কোনো জনপদে অবতরণ করে তাহলে তাদের (পথচারীদের) আতিথেয়তা করা এলাকাবাসীদের জন্য বাধ্যতামূলক। যদি তারা তাদের মেহমানদারী না করে তাহলে তাদের জন্য জোরপূর্বক তাদের থেকে মেহমানদারীর পরিমাণ খাদ্য আদায় করে নেয়া বৈধ।
كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة
(2) باب في الاعتصام بسنته صلى الله عليه وآله وسلم والاهتداء بهديه
(11) وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه (3) ألا يوشك رجل ينثني شبعان على أريكته يقول عليكم بالقرآن

فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرموه، ألا لا يحل لكم لحم الحمار الأهلي ولا كل ذي ناب من السباع، ألا ولا لقظة من مال معاهد إلا أن يستغني صاحبها (1)، ومن نزل بقوم فعليهم (2) أن يقروه فإن لم يقروهم فعليهم أن يعقبوهم بمثل قراهم.

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

(تخريجه) (د جه) والدارمي وقال في التنقيح رواه الترمذي وقال حسن غريب وسكت عليه أبو داود وهو لا يسكت إلا على صالح للاحتجاج به ورواه أحمد بإسناد جيد وقال في النيل (يعني نيل الأوطار) هو حديث صحيح اهـ.

(আবূ দাউদ, ইবন্ মাজাহ ও দারিমী । আল্লামা শাওকানী হাদীসটিকে সহীহ্ বলে উল্লেখ করেছেন।).......

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এখানে এ কথা বুঝা চাই যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যে ওহী আসত তার দু'টি পদ্ধতি ছিল। ১. নির্দিষ্ট শব্দাবলি ও রচনার আকৃতিতে। এটাকে 'ওহী মাতলু' বলা হয়। (অর্থাৎ সেই ওহী যা তিলাওয়াত করা হয়) এটা কুরআন মজীদের অবস্থা। ২. সেই ওহী যা তাঁর প্রতি বিষয়-বস্তু সম্বন্ধে ইলকা ও ইল্হাম হত। তিনি সেগুলো তাঁর ভাষায় বলতেন, কিংবা কাজের মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন। এটাকে 'ওহী গায়রে মাতলু' বলে। (অর্থাৎ যে ওহী তিলাওয়াত করা হয় না) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাধারণ দীনী দিকনির্দেশ ও বাণীসমূহের গুরুত্ব এটাই। বস্তুত এর ভিত্তি তো আল্লাহর ওহীর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এটা কুরআনের ন্যায়ই অপরিহার্য অনুসরণীয়।

আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর এ বিষয় প্রতিভাত করে ছিলেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্যে এরূপ লোক জন্ম লাভ করবে, যারা এ কথা বলে লোকজনকে গোমরাহ ও ইসলামী শরী'আতকে অকেজো করবে যে, দীনের আহকাম কেবল তাই যা কুরআনে রয়েছে। আর যা কুরআনে নেই তা দীনী হুকুমই নয়। আলোচ্য হাদীসে রাসূল্লাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে এ ফিতনা থেকে সাবধান করেছেন। বলেছেন, হিদায়াতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে। এতদসাথে এ ছাড়াও ওহী গায়রে মাতলুর মাধ্যমে আহকাম দেওয়া হয়েছে। আর তা কুরআনের ন্যায়ই অপরিহার্য অনুসরণীয়।

প্রকৃত কথা হচ্ছে, যে সব লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীসসমূহকে দীনের দলীল হতে অস্বীকার করে, তারা ইসলামী শরী'আতের পূর্ণ শিকল থেকে স্বাধীন হতে চায়। কুরআন মজীদের ব্যাপার হচ্ছে, তাতে মৌলিক শিক্ষা ও আহ্কাম রয়েছে। এর জন্য সেই প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা যেগুলো ছাড়া এ আহকামের ওপর আমলই করা যেতে পারে না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কার্য কিংবা বাণী সম্পর্কিত হাদীসসমূহ থেকেই জানা যায়। যেমন কুরআন মজীদে নামাযের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নামায কিভাবে আদায় করা হবে? কোন্ কোন্ সময়ে আদায় করা হবে? এবং কোন্ ওয়াক্তে কত রাকাআত নামায আদায় করা হবে? এটা কুরআনের কোথাও নেই। হাদীসসমূহ থেকেই এসব বিস্তারিত জানা যায়।

এভাবে কুরআন মজীদে যাকাতের নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু এটা বলা হয়নি কোন্ হিসাবে যাকাত বের করা হবে। সারা জীবনে একবার দেওয়া হবে অথবা প্রতি বছর, কিংবা প্রতি মাসে দেওয়া হবে? এভাবে কুরআনের অধিকাংশ আহকামের অবস্থা এরূপই। বস্তুত দলীল হওয়ার ব্যাপারে হাদীস অস্বীকারের পরিণতি হচ্ছে গোটা দীনী শৃঙ্খলাকে অস্বীকার করা। এজন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে উম্মতকে বিশেষভাবে সাবধান করেছেন। এ হিসাবে আলোচ্য হাদীস হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মু'জিযা বিশেষ। উম্মতের মধ্যে সেই ফিতনা সৃষ্টি হবে বলে (হাদীস অস্বীকার)-এর সংবাদ দিয়েছেন, যা তাঁর যুগে এবং সাহাবা ও তাবিঈনের যুগে বরং তাবে তাবিঈনের যুগসমূহেও কল্পনা করা যেত না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১১ | মুসলিম বাংলা