মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

২. ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা

হাদীস নং: ১৫
আন্তর্জাতিক নং: ২৭১৫৩
ঈমান ও ইসলামের বর্ণনা
পঞ্চম অনুচ্ছেদঃ ইবনুল মুন্তাফিক-এর প্রতিনিধিত্ব
(১৫) মুগীরা বিন আব্দিল্লাহ আল-ইয়াশকুরী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একদা আমি খচ্চর ক্রয় করার উদ্দেশ্যে কুফা গমন করি। বাজারে গিয়ে দেখলাম বাজার বসেনি।তখন আমি আমার একমাত্র সঙ্গীকে বললাম, চল, আমরা মসজিদে প্রবেশ করি, ঐ সময় মসজিদটি ছিল খেজুরের আড়ৎদারদের এলাকায় অবস্থিত। মসজিদে গিয়ে দেখলাম কায়েস গোত্রের এক লোক তাঁর নাম ইবনুল মুন্তাফিক বললেন, আমাকে জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গুণ-বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন।আমি (সেই সূত্র ধরে) তাঁকে মিনায় তালাশ করলাম।আমাকে বলা হলো যে, তিনি আরাফাতে আছেন।আমি সেখানে দ্রুত পৌঁছে গেলাম এবং তাঁকে ভিড়ের মধ্যে পেয়ে গেলাম।(আমি ভিড় ঠেলে তাঁর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলাম) তখন আমাকে বলা হলো, রাসূল (ﷺ)-এর রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াও (কিন্তু রাসূল (ﷺ) আমার অবস্থা দেখতে পেয়ে) বললেন, একে আসতে দাও, বেচারা (ধ্বংস করেছে নিজকে) সে কী চায়? তখন আমি ভিড় ঠেলে এগিয়ে গেলাম এবং তাঁর কাছে পৌঁছে গেলাম এবং আমি রাসূল (ﷺ)-এর বাহনের লাগাম ধরলাম, অথবা বললেন তার উষ্ট্রের লাগাম ধরলাম।
এভাবেই মুহাম্মাদ বিন জুহাদা (হাদীসটি)বর্ণনা করেনঃ আমি বললাম, দু’টি বিষয়ে আমি আপনার নিকট প্রশ্ন করবো (এক) দোযখ থেকে কিসে আমার মুক্তি? এবং (দুই) আমি জান্নাতে প্রবেশ করবো কী করে? বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূল (ﷺ) আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, এরপর মাথা নোয়ান এবং আমার দিকে তাঁর মুখমণ্ডল ফিরিয়ে বলেন, তোমার জ্ঞাতব্য প্রশ্নটি সংহ্মিপ্ত বটে কিন্তু এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য বিরাট ও বিস্তৃত।সুতরাং শোন (এবং বুঝতে চেষ্টা কর) তা হলঃ আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে কোন কিছু শরীক করবেনা।ফরয সালাত কায়েম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে, রমযানের সিয়াম পালন করবে এবং মানুষের কাছ থেকে তুমি যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশা কর, তাদের সাথে সেই ধরনের আচরণ করবে; আর মানুষের কাছে থেকে তুমি যে ধরনের আচরণ ও ব্যবহার অবাঞ্ছিত মনে কর, সে ধরনের আচরণ তুমি অন্যের সাথে পরিহার করবে।এরপর বললেন, এবার উটের রাস্তা ছেড়ে দাও।
(একই বর্ণনাকারী থেকে অন্য সূত্রে অনুরূপ বক্তব্যই এসেছে) তবে তাতে আরও বলা হয়েছে, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে এমন এক আমলের কথা বাতলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং অগ্নি থেকে মুক্তি দেবে।রাসূল (ﷺ) বললেন, বাহ বাহ, চমৎকার! যদিও তুমি তোমার ভাষণ সংহ্মিপ্ত করেছ, কিন্তু তোমার জ্ঞাতব্য প্রশ্ন চূড়ান্ত করেছ।“আল্লাহকে ভয় করবে; আল্লাহর সাথে শরীক করবে না; সালাত কায়েম করবে; যাকাত প্রদান করবে; বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে; রমযানে সিয়াম পালন করবে।” (এবার) বাহনের রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়াও।”
كتاب الإيمان والإسلام
الفصل الخامس في وفادة ابن المنتفق من قيس رضى الله عنه
(15) عن المغيرة بن عبد الله الشكرى عن أبيه قال انطلقت الى الكوفة لأجلب بغالا قال فاتيت السوق ولم تقم قال قلت لصاحب لي لو دخلنا المسجد وموضعه يومئذ في أصحاب التمر فاذا فيه رجل من قيس يقال له ابن المنتفق وهو يقول وصف لي رسول الله صلى الله عليه وسلم رجل فطلبته بمنى فقيل لي هو بعرفات فانتهيت اليه فزاحت عليه فقيل لي إليك
عن طريق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال دعوا الرجل أرب (1) ماله قال فزاحمت عليه حتى خلصت (2) اليه قال فأخذت بخطام راحلة رسول الله صلى الله عليه وسلم أو قال زمامها هكذا حدث محمد بن جحادة قال قلت ثنتان أسألك عنهما ما ينجيني من النار وما يدخلني الجنة قال فنظر رسول الله صلى الله عليه وسلم الى السماء ثم نكس رأسه ثم أقبل على بوجهه لئن كنت أوجزت في المسألة لقد أعظمت وأطولت فاعقل عني اذا اعبد الله لا تشرك به شيئا وأقم الصلاة المكتوبة وأد الزكاة المفروضة وصم رمضان وما تحب أن يفعله بك الناس فافعل بهم وما تكره أن يأتي اليك الناس فذر الناس منه ثم قال خل سبيل الراحلة
(وعنه من طريق آخر بنحوه (3) وفيه قال قلت يا رسول الله دلني على عمل يدخلني الجنة وينجيني من النار قال بخ بخ (4) لئن كنت
قصرت في الخطبة لقد أبلغت في المسألة اتق الله لا تشرك بالله وتقيم الصلاة وتؤدي الزكاة وتحج البيت وتصوم رمضان خل عن طريق الركاب
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১৫ | মুসলিম বাংলা