মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৪. ইলমের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৮৬৪
ইলমের অধ্যায়
(১১) পরিচ্ছেদঃ ইহুদী-নাসারাদের কথাবার্তা বর্ণনা করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে
(৬৩) শা'বী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন্ সাবিত (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কুরাইযা গোত্রের এক ইহুদী ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমার জন্য তাওরাত থেকে কিছু মূলনীতি লিখে দিয়েছেন। আমি কি তা আপনাকে পড়ে শোনাব? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা মোবারক (ক্রোধ ও বিরক্তির অভিব্যক্তিতে) পরিবর্তিত হয়ে যায়। আব্দুল্লাহ বলেন, তখন আমি তাঁকে (উমরকে) বললামঃ আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা মোবারকের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন না? তখন উমর (রা) বলেন, আমরা আল্লাহকে প্রভু হিসাবে, ইসলামকে দীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে রাসূল হিসাবে গ্রহণ করে পরিতৃপ্ত ও আনন্দিত। তিনি (আব্দুল্লাহ) বলেন, এ কথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরক্তি ও ক্রোধ দূরীভূত হয়। অতঃপর তিনি বলেন, যাঁর হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ, যদি মুসা (আ) তোমাদের মধ্যে জীবিত থাকতেন আর তোমরা আমাকে ছেড়ে তাঁর অনুসরণ করতে তাহলে তোমরা বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট হতে। জাতিগণের মধ্য থেকে তোমরা আমার ভাগে পড়েছ, আর নবীগণের মধ্য থেকে আমি তোমাদের ভাগে।
كتاب العلم
(11) باب فى النهى عن التحديث عن اهل الكتاب والرخصة فى ذلك
(63) عن الشعبي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ جَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي مَرَرْتُ بِأَخٍ لِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ فَكَتَبَ لِي جَوَامِعَ مِنْ التَّوْرَاةِ أَلَا أَعْرِضُهَا عَلَيْكَ قَالَ فَتَغَيَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَقُلْتُ لَهُ أَلَا تَرَى مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ عُمَرُ رَضِينَا
-[الرخصة وفي الحديث]-
بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَسُولًا قَالَ فَسُرِّيَ (1) عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَصْبَحَ فِيكُمْ مُوسَى ثُمَّ اتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ إِنَّكُمْ حَظِّي مِنْ الْأُمَمِ وَأَنَا حَظُّكُمْ مِنْ النَّبِيِّينَ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

{تخريجه} الحديث اورده صاحب المشكاه فى كتابه وعزاه للدارمى وقال صاحب التنقيح رواه ايضا ابن حبان باسناد صحيح واحمد باسناد حسن والمعنى ان دين موسى صار منسوخا بدين الاسلام فكيف تتبعون كتابه المنسوخ وتتركون الاخذ منى اهـ

[দারিমী ও ইবন্ হিব্বান। হাদীসটির সনদ সহীহ্।......

হাদীসের ব্যাখ্যা:

نُسْخَةٌ مِّنَ التَّوْرَاةِ এর অর্থ তাওয়াতের আরবী তরজমার কোন অংশ ও কতক পৃষ্ঠা। হযরত আবু বকর (রা) হযরত উমর (রা) কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি ও চেহারা মুবারকের ওপর এর প্রভাবের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে এই বাক্য বলেছেন تكلتك التواكل এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে 'ক্রন্দন কারীনীগণ তোমার প্রতি ক্রন্দন করুক'। যখন অসন্তুষ্টি প্রকাশের স্থলে এ বাক্য বলা হয় তখন এর অর্থ কেবলই অসন্তষ্টি প্রকাশ বুঝায়। শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য হয় না। প্রত্যেক ভাষায়ই এরূপ পরিভাষা রয়েছে। আমাদের উর্দু ভাষায় মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে শাসিয়ে مؤا বলেন, (যার শাব্দিক অর্থ মরে যাওয়া) উদ্দেশ্য কেবল অসন্তুষ্টি ও রাগ প্রকাশ করা।

হযরত উমর (রা)-এর এ কাজে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসন্তুষ্টি ও বিরক্তির বিশেষ কারণ এই ছিল যে, এতে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে, خاتم الكتب কুরআন মজীদ এবং خاتم الانبياء হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশাবলির পরও তাওরাত বা কোন প্রাচীন পুস্তিকা থেকে আলো ও পথ প্রদশর্ন অর্জনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অথচ কুরআন ও রাসূলুল্লাহ (সা) এর শিক্ষা আল্লাহর পরিচয় ও হিদায়াতের ব্যাপারে অন্য সব জিনিস থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ ও পূর্ববর্তী নবীগণের সহীফাসমূহে যে এরূপ বিষয়-বস্তু ও আহকাম ছিল যা মানুষের সর্বদা প্রয়োজন পড়বে, তা সব কুরআন মজীদে সংরক্ষিত করে দেওয়া হয়েছে, مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ - যা কুরআন মজীদের বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য।
বস্তুত তাওরাত ও অন্যান্য পূর্ববর্তী সহীফাসমূহের যুগ শেষ হয়েছিল। কুরআন নাযিল ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণের পর নাজাত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন তাঁরই আনুগত্যের ওপর সীমাবদ্ধ। এ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য তিনি শপথ করে বললেন, যদি ধরে নেওয়া হয়, তাওরাতের অধিকারী মূসা (আ) জীবিত হয়ে এ জগতে তোমাদের সামনে এসেছেন, আর আমাকে ও আমার আনীত হিদায়াত ও তালিম ছেড়ে তোমরা তাঁর অনুসরণ কর তবে তোমরা পথ প্রাপ্ত হবে না। বরং গোমরাহ্ ও সত্য পথ হতে দূর হয়ে যাবে। এ মূল তথ্যের ওপর আরো অধিক আলোকপাত করে তিনি বলেন, যদি আজ হযরত মুসা (আ) জীবিত থাকতেন, আর আমার নবুওত ও রিসালাতের এ যুগ পেতেন তবে স্বয়ং তিনিও এই এলাহী হিদায়াত এবং এই শরী'আতের আনুগত্য করতেন যা আমার মাধ্যমে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট থেকে এসেছে। এভাবে আমার অনুকরণ ও অনুসরণ করতেন। হযরত উমর (রা) যেহেতু তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সাহাবীগণের মধ্যে ছিলেন এজন্য তাঁর এই সামান্য স্খলনও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম-এর জন্য অসন্তুষ্টির কারণ হয়েছিল।
جن کے رتبے میں سوا ان کو سوا مشکل ھے
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান