মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৬. পবিত্রতা অর্জন

হাদীস নং: ১৪৬
পবিত্রতা অর্জন
(৮) পরিচ্ছেদ: পানি দ্বারা ইসতিনজা করার বিধান এবং ডান হাত দ্বারা শুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করা ও ইসতিনজা করা নিষেধ
(১৪৬) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে আরও বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে নির্জনস্থানে গমন করলে পানি চেয়ে নিতেন। অতঃপর তিনি সেই পানি দিয়ে ইসতিনজা করতেন। এরপর তিনি মাটিতে হাত ডলে পরিষ্কার করতেন। তারপর ওযু করতেন।
[আবু দাউদ, ইবন্ মাজাহ। ইমাম নববী হাদীসটির সনদ হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।]
كتاب الطهارة
(8) باب في الاستنجاء بالماءو النهي عن مس الذكر باليمين والاستنجاء بها
(146) وعنه أيضا قال كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء دعا بماء فاستنجي
ثم مسح بيده على الأرض ثم توضأ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উল্লিখিত হাদীস দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ পেশাব-পায়খানা থেকে পাথর কিংবা অন্য কোন বস্তু দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের পর আবার পানি দ্বারা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন করতেন। তারপর হাত মাটিতে ঘষে ধুয়ে নিতেন। এরপর আবার উযূও করে নিতেন। বর্ণনাকারী হযরত আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী কারীম ﷺ -এর ইস্তিঞ্জা ও উযূর পানি সরবরাহ করার সৌভাগ্য আমারই হতো। তবে বুখারী ও মুসলিমের এক বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, এ খিদমত আঞ্জাম দেওয়ার বিশেষ দায়িত্ব আনাস (রা)-এর উপরও অর্পিত ছিল।

আলোচ্য হাদীস থেকে এও জানা যায় যে, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দানের পর নবী কারীম ﷺ উযূ করে নিতেন। তবে এ উযূ যে ফরয ও ওয়াজিব ছিল তা না বরং উত্তম কাজের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা বুঝাবার জন্য তিনি কখনো কখনো এ ধরনের উযূ বর্জনও করতেন। সুনানে আবূ দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ্ গ্রন্থে আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ পেশাবের কাজ সেরে নেন এবং উমার (রা) উযূর পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। তিনি পানি গ্রহণ না করে বরং বললেন: হে উমার! কেন তুমি পানি নিয়ে দাঁড়িয়ে? উমার (রা) বললেন: আপনার উযূর পানি নিয়ে আমি প্রতীক্ষা করছি। তিনি বললেন: পেশাব করলেই উযূ করতে হবে, এরূপ আমি আদিষ্ট নই। কারণ আমি যদি এ কাজ অব্যাহত রাখি, তবে তা উম্মাতের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে।

এ হাদীস থেকে এও বুঝা যাচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মাস'আলার সঠিক স্বরূপ নিজ কাজের মাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য এবং স্বীয় উম্মাতের ভুল ধারণা অপনোদনের জন্য কখনো কখনো উত্তম বিষয়টি পরিহার করে চলেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান