মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৬. পবিত্রতা অর্জন

হাদীস নং: ১৭১
পবিত্রতা অর্জন
(৩) পরিচ্ছেদঃ ওযুর সময় দাঁত পরিষ্কার করা প্রসঙ্গে
(১৭১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হবে বলে ভয় না পেতাম তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক ওযুর সময় দাঁত পরিষ্কার করার নির্দেশ প্রদান করতাম। (অন্য বর্ণনায় আছে আমি তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের জন্য ওযু করতে এবং প্রত্যেক ওযুর সাথে দাঁত পরিষ্কার করতে নির্দেশ দিতাম।) আর আমি ইশার সালাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বা মধ্যরাত পর্যন্ত দেরী করতাম।
[আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান, ইবন্ খুযাইমাহ, হাকিম। ইবন খুযাইমা ও হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী হাদীসটিকে তালীক হিসাবে সংকলন করেছেন। তার ভাষার আলোকে হাদীসটি তাঁর মতে সহীহ। ইবন মানদাহ বলেনঃ সকল মুহাদ্দিস এই হাদীসটিকে সহীহ্ বলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।]
كتاب الطهارة
(3) باب فيما جاء في السواك عند الوضوء
(171) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم بالسواك مع الوضوء (وفي رواية لأمرتهم
عند كل صلاة بوضوء ومع كل وضوء سواك) ولأخرت العشاء إلى ثلث الليل أو شطر الليل

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহু আকবার! রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যামানায় যে সকল লোক জামা'আতে সালাত আদায় করত না, তিনি তাদের বিরুদ্ধে কী কঠিন সতর্ক বাণী ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রভাবময়ী বাণী আরো স্পষ্টরূপে হযরত উসামা (রা) থেকে ইবনে মাজাহ শরীফে বর্ণিত আছে। এতে ইরশাদ হয়েছে: "লোকদের জামা'আত বর্জন করা থেকে বিরত থাকা উচিত নতুবা অবশ্যই আমি তাদের ঘর জ্বালিয়ে ছারখার করে দেব।" (কানযুল উম্মাল, ইবনে মাজার বরাতে) রাসূলুল্লাহ ﷺ সে সকল জামা'আত বর্জনকারীদের ব্যাপারে এহেন কঠিন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তারা হয়ত আকীদার দিক থেকে ছিল মুনাফিক নতুবা কার্যের দিক থেকে ছিল (বে-আমল) মুনাফিক। জামা'আত বর্জন কারীদের সম্পর্কেই ছিল তাঁর এহেন ধমক ও ভীতি প্রদর্শন। এই কথার ভিত্তিতে কিছু সংখ্যক ইমাম (এ যাঁদের মধ্যে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র)ও রয়েছেন) বলেন, সক্ষম ব্যক্তিদের জামা'আতে সালাত আদায় করা ফরয। অর্থাৎ তাঁদের মতে সালাত যেমন ফরয, তদ্রূপ জামা'আতে সালাত আদায়ও একটি পৃথক ফরয এবং জামা'আত বর্জনকারী একটি ফরযে আঈনের বর্জনকারী। কিন্তু প্রাজ্ঞ হানাফী আলিমগণ জামা'আত সংক্রান্ত সকল হাদীস সামনে রেখে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, জামা'আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব এবং তার বর্জনকারী একজন গুনাহগার। উপরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ভাষণে মূলত এক ধরনের সতর্কবাণী ও ধমক দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান