মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৬. পবিত্রতা অর্জন
হাদীস নং: ১৮৮
পবিত্রতা অর্জন
প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৮) উসমান ইবন্ আফফান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দররূপে ওযু করবে তার পাপ-অন্যায়গুলো তার দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে, এমনকি তার নখগুলোর নিচ থেকেও বেরিয়ে যাবে। (মুসলিম)
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(188) عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من توضأ فأحسن الوضوء خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من تحت أظفاره
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. আলোচ্য হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রদর্শিত সুন্নাত পদ্ধতি অনুযায়ী আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা অর্জনের লক্ষ্যে উত্তমরূপে উযূ করে-এতে কেবল তার উযূর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহের ময়লা ও অপবিত্রতাই দূরীভূত হয়না বরং এর বরকতে তার সমগ্র দেহ থেকে গুনাহের অপবিত্রতা ও ময়লা বিদূরিত হয়ে যায় এবং উযূকারী কেবল উযূবিহীন অবস্থা থেকেই নয় বরং গুনাহ্ থেকেও পবিত্র হয়ে যায়।
২. ওযূ করার দ্বারা কেবল বাহ্যিক পবিত্রতাই অর্জিত হয় না, অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাও অর্জিত হয়। অর্থাৎ ওযূর দ্বারা গুনাহও মাফ হয়। আলোচ্য হাদীছটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوء (যে ব্যক্তি ওযূ করে এবং খুব ভালোভাবে ওযূ করে)।
ভালোভাবে ওযূ করার অর্থ ওযূর ফরযসমূহ আদায়ের পাশাপাশি সুন্নত-মুস্তাহাবও আদায় করা। যেমন শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, প্রতি অঙ্গ তিনবার করে ধোওয়া, অঙ্গসমূহ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধোওয়া, ফরয পরিমাণ ধোওয়ার পর বাড়তি কিছু অংশও ধৌত করা, নিয়ত করা, কুলি করা, কুলিতে গরগরা করা, নাকে পানি দেওয়া, আঙুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করা ইত্যাদি।
خَرَجَت خَطاياه مِن جَسَدِه، حتَّى تَخرُجَ مِن تَحتِ أظفارِه.
(তার শরীর থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয় তার নখের নিচ থেকেও)। অর্থাৎ যখন যে অঙ্গ ধোওয়া হয়, তখন সে অঙ্গ থেকে এমনসব গুনাহ ঝরে যায়, যা সেই অঙ্গ দ্বারা করা হয়েছিল। এমনকি হাতের কোনও আঙুল দিয়ে যদি কোনও গুনাহ করা হয়ে থাকে, তবে সেই আঙুল থেকে এমনকি আঙুলের নখ থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়।
উল্লেখ্য, যে-কোনও নেক আমল দ্বারা যে গুনাহ মাফ হয় বলে বিভিন্ন হাদীছে জানানো হয়েছে, তা দ্বারা সগীরা গুনাহ বোঝানো উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য তাওবা করা শর্ত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ওযূ গুনাহ মাফের একটি অসিলা। ওযূর অঙ্গসমূহ দ্বারা যেসব গুনাহ হয়ে যায়, তা সব ওযূ করার দ্বারা মাফ হয়ে যায়।
খ. গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য উত্তমরূপে ওযূ করা শর্ত।
ঘ. আমাদেরকে অবশ্যই ওযূর ফরয, সুন্নত ও মুস্তাহাবসমূহ জানতে হবে। তা না হলে উত্তমরূপে ওযূ করা যাবে না। ফলে গুনাহ মাফের ফযীলতও লাভ হবে না।
২. ওযূ করার দ্বারা কেবল বাহ্যিক পবিত্রতাই অর্জিত হয় না, অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাও অর্জিত হয়। অর্থাৎ ওযূর দ্বারা গুনাহও মাফ হয়। আলোচ্য হাদীছটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوء (যে ব্যক্তি ওযূ করে এবং খুব ভালোভাবে ওযূ করে)।
ভালোভাবে ওযূ করার অর্থ ওযূর ফরযসমূহ আদায়ের পাশাপাশি সুন্নত-মুস্তাহাবও আদায় করা। যেমন শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা, প্রতি অঙ্গ তিনবার করে ধোওয়া, অঙ্গসমূহ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধোওয়া, ফরয পরিমাণ ধোওয়ার পর বাড়তি কিছু অংশও ধৌত করা, নিয়ত করা, কুলি করা, কুলিতে গরগরা করা, নাকে পানি দেওয়া, আঙুল দিয়ে নাক পরিষ্কার করা ইত্যাদি।
خَرَجَت خَطاياه مِن جَسَدِه، حتَّى تَخرُجَ مِن تَحتِ أظفارِه.
(তার শরীর থেকে তার গুনাহসমূহ বের হয়ে যায়। এমনকি তা বের হয় তার নখের নিচ থেকেও)। অর্থাৎ যখন যে অঙ্গ ধোওয়া হয়, তখন সে অঙ্গ থেকে এমনসব গুনাহ ঝরে যায়, যা সেই অঙ্গ দ্বারা করা হয়েছিল। এমনকি হাতের কোনও আঙুল দিয়ে যদি কোনও গুনাহ করা হয়ে থাকে, তবে সেই আঙুল থেকে এমনকি আঙুলের নখ থেকেও গুনাহসমূহ ঝরে যায়।
উল্লেখ্য, যে-কোনও নেক আমল দ্বারা যে গুনাহ মাফ হয় বলে বিভিন্ন হাদীছে জানানো হয়েছে, তা দ্বারা সগীরা গুনাহ বোঝানো উদ্দেশ্য। কেননা কবীরা গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য তাওবা করা শর্ত।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. ওযূ গুনাহ মাফের একটি অসিলা। ওযূর অঙ্গসমূহ দ্বারা যেসব গুনাহ হয়ে যায়, তা সব ওযূ করার দ্বারা মাফ হয়ে যায়।
খ. গুনাহ মাফ হওয়ার জন্য উত্তমরূপে ওযূ করা শর্ত।
ঘ. আমাদেরকে অবশ্যই ওযূর ফরয, সুন্নত ও মুস্তাহাবসমূহ জানতে হবে। তা না হলে উত্তমরূপে ওযূ করা যাবে না। ফলে গুনাহ মাফের ফযীলতও লাভ হবে না।
১. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.) ২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)