মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৬. পবিত্রতা অর্জন
হাদীস নং: ২৩৩
পবিত্রতা অর্জন
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আলী ও উসমান (রা) ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এতদসংক্রান্ত হাদীসসমূহ
(২৩৩) মুগীরা ইবন্ শো'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আবূ বকর (রা) ছাড়া এ উম্মাতের আর কেউ কি রাসূল (সা)-এর ইমামতী করেছেন? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। আমরা একবার অমুক অমুক সফরে ছিলাম। (অপর বর্ণনা মতে তাবুক যুদ্ধের সফরে) যখন সেহেরীর সময় হল তখন তাঁর বাহনের গলায় আঘাত করে চলতে আরম্ভ করলেন। তখন আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি কিছুক্ষণ আমাদের সামনে থেকে আড়াল হয়ে গেলেন। তারপর আসলেন এবং বললেন, তোমাদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন আছে কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কোন প্রয়োজন নেই। তিনি বললেন, পানি আছে কি? আমি বললাম, আছে। তখন আমি তাঁর হাতে পানি ঢেলে দিলাম। তখন তিনি তাঁর দু'হাত ধুইলেন। তারপর তাঁর হাত থেকে আস্তিনের কাপড় সরাতে চাইলেন। তখন তাঁর গায়ে ছিল একটা শামী জুব্বা। জুব্বাটি সংকীর্ণ ছিল। ফলে হাত দু'টি ভিতরে নিয়ে গিয়ে জুব্বার নিচ থেকে বের করলেন। তারপর মুখমণ্ডল ধুইলেন আর হাত দু'টি ধুইলেন এবং মাথার প্রথমাংশ (নাহিয়া) ও পাগড়ীর উপর এবং মোজা দু'টির ওপর মাসেহ করলেন। অতঃপর আমরা অপরাপর লোকদের সাথে মিলিত হলাম। তখন নামাযের একামত বলা হয়েছে আর আবদুর রহমান ইবন 'আউফ তাঁদের ইমামতী করছেন। ইতিমধ্যেই তিনি এক রাকা'আত নামায পড়ে ফেলেছেন। আমি তাঁকে (রাসূলের আগমন সম্বন্ধে) অবগত করতে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাকে নিষেধ করলেন। তখন আমরা যে নামাযটুকু পেলাম তা আদায় করলাম।
(অপর এক বর্ণনায় আছে, আমরা যে রাকা'আতটুকু পেলাম তা আদায় করলাম।) এর পূর্বে সালাত ছুটে গিয়েছিল তা কাজা করলাম। (অপর বর্ণনায় আছে, যে রাকাতটি আমাদের আগে ছুটে গেছে তা কাজা করলাম।
[মুসলিম ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত, তিরমিযী হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।]
(অপর এক বর্ণনায় আছে, আমরা যে রাকা'আতটুকু পেলাম তা আদায় করলাম।) এর পূর্বে সালাত ছুটে গিয়েছিল তা কাজা করলাম। (অপর বর্ণনায় আছে, যে রাকাতটি আমাদের আগে ছুটে গেছে তা কাজা করলাম।
[মুসলিম ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত, তিরমিযী হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।]
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما روى في ذلك عن غير علي وعثمان من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين
(233) عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه وقد سئل هل أمَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم رجلٌ من هذه الأمَّة غير أبي بكر رضي الله عنه فقال نعم كنَّا في سفر كذ وكذا (وفي روايةٍ في غزوة تبوك) فلمَّا كان من السَّحر ضرب عنق راحلته وانطلق فتبعته فتغيَّب عنِّى ساعةً ثمَّ جاء فقال حاجتك، فقلت ليس لي حاجةٌ يا رسول الله، قال هل من ماءٍ؟ قلت نعم، فصببت عليه فغسل يديه ثمَّ غسل وجهه ثم ذهب يحسر عن ذراعيه وكانت عليه جبَّةٌ شاميَّة فضاقت فأدخل يديه فأخرجهما من تحت الجبَّة فغسل وجهه وغسل ذراعيه ومسح بناصيته ومسح على العمامة وعلى الخفَّين ثمَّ لحقنا النَّاس وقد أقيمت الصَّلاة وعبد الرحمن ابن عوفٍ يؤمُّهم وقد صلى ركعة فذهبت لأوذنه فنهاني فصلَّينا الَّتي أدركنا (وفي روايةٍ الرَّكعة الَّتي أدركنا) وقضينا الَّتي سبقنا بها (وفي روايةٍ وقضينا الرَّكعة الَّتي سبقنا)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে ঘটনা বর্ণনায় খুবই সংক্ষিপ্ত রূপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ হযরত মুগীরার অপর একটি বর্ণনা দ্বারা জানা যায়- যা সুনানে সাঈদ ইবনে মনসুরের বরাতে কানযুল উম্মালে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর সারসংক্ষেপ এই যে, জনৈক ব্যক্তি হযরত মুগীরা ইবনে শো'বাকে জিজ্ঞাসা করল, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. ছাড়া অন্য কারো ইমামতিতেও হুযুর (ﷺ) কোন নামায আদায় করেছেন? তখন মুগীরা বললেন, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। যখন সুবহে সাদেক ঘনিয়ে আসল, তখন তিনি আমাকে ইশারা করলেন। আমি বুঝে ফেললাম যে, তিনি এস্তেঞ্জার জন্য যেতে চান। আমি তাঁর সাথী হয়ে গেলাম। তারপর তিনি এবং তাঁর সাথে আমিও অন্যান্য সাথীদের থেকে পৃথক হয়ে একদিকে চলে গেলাম। এভাবে আমরা লোকদের দৃষ্টি থেকে অনেক দূরে চলে গেলাম। তারপর হুযুর (ﷺ) আমাকে ছেড়ে দিয়ে একদিকে চলে গেলেন, কিছুক্ষণ পর প্রয়োজন সেরে তিনি আমার কাছে তাশরীফ আনলেন এবং আমাকে বললেন, তোমার নিকট কি পানি আছে? আমি উত্তর দিলাম, হ্যাঁ, আছে। তারপর আমি নিজের মশক থেকে পানি নিলাম- যা আমার সওয়ারীর হাওদার সাথে লটকানো ছিল। আমি পানি নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম। তিনি প্রথমে নিজের দু'হাত খুব ভালভাবে ধুয়ে নিলেন, আর আমি তাঁর হস্তদ্বয়ে পানি ঢাললাম। তারপর তিনি আপন মুখমণ্ডল এবং দু'হাত (কনুই পর্যন্ত) ধুয়ে নিলেন, মাথা মাসেহ করলেন এবং মোজার উপর মাসেহ করলেন। তারপর আমরা নিজ নিজ সওয়ারীতে আরোহণ করে ফিরে আসলাম। আমরা এখানে এমন সময় পৌঁছলাম যে, ফজরের জামাআত শুরু হয়ে গিয়েছিল। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ ইমাম হয়ে নামায পড়াচ্ছিলেন এবং তখন দ্বিতীয় রাকআতে ছিলেন। আমি আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে ইশারা করতে চাইলাম যে, হুযুর (ﷺ) এসে গিয়েছেন, কিন্তু তিনি আমাকে নিষেধ করলেন। তাই আমরা দ্বিতীয় রাকাআতটি আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পেছনে এক্তেদা করে পড়ে ছিলাম, আর প্রথম রাকাআত- যা আগেই ছুটে গিয়েছিল, তা আমরা পরে আদায় করে নিলাম।
এ ঘটনারই অপর এক বর্ণনায় একথাও বলা হয়েছে যে, ফজরের নামায শুরু করতে যখন খুব দেরী হতে লাগল, (এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের কারো জানা ছিল না যে, তিনি কোন্ দিকে গিয়েছেন এবং কখন ফিরে আসবেন,) তখন পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত হল যে, এখন নামায আদায় করে নেওয়া হোক এবং উপস্থিত লোকেরা আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে ইমাম বানিয়ে নামায শুরু করে দিলেন। আগেই যেমন বলা হয়েছে যে, এক রাকআত হওয়ার পর হুযুর (ﷺ) ও মুগীরা ইবনে শো'বা এসে পৌছলেন এবং জামাআতে শামিল হয়ে দ্বিতীয় রাকাআত আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পেছনে আদায় করলেন। আর ছুটে যাওয়া রাকাআতটি পরে আদায় করে নিলেন।
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফের এ বৈশিষ্ট্যও অর্জিত রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) তাঁর পেছনে এক্তেদা করে নামায পড়েছেন এবং তিনি ইমামতির স্থান থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা করলে হুযুর (ﷺ) তাঁকে নিষেধ করে দিয়েছেন।
এ ঘটনারই অপর এক বর্ণনায় একথাও বলা হয়েছে যে, ফজরের নামায শুরু করতে যখন খুব দেরী হতে লাগল, (এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের কারো জানা ছিল না যে, তিনি কোন্ দিকে গিয়েছেন এবং কখন ফিরে আসবেন,) তখন পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত হল যে, এখন নামায আদায় করে নেওয়া হোক এবং উপস্থিত লোকেরা আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে ইমাম বানিয়ে নামায শুরু করে দিলেন। আগেই যেমন বলা হয়েছে যে, এক রাকআত হওয়ার পর হুযুর (ﷺ) ও মুগীরা ইবনে শো'বা এসে পৌছলেন এবং জামাআতে শামিল হয়ে দ্বিতীয় রাকাআত আব্দুর রহমান ইবনে আউফের পেছনে আদায় করলেন। আর ছুটে যাওয়া রাকাআতটি পরে আদায় করে নিলেন।
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আব্দুর রহমান ইবনে আউফের এ বৈশিষ্ট্যও অর্জিত রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) তাঁর পেছনে এক্তেদা করে নামায পড়েছেন এবং তিনি ইমামতির স্থান থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা করলে হুযুর (ﷺ) তাঁকে নিষেধ করে দিয়েছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)