আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৭৬- কৌশল গ্রহণ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৪৯৭
আন্তর্জাতিক নং: ৬৯৬৮
- কৌশল গ্রহণ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়
২৯২৪. বিবাহ সম্পর্কে।
৬৪৯৭। মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ কুমারী নারী বিয়ে দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার অনুমতি গ্রহণ করা হবে। আর বিধবা নারী বিয়ে দেয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার মত গ্রহণ করা হবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! তার অনুমতি কিরূপে? তিনি বললেনঃ যখন সে নীরব থাকে।
কোন কোন লোক বলেন, যদি কুমারীর অনুমতি নেয়া না হয় এবং তাকে বিয়ে দেয়া না হয়। অতঃপর কোন ব্যক্তি কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে দু’জন মিথ্যা সাক্ষী এ মর্মে দাঁড় করায় যে, ঐ ব্যক্তি উক্ত মহিলাকে তার সম্মতি নিয়ে বিয়ে করেছে এবং বিচারকও তার বিয়ে বলবৎ করে দেন, অথচ স্বামী পরিজ্ঞাত যে, সাক্ষীটি মিথ্যা, তখন তার জন্য উক্ত মহিলার সাথে সহবাস করতে কোন আপত্তি নেই এবং এটি শুদ্ধ বিয়েতে পরিণত হবে।
كتاب الحيل
باب فِي النِّكَاحِ
6968 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تُنْكَحُ البِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ، وَلاَ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ» فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ إِذْنُهَا؟ قَالَ: «إِذَا سَكَتَتْ» وَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ: " إِنْ لَمْ تُسْتَأْذَنِ البِكْرُ وَلَمْ تَزَوَّجْ، فَاحْتَالَ رَجُلٌ، فَأَقَامَ شَاهِدَيْ زُورٍ: أَنَّهُ تَزَوَّجَهَا بِرِضَاهَا، فَأَثْبَتَ القَاضِي نِكَاحَهَا، وَالزَّوْجُ يَعْلَمُ أَنَّ الشَّهَادَةَ بَاطِلَةٌ، فَلاَ بَأْسَ أَنْ يَطَأَهَا، وَهُوَ تَزْوِيجٌ صَحِيحٌ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ثيب এর অর্থ হচ্ছে, যে বিয়ের পর স্বামী বাসের পর স্বামীহীনা হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুজনিত কারণেই হোক অথবা তালাকজনিত কারণেই হোক। এরূপ নারী সম্বন্ধে হাদীসে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যে, তার সিদ্ধান্ত ও সম্মতি না জেনে তাকে বিয়ে দেওয়া যাবেনা। অর্থাৎ এটা আবশ্যক যে, সে মুখে কিংবা প্রকাশ্য ইঙ্গিতে স্বীয় সম্মতি ব্যক্ত করবে। আলোচ্য হাদীসের ভাবার্থ এটাই।

অন্য দিকে بكر দ্বারা এমন কুমারী বালিকা বুঝানো হয়েছে-যে বুদ্ধিমতী ও প্রাপ্ত বয়স্কা বটে, তবে স্বামীবাসী নয়। তার ব্যাপারে নির্দেশ করা হয়েছে যে, তার বিয়েও তার অনুমতি ছাড়া সম্পন্ন করা যাবেনা। তবে এরূপ মেয়েদের লজ্জা-শরমের কারণে যেহেতু মুখে বা ইঙ্গিতে অনুমতি প্রদান কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, এজন্য অনুমতি তলবের পর তাদের চুপ থাকাকেই অনুমতি স্থির করা হয়েছে। এ উভয় হাদীস থেকে জানা গেল যে, কোন বুদ্ধিমতী ও প্রাপ্ত বয়স্কা নারীর বিয়ে, চাই সে স্বামী দর্শনকারী হোক অথবা কুমারী, তার সম্মতি ও অনুমতি ছাড়া তার স্বামী বিয়ে সম্পন্ন করতে পারে না। তবে যদি কোন মেয়ে কম বয়স্কা হয়, যে এখনো বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনার উপযুক্ত নয়; অথচ কোন উত্তম সম্পর্ক এসে পড়ে এবং স্বয়ং মেয়ের উপযোগিতা এরূপ যে, তার বিয়ে সম্পন্ন করা হোক তখন ওলী (যে কল্যাণকামিতার দায়িত্ব পালনকারী) নিজের হিতকামী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ে দিতে পারে।

হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা) স্বীয় কন্যা হযরত আয়েশা (রা)-এর বিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে কেবল নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্পন্ন করেছিলেন, যখন তাঁর বয়স ছিল ৬-৭ বছর।১

টিকা ১. সে বিবাহে উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণ ও অনেক বরকত ছিল। হযরত আবু বকর সিদ্দীক সর্বপ্রথম ঈমান আনেন এবং এমন ত্যাগ স্বীকার ও সাথীর এরূপ দাবি পূর্ণ করেন যে, ওফাতের কিছু পূর্বে নবী করীম ﷺ বলে ছিলেন, আমার প্রতি যে যত ইহসান করেছে অথবা যে সব খিদমত করেছে আমি সব কিছুর বদলা দিয়েছি। তবে আবু বকর এর খিদমতের বদলা দিতে পারিনি। সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আয়েশা অল্প বয়স্কা হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এজন্য বিবাহ করেছিলেন যে, আবুবকরের সাথে আত্মীয়তার এক বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হবে। আর তাঁর পরিবারের লোকজনও সন্তুষ্ট হবে। উক্ত বিবাহে অন্যান্য আরো যে-সব কল্যাণ নিহিত ছিল, সে বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)