মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৪৫
নামাযের অধ্যায়
(৫) রুকু ও সিজদাতে কিরাআত পাঠ নিষেধ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(৬৪১) নু'মান ইবন্ সা'দ (রা) 'আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি, আলী (রা)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি কি রুকু' ও সিজদাতে তিলাওয়াত করব? তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, রুকু ও সিজদাতে আমাকে তিলাওয়াত করতে নিষেধ করা হয়েছে। তোমরা যখন রুকু' করবে তখন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করবে, আর যখন সিজদা করবে তখন প্রার্থনার প্রচেষ্টা চালাবে, সত্যিই তোমাদের প্রার্থনা কবুল করা হবে।
(মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, বায়হাকী।)
كتاب الصلاة
(5) باب النهي عن القراءة فى الركوع والسجود
(645) ز عن النُّعمان بن سعدٍ عن علىٍ رضي الله عنه قال سأله رجلٌ آاقرأ فى الرُّكوع والسُّجود؟ فقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنِّى نهيت (1) أن أقرأ فى الرُّكوع السُّجود، فإذا ركعتم فعظِّموا الله، (2) وإذا سجدتم فاجتهدوا فى المسألة (3) فقمنٌ (4) أن يُستجاب لكم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কুরআন পাঠ করা সালাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি রুকন, তবে কুরআন পঠিত হবে কিয়াম অবস্থায়। আল্লাহর কালাম দাঁড়ানো অবস্থায়-ই পাঠ করা উপযোগী। কারণ শাহী ফরমান দাঁড়ানো অবস্থায়ই পাঠ করা হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে রুকু ও সিজদায় আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা, নিজ দাসত্ব প্রকাশ এবং তাঁর মহান দরবারে দু'আ ক্ষমা চাওয়ার উপযুক্ত স্থান। রাসূলুল্লাহ ﷺ আজীবন এ আমলই করে গেছেন এবং নিজ বাণীও প্রদান করেছেন।

রাসূলুল্লাহ ﷺ সিজদায় 'সুবহানা রাব্বিয়াল আলা' পাঠ করতেন এবং এ বিষয়ে যে উম্মাতকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিজেও আমল করে দেখিয়েছেন তা পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে। এই হাদীসে তিনি সিজদায় দু'আ করার বিষয়ে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে এ দু'টি বিষয়ের কোন বৈপরীত্য নেই। দু'আ ও প্রার্থনা করার সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, বান্দা নিজ প্রভুর কাছে পরিষ্কার করে তার প্রয়োজনের কথা জানাবে। তবে এর একটি পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, যাঁর কাছে কিছু চাওয়া হবে তাঁর কাছে পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় ভাব প্রদর্শন করে তাঁর গুণকীর্তন করতে হবে। দুনিয়াতেও আমরা এহেন বহু যাচ্ঞাকারীকে এরূপ প্রার্থনা করতে দেখি। মোটকথা এও হচ্ছে দু'আ করার অন্যতম পদ্ধতি। এর ভিত্তিতেই হাদীসে আল্-হামদুল্লিল্লাহ কে সর্বশ্রেষ্ঠ দু'আ বলা হয়েছে। (তিরমিযী) এই সূত্র বলা যায় যে, 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা'ও একপ্রকার দু'আ। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি সিজদায় বারংবার এই তাসবীহ্ পাঠ করে, তবে তাও দু'আ রূপে গণ্য হবে। তবে হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সিজদার যেসব দু'আ হয়েছে, সেগুলোর মর্যাদাই আলাদা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ৬৪৫ | মুসলিম বাংলা