মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১১১১
নামাযের অধ্যায়
(২) তারাবীহর সালাতের কারণ এবং মসজিদে তা জামায়াতে আদায় করা বৈধ হওয়া প্রসঙ্গে
(১১০৭) আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) রমযান মাসে (তারাবীহর) সালাত আদায় করছিলেন। আমি এসে তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি বলেন, এরপর আরো এক ব্যক্তি এসে আমার পাশে দাঁড়াল। অতঃপর আরো এক ব্যক্তি আসল। এভাবে আসতে আসতে আমরা বেশ কয়েকজন হয়ে গেলাম। এরপর রাসূল (সা) যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা তার পিছনে রয়েছি তখন তিনি সালাতকে সংক্ষিপ্ত করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে নিজ গৃহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন সেখানে তিনি দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করলেন যা আমাদের সাথে করেন নি। অতঃপর যখন প্রত্যুষ হল তখন আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা) আপনি গত রাত্রে আমাদের উপস্থিতি অনুভব করেছিলেন কি? রাসূল (সা) জবাবে বললেন, হ্যাঁ। আমি সে কারণেই এরূপ করেছি।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বিরতিহীনভাবে সিয়ামব্রত পালন শুরু করলেন, এটা ছিল রমযান মাসের শেষের দিকে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের অনেকেই বিরতিহীনভাবে সিয়ামব্রত পালন শুরু করলেন, বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূল বললেন, লোকদের কি হলো যে, তারা বিরতিহীন সিয়ামব্রত পালন শুরু করে দিল। অথচ তোমরা আমার মত নও। আল্লাহর কসম, যদি আমার জন্য রমযান আরো দীর্ঘ করা হত তবুও আমি এমন বিরতিহীন সিয়ামব্রত পালন করতাম যে, (দীনের ব্যাপারে) বাড়াবাড়িকারীগণ তাদের বাড়াবাড়ি ছেড়ে দিত।
(উক্ত আনাস ইবন্ মালিক (রা) হতে ২য় সূত্রে বর্ণিত আছে) রমযান মাসে নবী করীম (সা) তাঁদের কাছে বের হলেন, তারপর সাহাবীদের নিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রইলেন, তারপর গৃহ থেকে বের হলেন এবং তাদের নিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি আবারো গৃহে প্রবেশ করলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রইলেন, অতঃপর প্রত্যুষ হলে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী। গত রাত্রে আমরা বসা ছিলাম তখন আপনি আমাদের মাঝে এলেন, সংক্ষিপ্তাকারে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ভিতরে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রইলেন, রাসূল (সা) বললেন, এটা তোমাদের জন্যই করেছি।
(উক্ত আনাস ইবন মালিক হতে ৩য় সূত্রেও) অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত আছে। যাতে আরো উল্লেখিত আছে, তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! আপনি সালাত আদায় করলেন অথচ আমরা চাচ্ছিলাম যে, আপনি সালাতকে আরো দীর্ঘ করবেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলাম এবং জেনে শুনেই এমনটি করেছি।
(বুখারী, মুসলিম ইত্যাদিতে বর্ণিত।)
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বিরতিহীনভাবে সিয়ামব্রত পালন শুরু করলেন, এটা ছিল রমযান মাসের শেষের দিকে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাঁর সাহাবীদের অনেকেই বিরতিহীনভাবে সিয়ামব্রত পালন শুরু করলেন, বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূল বললেন, লোকদের কি হলো যে, তারা বিরতিহীন সিয়ামব্রত পালন শুরু করে দিল। অথচ তোমরা আমার মত নও। আল্লাহর কসম, যদি আমার জন্য রমযান আরো দীর্ঘ করা হত তবুও আমি এমন বিরতিহীন সিয়ামব্রত পালন করতাম যে, (দীনের ব্যাপারে) বাড়াবাড়িকারীগণ তাদের বাড়াবাড়ি ছেড়ে দিত।
(উক্ত আনাস ইবন্ মালিক (রা) হতে ২য় সূত্রে বর্ণিত আছে) রমযান মাসে নবী করীম (সা) তাঁদের কাছে বের হলেন, তারপর সাহাবীদের নিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর গৃহে প্রবেশ করলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রইলেন, তারপর গৃহ থেকে বের হলেন এবং তাদের নিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি আবারো গৃহে প্রবেশ করলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রইলেন, অতঃপর প্রত্যুষ হলে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর নবী। গত রাত্রে আমরা বসা ছিলাম তখন আপনি আমাদের মাঝে এলেন, সংক্ষিপ্তাকারে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ভিতরে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রইলেন, রাসূল (সা) বললেন, এটা তোমাদের জন্যই করেছি।
(উক্ত আনাস ইবন মালিক হতে ৩য় সূত্রেও) অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণিত আছে। যাতে আরো উল্লেখিত আছে, তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! আপনি সালাত আদায় করলেন অথচ আমরা চাচ্ছিলাম যে, আপনি সালাতকে আরো দীর্ঘ করবেন। তিনি বললেন, আমি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলাম এবং জেনে শুনেই এমনটি করেছি।
(বুখারী, মুসলিম ইত্যাদিতে বর্ণিত।)
كتاب الصلاة
(2) باب ما جاء فى سببها وجواز فعلها جماعة فى المسجد
(1111) عن أنس "بن مالك" رضي الله عنه قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلِّى فى رمضان، فجئت فقمت خلفه، قال وجاء رجل فقام إلى جنبى، ثمَّ جاء آخر حتَّى كنَّا رهطًا فلمَّا أحسَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا خلفه تجوَّز فى الصلاة ثمَّ قام فدخل منزله فصلَّى صلاة لم يصلِّها عندنا قال فلمَّا أصبحنا قال قلنا يا رسول الله أفطنت بما اللَّيلة؟ قال نعم فذاك الَّذى حملنى على الَّذي صنعت قال ثمَّ أخذ يواصل وذاك فى آخر الشهَّر، قال فأخذ رجال يواصلوت من أصحابه، قال فقال
رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بال رجال يواصلون، إنَّكم لستم مثلى، أما والله لو مدَّ لى الشَّهر لواصلت وصالًا يدع المتعمقون تعمُّقهم (وعنه من طريق ثان) أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم خرج إليهم فى رمضان فخفَّف بهم، ثمَّ دخل فأطال ثمَّ خرج فخفَّف بهم، ثمَّ دخل فأطال، فلمَّا أصبحنا قلنا يا نبيَّ الله جلسنا اللَّيلة فخرجت إلينا فخفَّفت ثمَّ دخلت فأطلت قال من أجلكم (وعنه من طريق ثالث) بنحوه وفيه قالوا يا رسول الله صلَّيت ونحن نحب أن تمدَّ فى صلاتك، قال قد علمت بمكانكم وعمدًا فعلت ذلك.
رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بال رجال يواصلون، إنَّكم لستم مثلى، أما والله لو مدَّ لى الشَّهر لواصلت وصالًا يدع المتعمقون تعمُّقهم (وعنه من طريق ثان) أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم خرج إليهم فى رمضان فخفَّف بهم، ثمَّ دخل فأطال ثمَّ خرج فخفَّف بهم، ثمَّ دخل فأطال، فلمَّا أصبحنا قلنا يا نبيَّ الله جلسنا اللَّيلة فخرجت إلينا فخفَّفت ثمَّ دخلت فأطلت قال من أجلكم (وعنه من طريق ثالث) بنحوه وفيه قالوا يا رسول الله صلَّيت ونحن نحب أن تمدَّ فى صلاتك، قال قد علمت بمكانكم وعمدًا فعلت ذلك.