আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৭৭- স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা সংক্রান্ত অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৫৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ৭০০৭
- স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা সংক্রান্ত অধ্যায়
২৯৪৪. যখন স্বপ্নে নিজের চতুর্দিকে বা নখে দুধ প্রবাহিত হতে দেখা যায়।
৬৫৩৫। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একদা আমি ঘুমিয়েছিলাম। আমার কাছে দুধের একটি পেয়ালা পেশ করা হল। আমি তৃপ্তি সহকারে তা থেকে পান করলাম। এমনকি তৃপ্তির চিহ্ন আমার চতুর্দিক দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছিল। অতঃপর অবশিষ্টাংশ উমর ইবনে খাত্তাবকে প্রদান করলাম। তার আশেপাশের লোকজন জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি এর কি ব্যাখ্যা প্রদান করছেন হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেনঃ ইলম।
كتاب التعبير
باب إِذَا جَرَى اللَّبَنُ فِي أَطْرَافِهِ أَوْ أَظَافِيرِهِ
7007 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي حَمْزَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِقَدَحِ لَبَنٍ، فَشَرِبْتُ مِنْهُ، حَتَّى إِنِّي لَأَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ مِنْ أَطْرَافِي، فَأَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ» فَقَالَ مَنْ حَوْلَهُ: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «العِلْمَ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূক্ষ্মদর্শী আলেমগণ বলেছেন যে, ইলমের উপমা আকৃতি অন্য জগতে দুধের ন্যায়। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে, তাকে দুধ পান করানো হচ্ছে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো তাকে ইলম দান করা হবে। দুধ ও ইলমের মধ্যে এ পারস্পরিক সম্পর্ক সুস্পষ্ট যে, দুধ মানবদেহের জন্য সর্বোত্তম উপকারী খাদ্য, তেমনিভাবে ইলম যা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়, সেটা আত্মার জন্য সর্বোত্তম ও উপকারী।
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে হুযুর (ﷺ)-কে প্রদত্ত ইলমের মধ্যে হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষ অংশ ছিল। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর পর যেভাবে তিনি দশ বছর খেলাফত ও নবুওয়াতের নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যেভাবে উম্মতের পথপ্রদর্শন করেছেন, তা-ই এর প্রমাণ ও সাক্ষ্য যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ইলমের যথেষ্ট অংশ দান করেছিলেন।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (রহঃ) 'ইযালাতুল খাফা' নামক গ্রন্থে হযরত উমর রাযি.-এর জ্ঞান-গরীমা সম্পর্কে যা কিছু লিখেছেন, সেটা আলেমদের দেখার মত। এর অধ্যয়নের দ্বারা এ বিষয়ে হযরত ফারুকে আযমের অনন্য বৈশিষ্ট্য পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা যেতে পারে।
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে হুযুর (ﷺ)-কে প্রদত্ত ইলমের মধ্যে হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষ অংশ ছিল। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর পর যেভাবে তিনি দশ বছর খেলাফত ও নবুওয়াতের নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যেভাবে উম্মতের পথপ্রদর্শন করেছেন, তা-ই এর প্রমাণ ও সাক্ষ্য যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ইলমের যথেষ্ট অংশ দান করেছিলেন।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (রহঃ) 'ইযালাতুল খাফা' নামক গ্রন্থে হযরত উমর রাযি.-এর জ্ঞান-গরীমা সম্পর্কে যা কিছু লিখেছেন, সেটা আলেমদের দেখার মত। এর অধ্যয়নের দ্বারা এ বিষয়ে হযরত ফারুকে আযমের অনন্য বৈশিষ্ট্য পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)