আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৮২- কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ ও অনুসরণের বর্ণনা
হাদীস নং: ৬৮৫০
আন্তর্জাতিক নং: ৭৩৫২
- কুরআন ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ ও অনুসরণের বর্ণনা
৩০৯৫. বিচারক ইজতিহাদে সঠিক কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নিলেও তার প্রতিদান রয়েছে।
৬৮৫০। আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এই কথা বলতে শুনেছেন, কোন বিচারক ইজতিহাদে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে তার জন্য রয়েছে দু’টি পুরস্কার। আর যদি কোন বিচারক ইজতিহাদে ভুল করেন তার জন্যও রয়েছে একটি পুরস্কার। রাবী বলেন, আমি হাদীসটি আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাযম (রাহঃ) এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন এবং আব্দুল আযীয ইবনে মুত্তালিব......... আবু সালামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
كتاب الاعتصام بالكتاب والسنة
باب أَجْرِ الْحَاكِمِ إِذَا اجْتَهَدَ فَأَصَابَ أَوْ أَخْطَأَ
7352 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ المُقْرِئُ المَكِّيُّ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الحَارِثِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ العَاصِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ العَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا حَكَمَ الحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ، وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ ثُمَّ أَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ» ، قَالَ: فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الحَدِيثِ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، فَقَالَ: هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَقَالَ عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ المُطَّلِبِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীস থেকে একটি বড় মূলনীতি এই জানা গেল যে, যদি হাকিম ও মুজতাহিদ কোন বিষয় ও মাসআলায় সত্যকে জানার যথাসাধ্য চেষ্টা করে, তখন সে যদি সঠিক পরিণতিতে পৌঁছতে সক্ষম না হয় তবু সে আল্লাহর নিকট প্রতিদান ও পুরস্কারের যোগ্য হবে। কেননা, সত্য ও সঠিক বিষয় জানার তার নিয়ত ছিল। আর এ জন্য যে চিন্তা-ভাবনা, পরিশ্রম ও চেষ্টা করেছে। এজন্য সে আদিষ্ট ছিল। তবে একথা সুস্পষ্ট যে, এর সম্পর্ক এ বিষয়ে যোগ্য লোকদের সাথে রয়েছে। অযোগ্য লোকদের ইজতিহাদ করার কেউই অনুমতি দিতে পারে না।
যে ব্যক্তি প্রাচীন বা আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করেনি, সে যদি চিকিৎসালয় খুলে বসে যায় এবং রোগীদের চিকিৎসা করে তবে সে অপরাধী ও জেলখানার যোগ্য হবে। আমাদের ভাষায় যথার্থ উপমা হচ্ছে- "অর্ধ চিকিৎসক প্রাণের শংকা আর অর্ধ মোল্লা ঈমানের শংকা।" অন্য হাদীসে বিশদভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতা ছাড়া ফায়সালা করে, সে দোযখের যোগ্য।
যে ব্যক্তি প্রাচীন বা আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করেনি, সে যদি চিকিৎসালয় খুলে বসে যায় এবং রোগীদের চিকিৎসা করে তবে সে অপরাধী ও জেলখানার যোগ্য হবে। আমাদের ভাষায় যথার্থ উপমা হচ্ছে- "অর্ধ চিকিৎসক প্রাণের শংকা আর অর্ধ মোল্লা ঈমানের শংকা।" অন্য হাদীসে বিশদভাবে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও যোগ্যতা ছাড়া ফায়সালা করে, সে দোযখের যোগ্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)