আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৮৩- তাওহীদ অধ্যায় ও জাহমিয়্যাসহ ভ্রান্ত দলগুলোর অপনোদন
হাদীস নং: ৬৮৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ৭৩৮৭ - ৭৩৮৮
- তাওহীদ অধ্যায় ও জাহমিয়্যাসহ ভ্রান্ত দলগুলোর অপনোদন
৩১১১. আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা (৫৮ঃ ১)।
৬৮৮৪। ইয়াহয়া ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) নবী (ﷺ) কে লক্ষ্য করে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি আমার নামাযে দোয়া করতে পারি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি বল,
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يغفر الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
হে আল্লাহ! আমি আমার নফসের ওপর অত্যধিক যুলুম করেছি। অথচ আপনি ছাড়া আমার গুনাহসমূহ মাফ করার কেউই নেই। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সস্পূর্ণভাবে মাফ করে দিন। নিশ্চয়ই আপনিই অধিক ক্ষমাপরায়ণ ও দয়াবান।
اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يغفر الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
হে আল্লাহ! আমি আমার নফসের ওপর অত্যধিক যুলুম করেছি। অথচ আপনি ছাড়া আমার গুনাহসমূহ মাফ করার কেউই নেই। সুতরাং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে সস্পূর্ণভাবে মাফ করে দিন। নিশ্চয়ই আপনিই অধিক ক্ষমাপরায়ণ ও দয়াবান।
كتاب الرد على الجهمية و غيرهم و التوحيد
بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {وَكَانَ اللَّهُ سَمِيعًا بَصِيرًا} [النساء: 134]
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاَتِي. قَالَ " قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ".
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীস দ্বারা পরিষ্কার বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত আবূ বকর (রা)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সালাতে দু'আ পাঠের নির্দেশ দেন। কিন্তু হাদীসে একথা উল্লেখ নেই যে, সালামের পূর্বে তা পাঠ করতে হবে। এ পর্যায়ে হাদীসের ভাষ্যকারগণ বলেছেনঃ সালামের পূর্বেই মূলত দু'আর উপযুক্ত সময় এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এই সময় পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছে "তাশাহহুদের পর সালামের পূর্বে বান্দার কোন চমৎকার দু'আ নির্বাচিত করে নেয়া উচিত এবং তা দ্বারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।" তাই এই বিশেষ সময়ের দু'আর জন্য হযরত আবূ বকর (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আবেদন করেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও উক্ত সময় এই দু'আ করার নির্দেশ দেন। এজন্য সম্ভবত ইমাম বুখারী (র) بَابُ الدُّعَاء قَبْلَ السَّلَام (অনুচ্ছেদ : সালামের পূর্বে দু'আ) শিরোনামে হাদীসখানা উল্লেখ করেছেন।
এতদসত্ত্বেও তিনি দু'আর আবেদন জানিয়েছিলেন যে, সালাতে থাকা অবস্থায় পাঠ করা যায় আমাকে এমন একটি দু'আ শিখিয়ে দিন যার দ্বারা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর চাওয়ার জবাবে এই দু'আটি শিক্ষা দেন। যা তিনি সালাতে থাকা অবস্থায় বলতে চেয়েছেন। হে আবু বকর! নামায আদায় শেষে মনে যেন এ ধারণা না জন্মে যে, আল্লাহর ইবাদতের হক আদায় হয়েছে এবং কিছু একটা করে ফেলা হয়েছে। বরং নামায শেষে একান্ত মনে রাখতে হবে যে ভুল ত্রুটি ও গুনাহে আকণ্ঠ নিমজ্জিত অবস্থা স্বীকার করে ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর দরবারে ধর্ণা দিতে হবে এই কথা বলে, হে আমার প্রভূ! আমার কোন নেক আমল নেই, আমার কাছে এমন কিছু নেই যার দ্বারা আমি মাফ পাবার আশা করতে পারি। কাজেই আপনি আপনার ক্ষমাশীল ও দয়াবান গুণবাচক নামের বরকতে আমাকে ক্ষমা করে দিন। তাশাহহুদ ও দরূদ পাঠের পর সালামের পূর্বে আবশ্যিকভাবে এই দু'আ পাঠ করে দু'আ করা উচিত। এই দু'আ মুখস্থ করা, দু'আর মর্ম অন্তরে বসিয়ে নেওয়া কোন কঠিন কাজ নয়। একটু খেয়াল করলেই অল্প সময়ে এ কাজ করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো এই মূল্যবান দু'আ থেকে বঞ্চিত হওয়া দুর্ভাগ্যের কারণ। আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর শেখানো এক একটি দু'আর মূল্য দুনিয়া ও এর মধ্যকার বস্তু অপেক্ষা উত্তম।
এতদসত্ত্বেও তিনি দু'আর আবেদন জানিয়েছিলেন যে, সালাতে থাকা অবস্থায় পাঠ করা যায় আমাকে এমন একটি দু'আ শিখিয়ে দিন যার দ্বারা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর চাওয়ার জবাবে এই দু'আটি শিক্ষা দেন। যা তিনি সালাতে থাকা অবস্থায় বলতে চেয়েছেন। হে আবু বকর! নামায আদায় শেষে মনে যেন এ ধারণা না জন্মে যে, আল্লাহর ইবাদতের হক আদায় হয়েছে এবং কিছু একটা করে ফেলা হয়েছে। বরং নামায শেষে একান্ত মনে রাখতে হবে যে ভুল ত্রুটি ও গুনাহে আকণ্ঠ নিমজ্জিত অবস্থা স্বীকার করে ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর দরবারে ধর্ণা দিতে হবে এই কথা বলে, হে আমার প্রভূ! আমার কোন নেক আমল নেই, আমার কাছে এমন কিছু নেই যার দ্বারা আমি মাফ পাবার আশা করতে পারি। কাজেই আপনি আপনার ক্ষমাশীল ও দয়াবান গুণবাচক নামের বরকতে আমাকে ক্ষমা করে দিন। তাশাহহুদ ও দরূদ পাঠের পর সালামের পূর্বে আবশ্যিকভাবে এই দু'আ পাঠ করে দু'আ করা উচিত। এই দু'আ মুখস্থ করা, দু'আর মর্ম অন্তরে বসিয়ে নেওয়া কোন কঠিন কাজ নয়। একটু খেয়াল করলেই অল্প সময়ে এ কাজ করা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো এই মূল্যবান দু'আ থেকে বঞ্চিত হওয়া দুর্ভাগ্যের কারণ। আল্লাহর শপথ রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর শেখানো এক একটি দু'আর মূল্য দুনিয়া ও এর মধ্যকার বস্তু অপেক্ষা উত্তম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)