আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৫- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা
হাদীস নং: ১০৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫২৯
- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা
৩. কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মসজিদ ছবি বানানো, কবরকে সিজদার স্থান করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
১০৬৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... আয়োশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে রোগ থেকে আরোগ্যলাভ করেননি সে রোগশয্যায় থেকে বলেছেন, ইয়াহুদী ও নাসারাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, যদি এরূপ আশঙ্কা না হতো, তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কবর উঁচু করা হতো। কিন্তু তিনি তাকে মসজিদ বানানোর আশঙ্কা করেছিলেন। ইবনে আবি শাঈবার বর্ণনায় وَلَوْلاَ ذَاكَ আছে কিন্তু قَالَتْ শব্দটি নেই।
كتاب المساجد ومواضع الصلاة
باب النَّهْيِ عَنْ بِنَاءِ الْمَسَاجِدِ عَلَى الْقُبُورِ وَاتِّخَاذِ الصُّوَرِ فِيهَا وَالنَّهْيِ عَنِ اتِّخَاذِ الْقُبُورِ مَسَاجِدَ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، قَالاَ حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِهِ الَّذِي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ " لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " . قَالَتْ فَلَوْلاَ ذَاكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ غَيْرَ أَنَّهُ خُشِيَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَلَوْلاَ ذَاكَ لَمْ يَذْكُرْ قَالَتْ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ এ কথাটিও ঐ ভাষণে বলেছিলেন, যা তিনি ওফাতের পাঁচ দিন পূর্বে মিম্বরে বসে দিয়েছিলেন। অপর কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) রোগের তীব্রতার সময়-যখন তিনি নিজের বিছানায়ই ছিলেন, এ কথাটি বলেছিলেন। যুক্তির কথা এই যে, এ কথাটি তিনি রোগের তীব্রতার সময় বিছানায় শুয়েই বলেছিলেন এবং মসজিদের সাধারণ ভাষণেও বলেছিলেন। কেননা, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে বিরাট দুশ্চিন্তা ছিল যে, আমার পর আমার উম্মতের লোকেরা আমার কবরের সাথে ঐ আচরণ করে কিনা, যে আচরণ ইয়াহুদী ও নাসারাগণ তাদের নবীদের কবরের সাথে করেছে এবং এর ফলে তারা আল্লাহর অভিশাপের পাত্র হয়ে গিয়েছে।
হুযুর (ﷺ) তো এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা মূর্তিপূজার মত শিরকে কখনো লিপ্ত হবে না। কিন্তু তাঁর এ আশংকা ছিল যে, শয়তান তাদেরকে আমার ভালবাসা ও আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাহানায় এ শিরকে লিপ্ত করে দিবে যে, তারা আমার কবরকে সেজদা করতে শুরু করবে। এ জন্য এ ব্যাপারে তিনি বার বার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিরোনামে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় তিনি এর প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন- সাধারণ ভাষণেও বলেছেন এবং ঘরে রোগশয্যায়ও।
হুযুর (ﷺ) তো এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা মূর্তিপূজার মত শিরকে কখনো লিপ্ত হবে না। কিন্তু তাঁর এ আশংকা ছিল যে, শয়তান তাদেরকে আমার ভালবাসা ও আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাহানায় এ শিরকে লিপ্ত করে দিবে যে, তারা আমার কবরকে সেজদা করতে শুরু করবে। এ জন্য এ ব্যাপারে তিনি বার বার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিরোনামে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় তিনি এর প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন- সাধারণ ভাষণেও বলেছেন এবং ঘরে রোগশয্যায়ও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)