আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৫- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা
হাদীস নং: ১০৭০
আন্তর্জাতিক নং: ৫৩১
- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা
৩. কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মসজিদ ছবি বানানো, কবরকে সিজদার স্থান করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
১০৭০। হারুন ইবনে সাঈদ আন আয়লী ও হারামালা ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত যখন নিকটবর্তী হল, তখন তিনি চাঁদর দিয়ে তাঁর চেহারা ঢাকতে লাগলেন। তাঁর শ্বাস রুদ্ধ হলে চেহারা থেকে তা সরিয়ে ফেলছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন, ইয়াহুদী-নাসারার উপর আল্লাহর অভিশাপ। তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়েছে। তিনি (এই কথা বলে) তাদের মত করা থেকে সতর্ক করে দিচ্ছিলেন।
كتاب المساجد ومواضع الصلاة
باب النَّهْيِ عَنْ بِنَاءِ الْمَسَاجِدِ عَلَى الْقُبُورِ وَاتِّخَاذِ الصُّوَرِ فِيهَا وَالنَّهْيِ عَنِ اتِّخَاذِ الْقُبُورِ مَسَاجِدَ
وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَرْمَلَةُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، هَارُونُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، قَالاَ لَمَّا نَزَلَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ " لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ " . يُحَذِّرُ مِثْلَ مَا صَنَعُوا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ এ কথাটিও ঐ ভাষণে বলেছিলেন, যা তিনি ওফাতের পাঁচ দিন পূর্বে মিম্বরে বসে দিয়েছিলেন। অপর কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) রোগের তীব্রতার সময়-যখন তিনি নিজের বিছানায়ই ছিলেন, এ কথাটি বলেছিলেন। যুক্তির কথা এই যে, এ কথাটি তিনি রোগের তীব্রতার সময় বিছানায় শুয়েই বলেছিলেন এবং মসজিদের সাধারণ ভাষণেও বলেছিলেন। কেননা, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে বিরাট দুশ্চিন্তা ছিল যে, আমার পর আমার উম্মতের লোকেরা আমার কবরের সাথে ঐ আচরণ করে কিনা, যে আচরণ ইয়াহুদী ও নাসারাগণ তাদের নবীদের কবরের সাথে করেছে এবং এর ফলে তারা আল্লাহর অভিশাপের পাত্র হয়ে গিয়েছে।
হুযুর (ﷺ) তো এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা মূর্তিপূজার মত শিরকে কখনো লিপ্ত হবে না। কিন্তু তাঁর এ আশংকা ছিল যে, শয়তান তাদেরকে আমার ভালবাসা ও আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাহানায় এ শিরকে লিপ্ত করে দিবে যে, তারা আমার কবরকে সেজদা করতে শুরু করবে। এ জন্য এ ব্যাপারে তিনি বার বার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিরোনামে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় তিনি এর প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন- সাধারণ ভাষণেও বলেছেন এবং ঘরে রোগশয্যায়ও।
হুযুর (ﷺ) তো এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা মূর্তিপূজার মত শিরকে কখনো লিপ্ত হবে না। কিন্তু তাঁর এ আশংকা ছিল যে, শয়তান তাদেরকে আমার ভালবাসা ও আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাহানায় এ শিরকে লিপ্ত করে দিবে যে, তারা আমার কবরকে সেজদা করতে শুরু করবে। এ জন্য এ ব্যাপারে তিনি বার বার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিরোনামে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় তিনি এর প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন- সাধারণ ভাষণেও বলেছেন এবং ঘরে রোগশয্যায়ও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)