আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৫- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা

হাদীস নং: ১১৮৯
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮০-৩
- মসজিদ ও নামাযের স্থান সমূহের বর্ণনা
২১. নামাযে বসা ও দুই উরুর উপর দুই হাত রাখার নিয়ম
১১৮৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আলী ইবনে আব্দুর রহমান মু’আবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে নামাযে কংকর নিয়ে খেলা করতে দেখলেন। আমি নামায শেষ করার পর তিনি আমাকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ করতেন তুমিও তদ্রূপ কর। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, তিনি যখন নামাযে বসতেন, তাঁর ডান হাত ডান উরুর উপর রাখতেন এবং সমস্ত আঙ্গুল গুটিয়ে রেখে বৃদ্ধাংগুলির নিকটস্থ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। আর বাম হাতের তালুখানি বাম উরুর উপর রাখতেন।
كتاب المساجد ومواضع الصلاة
باب صِفَةِ الْجُلُوسِ فِي الصَّلاَةِ وَكَيْفِيَّةِ وَضْعِ الْيَدَيْنِ عَلَى الْفَخِذَيْنِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ، أَنَّهُ قَالَ رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَعْبَثُ بِالْحَصَى فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ نَهَانِي فَقَالَ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . فَقُلْتُ وَكَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ قَالَ كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا وَأَشَارَ بِإِصْبَعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বৈঠকে কালেমা শাহাদাত পাঠের পর তর্জনী উঠানো এবং ইশারা করার বিষয়টি শুধু হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) থেকে নয় বরং অপরাপর সাহাবী সূত্রেও বর্ণিত আছে। নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ ﷺ তা করেছেন বলে প্রমাণিত। এর দ্বারা বাহ্যিক উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসল্লী যখন 'আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই) পাঠ করে, আল্লাহর অদ্বিতীয় একক সত্তার সাক্ষ্য দেয় তখন তার অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং সুদৃঢ় বিশ্বাস জন্মে তখন তার একটি বিশেষ আঙ্গুল উচিয়ে শরীর দিয়েও সাক্ষ্য দেয়। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) বর্ণিত এ হাদীসের অন্যান্য সূত্রে এটুকু অতিরিক্ত রয়েছে যে তর্জনী উঠানোর সাথে সাথে চোখ দ্বারাও ইশারা করতেন وأتبعها بصره উক্ত ইশারার ব্যাপারে স্বয়ং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) নবী কারীম ﷺ এর নিম্নোক্ত বাণী উল্লেখ করেন- لهي أشد على الشيطان من الحديد "আঙ্গুল দ্বারা ইশারা লোহা দ্বারা (ধারাল ছুরি বা তলোয়ারের আঘাত) অপেক্ষাও শয়তানের কাছে অধিক ভয়াবহ।" (মুসনাদে আহমাদের বরাতে মিশকাত)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)