আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১০- বৃষ্টি প্রার্থনার নামায
হাদীস নং: ১৯৫৯
আন্তর্জাতিক নং: ৮৯৯-৩
- বৃষ্টি প্রার্থনার নামায
শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
১৯৫৯। হারুন ইবনে মারুফ ও আবু তাহির (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি এভাবে খিলখিল করে হাসতে দেখিনি যাতে তার আল-জিব দেখা যায়। তিনি মুচকি হাসতেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মেঘমালা বা ঝড়ো হাওয়া দেখতেন তখন তার চেহারায় তার প্রভাব পরিলক্ষিত হত। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মানুষকে দেখি বৃষ্টি আসার মেঘমালা দেখলে তারা আনন্দিত হয়, অথচ আপনি যখন মেঘমালা দেখেন, তখন আমি আপনার মুখমণ্ডলে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখতে পাই। তিনি বলেন, হে আয়িশা! এর মধ্যে যে কোন আযাব নেই, সে সম্পর্কে আমি শংকামুক্ত হই কিভাবে? কোন কোন জাতিকে ঝড়ো হাওয়া দিয়ে আযাব দেয়া হয়েছে। আরেক সম্প্রদায় আযাব দেখতে পেল, কিন্তু তারা বলল এটা মেঘ আমাদের জন্য বর্ষণ করবে।
كتاب صلاة الاستسقاء
وحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، ح وحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَهُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَجْمِعًا ضَاحِكًا، حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ، إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ، قَالَتْ: وَكَانَ إِذَا رَأَى غَيْمًا أَوْ رِيحًا، عُرِفَ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ أَرَى النَّاسَ، إِذَا رَأَوْا الْغَيْمَ فَرِحُوا، رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ فِيهِ الْمَطَرُ، وَأَرَاكَ إِذَا رَأَيْتَهُ عَرَفْتُ فِي وَجْهِكَ الْكَرَاهِيَةَ؟ قَالَتْ: فَقَالَ: " يَا عَائِشَةُ مَا يُؤَمِّنُنِي أَنْ يَكُونَ فِيهِ عَذَابٌ، قَدْ عُذِّبَ قَوْمٌ بِالرِّيحِ، وَقَدْ رَأَى قَوْمٌ الْعَذَابَ، فَقَالُوا: {هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا} [الأحقاف: 24]
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ-ভীতি নবী করীম ﷺ-এর মনে অত্যন্ত প্রবল ছিল। তিনি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় কষ্ট হাসিমুখে বরণ করতেন। মানব জাতির কল্যাণের জন্য তিনি তাদেরকে আল্লাহর পয়গাম কবুল করার আহ্বান জানাতেন। কিন্তু তারা তাঁর বাণীকে স্বাগতম জানানোর পরিবর্তে তাঁকে নানাবিধ কষ্টদান করত। অতীতের জাতিসমূহ তাদের পয়গম্বরগণের সাথে যেরূপ মন্দ আচরণ করত, তাঁর জাতিও তাঁর সঙ্গে সেরূপ আচরণ করেছে। তাঁর পয়গাম প্রত্যাখ্যান করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাঁকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করেছে। শেয়াবে আবি তালিবে তাঁকে নযরবন্দী করে রেখেছে। বন্দী জীবনের অবসানের পর তিনি পার্শ্ববর্তী শহর তায়েফে গমন করেও কোন ফল পাননি। আল্লাহর দীন কবুল করার জন্য তিনি যে আহ্বান জানিয়েছেন তার জবাব দেশবাসী নির্মম প্রত্যাখ্যান ও অসহনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে দিয়েছে। তাঁকে হত্যা করার জন্য তারা উদ্যত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেছেন। দূরবর্তী মদীনায় গিয়েও তিনি শান্তি পাননি। মক্কার শাসকগণ তাঁর বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ তের বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সত্ত্বেও নবী করীম ﷺ তাঁর কওমের মানুষকে ভালবাসতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, তাঁর জাতি আল্লাহর দীনকে প্রত্যাখ্যান করায় আল্লাহর গযব তাদের উপর নেমে আসতে পারে। তাই আসমান মেঘাচ্ছন্ন হলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করতেন তাদের মঙ্গলের জন্য। হাদীসে সূরা আল-আহকাফের ২৪ নং আয়াতের যে উল্লেখ রয়েছে, তাতে আদ জাতির ধ্বংসকালীন অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব মেঘের আকৃতি ধারণ করে তাদের উপর নাযিল হয়েছিল। আদ জাতির অবস্থা বর্ণনা করে প্রকারান্তরে নবী ﷺ-এর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা নবী ﷺ-এর বিরোধিতা ত্যাগ না করে, তাহলে তাদের উপরও আল্লাহর আযাব যে কোন সময় নাযিল হতে পারে। পবিত্র কুরআনের একাধিক স্থানে এ ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাই মেঘ দেখলে নবী করীম ﷺ খুব বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত হতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)