আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১২- জানাযা-কাফন-দাফন সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ২০৪৫
আন্তর্জাতিক নং: ৯৩৯-৭
- জানাযা-কাফন-দাফন সম্পর্কিত অধ্যায়
১০. মৃত ব্যক্তির গোসল প্রসঙ্গ
২০৪৫। আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট এলেন তখন আমরা তার কন্যাদের একজনকে গোসল দিচ্ছিলাম। তিনি বললেন, তাকে বিজোড় সংখ্যায় গোসল দাও, পাঁচবার অথবা এর চেয়েও অধিক। তারপর আইয়ুব ও আসিমের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী হাদীসে এ কথাও বলেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা তাঁর কেশ তিন ভাগে বিভক্ত করেছিলাম। দু’পাশে ও মাঝখানে।
كتاب الجنائز
باب فِي غَسْلِ الْمَيِّتِ
وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ حَفْصَةَ، بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَغْسِلُ إِحْدَى بَنَاتِهِ فَقَالَ " اغْسِلْنَهَا وِتْرًا خَمْسًا أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكِ " . بِنَحْوِ حَدِيثِ أَيُّوبَ وَعَاصِمٍ وَقَالَ فِي الْحَدِيثِ قَالَتْ فَضَفَرْنَا شَعْرَهَا ثَلاَثَةَ أَثْلاَثٍ قَرْنَيْهَا وَنَاصِيَتَهَا .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত অনরূপ এক রিওয়ায়াত থেকে জানা যায় যে, আলোচ্য হাদীসে নবী কারীম ﷺ-এর যে কন্যাকে গোসলের বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তিনি হলেন তাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা হযরত যায়নাব (রা), আবুল আ'সের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি অষ্টম হিজরীর প্রথম দিকে ইন্তিকাল করেন। যে সকল মহিলা সাহাবী তাঁর গোসলে অংশগ্রহণ করছিলেন। তাঁদের মধ্যে আলোচ্য হাদীসের রাবী উম্মু আতিয়্যা আনসারিয়্যা (রা) ছিলেন অন্যতমা। এ ধরনের খিদমত আঞ্জাম দানের ক্ষেত্রে তিনি সদা প্রস্তুত থাকতেন। মৃত মহিলাদের লাশ গোসল করানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। বিশিষ্ট তাবিঈ ইবনে সীরীন (র) বলেন, আমি মৃতকে গোসল দানের পদ্ধতি তাঁর কাছেই শিখেছি।
আলোচ্য হাদীসে বরইপাতা দিয়ে পানি গরম করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। কারণ এর দ্বারা সহজেই শরীরের ময়লা দূর হয়ে যায়। এই যুগে শরীর পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্যে যেমন আমরা সাবান ব্যবহার করে থাকি, তেমনি সে যুগেও লোকেরা শরীরের ময়লা দূর করার উদ্দেশ্যে বরই পাতা দিয়ে পানি গরম করে নিত। তাই নবী কারীম ﷺ তিনবার গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনবোধে তিনবারেরও অধিক সংখ্যার ক্ষেত্রে হওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত, কেননা বোজোড় সংখ্যা আল্লাহর কাছে পসন্দনীয়। অর্থাৎ তিন, পাঁচবার ও প্রয়োজনবোধে সাতবারও গোসল করানো যেতে পারে। শেষবারে কর্পূর মিশিয়েও গোসল দেওয়া যেতে পারে যাতে সুগন্ধি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ব্যবস্থাই মৃতের সম্মান ও মর্যাদার দিক স্পষ্ট।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে নিজ কন্যাকে নিজের তহবন্দ দিয়ে গোসলকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তারা যেন তা তার দেহের সাথে লাগিয়ে পরান। এ পর্যায়ে আলিমগণ বলেন, আল্লাহর কোন প্রিয় মকবুল বান্দার পোশাক যদি বরকতের উদ্দেশ্যে মৃতকে পরিয়ে দেওয়া হয় তবে তা যেমন জায়িয। তেমনি উপকৃত হওয়ারও আশা করা যেতে পারে। তবে এসবের উপর ভিত্তি করে যদি আমল বাদ দিয়ে অচেতনভাবে দিন কাটায়, তবে নিঃসন্দেহে তা হবে গুমরাহী।
আলোচ্য রিওয়ায়াত দ্বারা একথা বুঝা যাচ্ছে না যে, নবী তনয়াকে কয় কাপড়ে কাফন পরানো হয়েছে। কিন্তু হাফিয ইবনে হাজার (র) জাওযাকীর সূত্রে উম্মু আতিয়্যা (রা) থেকে এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
فكفناها في خمسة أثواب وخمرناها كما يخمر الحي
"আমরা নবী দূহিতাকে পাঁচটি কাপড় দ্বারা কাফন পরিয়েছি "এবং জীবিতাবস্থায় যেমন তিনি ওড়না পরতেন তেমনি তাকে ওড়না পরিয়েছি।"
এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে মহিলাদের জন্য পাঁচটি কাপড় কাফনরূপে ব্যবহার করা সুন্নাতরূপে নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলোচ্য হাদীসে বরইপাতা দিয়ে পানি গরম করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। কারণ এর দ্বারা সহজেই শরীরের ময়লা দূর হয়ে যায়। এই যুগে শরীর পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন করে তোলার লক্ষ্যে যেমন আমরা সাবান ব্যবহার করে থাকি, তেমনি সে যুগেও লোকেরা শরীরের ময়লা দূর করার উদ্দেশ্যে বরই পাতা দিয়ে পানি গরম করে নিত। তাই নবী কারীম ﷺ তিনবার গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনবোধে তিনবারেরও অধিক সংখ্যার ক্ষেত্রে হওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত, কেননা বোজোড় সংখ্যা আল্লাহর কাছে পসন্দনীয়। অর্থাৎ তিন, পাঁচবার ও প্রয়োজনবোধে সাতবারও গোসল করানো যেতে পারে। শেষবারে কর্পূর মিশিয়েও গোসল দেওয়া যেতে পারে যাতে সুগন্ধি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ব্যবস্থাই মৃতের সম্মান ও মর্যাদার দিক স্পষ্ট।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আলোচ্য হাদীসে নিজ কন্যাকে নিজের তহবন্দ দিয়ে গোসলকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তারা যেন তা তার দেহের সাথে লাগিয়ে পরান। এ পর্যায়ে আলিমগণ বলেন, আল্লাহর কোন প্রিয় মকবুল বান্দার পোশাক যদি বরকতের উদ্দেশ্যে মৃতকে পরিয়ে দেওয়া হয় তবে তা যেমন জায়িয। তেমনি উপকৃত হওয়ারও আশা করা যেতে পারে। তবে এসবের উপর ভিত্তি করে যদি আমল বাদ দিয়ে অচেতনভাবে দিন কাটায়, তবে নিঃসন্দেহে তা হবে গুমরাহী।
আলোচ্য রিওয়ায়াত দ্বারা একথা বুঝা যাচ্ছে না যে, নবী তনয়াকে কয় কাপড়ে কাফন পরানো হয়েছে। কিন্তু হাফিয ইবনে হাজার (র) জাওযাকীর সূত্রে উম্মু আতিয়্যা (রা) থেকে এটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
فكفناها في خمسة أثواب وخمرناها كما يخمر الحي
"আমরা নবী দূহিতাকে পাঁচটি কাপড় দ্বারা কাফন পরিয়েছি "এবং জীবিতাবস্থায় যেমন তিনি ওড়না পরতেন তেমনি তাকে ওড়না পরিয়েছি।"
এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে মহিলাদের জন্য পাঁচটি কাপড় কাফনরূপে ব্যবহার করা সুন্নাতরূপে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: