আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১৪- রোযার অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ১১৩৪-১
- রোযার অধ্যায়
১৮. আশুরার কোন দিন রোযা রাখা হবে
২৫৩৭। হাসান ইবনে আলী দাওয়ানী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আশূরার দিন রোযা পালন করেন এবং লোকদেরকে রোযা পালনের নির্দেশ দেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইয়াহুদী এবং নাসারা এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা নবম তারিখেও রোযা পালন করব। বর্ণনাকারী বলেন, এখনো আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইনতেকাল হয়ে যায়।
كتاب الصيام
باب أَىُّ يَوْمٍ يُصَامُ فِي عَاشُورَاءَ
وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا غَطَفَانَ بْنَ طَرِيفٍ الْمُرِّيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ، بْنَ عَبَّاسٍ - رضى الله عنهما - يَقُولُ حِينَ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ - إِنْ شَاءَ اللَّهُ - صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ " . قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
একথা স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরামের আপত্তি পেশ করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওফাতের কিছুকাল পূর্বে এ কথাটি বলেছিলেন। এতটুকু পূর্বে যে, এর পর তাঁর জীবদ্দশায় মুহাররম মাস আর আসেই নাই, আর এজন্য এ নতুন সিদ্ধান্তের উপর আমল করা আর হুযুর (ﷺ)-এর জীবনে সম্ভব হয়নি। কিন্তু উম্মত পথনির্দেশ পেয়ে গেল যে, এ ধরনের হিস্যাদারী ও সাদৃশ্য থেকে বেঁচে থাকা চাই। যেমন তিনি এ উদ্দেশ্যে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে, ইন্শাআল্লাহ্ আগামী বছর আমরা নবম তারিখে রোযা রাখব।
মুহাররম মাসের নয় তারিখে রোযা রাখার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, এর দু'টি অর্থ হতে পারে। (১) আমরা আগামীতে ১০ তারিখের স্থলে ৯ই মুহাররম এ রোযা রাখব। (২) আগামীতে ১০ তারিখের সাথে আমরা ৯ তারিখেও রোযা রেখে নিব এবং এভাবে আমাদের এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের আমলের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, আশুরা দিবসের সাথে এর আগে নয় তারিখের রোযাও রেখে নেওয়া চাই। আর যদি কোন কারণে নয় তারিখে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরের দিন অর্থাৎ, ১১ তারিখে রোযা রেখে নেওয়া হবে।
মুহাররম মাসের নয় তারিখে রোযা রাখার যে সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন, এর দু'টি অর্থ হতে পারে। (১) আমরা আগামীতে ১০ তারিখের স্থলে ৯ই মুহাররম এ রোযা রাখব। (২) আগামীতে ১০ তারিখের সাথে আমরা ৯ তারিখেও রোযা রেখে নিব এবং এভাবে আমাদের এবং ইয়াহুদী ও নাসারাদের আমলের মধ্যে পার্থক্য হয়ে যাবে। অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এ দ্বিতীয় অর্থটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, আশুরা দিবসের সাথে এর আগে নয় তারিখের রোযাও রেখে নেওয়া চাই। আর যদি কোন কারণে নয় তারিখে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে তার পরের দিন অর্থাৎ, ১১ তারিখে রোযা রেখে নেওয়া হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)