খ্রিস্টানরা কি কাফের ও মুশরিক?
প্রশ্নঃ ১১৮৫০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম,
আমি জানতে চাচ্ছি যে, খ্রিস্টানরা কি কাফের বা মুশরিক কিনা? বিশেষত, যারা ঈশা আলাইহিওয়াসাল্লামকে আল্লাহর পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করে যা কুরআনে ও বর্ণিত আছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তারা যদি ঈশা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করে তবে তারা মুশরিক নয় কেন এবংআল্লাহ কি তাদের মুশরিক হিসেবে ঘোষণা করেছেন নাকি আহলে কিতাব হিসেবে অভিহিত করেছেন? প্রাসঙ্গিক আরো বিষয় উল্লেখ করে উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো। আল্লাহ হাফেজ।
২৭ ডিসেম্বর, ২০২১
New Oxford, Adams County, PA, United States
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হ্যাঁ! ইহুদী এবং খ্রিষ্টনগণ কাফের। আল্লাহ তায়ালাই তাদের কাফের এবং মুশরিক হিসেবে গণ্য করেছেন। আল্লাহ তায়ালা সুরা তাওবাহ এর ৩০-৩১ নং আয়াতে ইরশাদ করেন,
وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ - ذَٰلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ ۚ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ
-
أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ (30)
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَٰهًا وَاحِدًا ۖ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ (31)
“আর ইয়াহুদীরা বলে,
উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং খ্রিষ্টানরা বলে, মাসীহ আল্লাহর পুত্র। এটা তাদের মুখের কথা মাত্র (বাস্তবে তা কিছুই নয়)। তারা তো তাদের মতই কথা বলছে,যারা তাদের পূর্বে কুফরি করেছে। আল্লাহ্ তাদেরকে ধ্বংস করুন, তারা উল্টা কোন দিকে যাচ্ছে! তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পণ্ডিত-পুরোহিতদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং মারিয়াম পুত্র মসীহকেও। অথচ তাদেরকে শুধু এই আদেশ করা হয়েছিল যে, তারা শুধুমাত্র একক উপাস্যের উপাসনা করবে, যিনি ব্যতীত (সত্য) উপাস্য আর কেউই নেই, তিনি তাদের অংশী স্থির করা থেকে পবিত্র।” (সুরা তাওবাহঃ ৩০-৩১)
আল্লাহ তায়ালা আরো ইরশাদ করেন,
لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُواْ اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ(71) لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلاَّ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِن لَّمْ يَنتَهُواْ عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ (72)
তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময় তনয় মসীহ-ই আল্লাহ। অথচ মসীহ বলেন, হে বণী-ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশিদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। আর অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই। “নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, আল্লাহ তিনের এক! অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোন উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে ফিরে না আসে তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরিতে অটল থাকবে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে। (সুরা মায়েদাহ আয়াত: ৭২-৭৩)
সুরা আরাফে ইরশাদ হয়েছে-
وَإِن كَانَ طَائِفَةٌ مِّنكُمْ آمَنُوا بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ وَطَائِفَةٌ لَّمْ يُؤْمِنُوا فَاصْبِرُوا حَتَّىٰ يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَنَا ۚ وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ
আমার মাধ্যমে যা পাঠানো হয়েছে, তাতে যদি তোমাদের এক দল ঈমান। আনে এবং অন্য দল ঈমান না আনে, তবে সবর কর, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেন।আর তিনি শ্রেষ্ঠতম ফায়সালাকারী। (সুরা আরাফ-৮৭)
এছাড়াও হাদিস শরিফের অসংখ্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সা. যারা তাকে মানবে না তাদের কাফের এবং অবিশ্বাসী বলে অবহিত করেছেন।
সুতরাং বিশ্বায়নের কথা বলে কিংবা অন্তঃধর্মের টোপ গিলে কাফেরকে কাফের মনে না করা আল্লাহ তায়ালার সাথে বিরুদ্ধাচারণের শামিল। তবে তাদের সাথে আমাদের রাজনৈতিক, অর্থেনৈকি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কি হবে সেটা একটা ভিন্ন প্রসংঙ্গ যা এই প্রশ্নের আলোচ্য বিষয় নয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বুঝার তাওফিক দান করুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি সাইদুজ্জামান কাসেমি
বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর
বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১