রাগের মাথায় কুফরি কথা বলার বিধান
প্রশ্নঃ ১৩২২৬৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কেউ যদি রাগের বশে ভুল করে কুফরি কথা বলে ফেলে তাহলে সে কি কাফের হয়ে যাবে?? বিবাহিত হলে কি বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে???
৪ জানুয়ারী, ২০২৬
আক্কেলপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যদি সুস্থ মস্তিষ্কে, জেনে-বুঝে এবং কুফরি করার উদ্দেশ্যে কোনো কথা বলে, তবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।
আর যদি রাগের মাত্রা এমন হয় যে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায় এবং সে কী বলছে তা নিজেই বুঝতে পারে না (একে ফিকহের ভাষায় 'মাজলুব' অবস্থা বলা হয়), তবে সেই অবস্থায় মুখ দিয়ে কুফরি কথা বের হলেও সে কাফের হবে না। কারণ তার ইচ্ছা বা 'কসদ' ছিল না।
মুখের ভুল (সাকতাতুল লিসান): কথা বলতে গিয়ে ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত কুফরি শব্দ বের হয়ে গেলে ঈমান নষ্ট হয় না।
সারকথা: যদি ওই ব্যক্তি মনেপ্রাণে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর বিশ্বাস রাখেন এবং রাগের মাথায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমনটি বলে ফেলেন যার জন্য তিনি এখন অনুতপ্ত, তবে তিনি কাফের হবেন না। তবে এই ধরনের কথা বলা কবিরা গুনাহ।
বিবাহ কি বিচ্ছেদ হয়ে যাবে?
বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি ঈমান থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করে:
যদি ঈমান নষ্ট না হয়: যদি রাগের তীব্রতায় জ্ঞান হারিয়ে কথাটি বলা হয় (যা উপরে আলোচনা করা হয়েছে), তবে ঈমান নষ্ট হবে না এবং বিবাহও বিচ্ছেদ হবে না।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
আয়াতঃ
لَا یُکَلِّفُ اللّٰہُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَہَا ؕ لَہَا مَا کَسَبَتۡ وَعَلَیۡہَا مَا اکۡتَسَبَتۡ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَاۤ اِنۡ نَّسِیۡنَاۤ اَوۡ اَخۡطَاۡنَا
অর্থঃ আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না। তার কল্যাণ হবে সে কাজেই যা সে স্বেচ্ছায় করে এবং তার ক্ষতিও হবে সে কাজেই, যা সে স্বেচ্ছায় করে। (হে মুসলিমগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে এই দু‘আ কর যে,) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না। সুরা আল-বাকরা : 286।
রাসূল সা. এক হাদিসে বলেন,
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْهُذَلِيُّ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ
২০৪৩। ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইয়ূসুফ ফিরয়াবী (রাহঃ).... আবু যর গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল-বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কোন কাজে বাধ্য করা হলে, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।
সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নংঃ ২০৪৩
তবে এ ধরণের কথা যে পরিস্থিতিতেই বের হোক না কেন, তার জন্য তাওবা করে ভবিষ্যতে যেন এ ধরণের কথা মুখ দিয়ে না বের হয়, তার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে। সাথে সাথে সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে ইমানের ওপর অটল-অবিচল থাকার দুআ করে যেতে হবে। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন। আমীন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১