স্বামীর অনুমতি ছাড়া বাবার বাড়িতে সম্পদ টাকাপায়সা পাঠানো
প্রশ্নঃ ১৫৯৭৮৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন মহিলা। আমি আমার ছেলের রুজি থেকে স্বামীর ঘরের খরচ জাতীয় জিনিস স্বামীর অনুমতি ছাড়া লুকিয়ে কি আমার বাবার বাড়ি দিতে পারব?
৩ জুলাই, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
সম্পদ যার তার অনুমতি ছাড়া সেই সম্পদ ব্যবহার করা, কাউকে দান-হেবা-গিফট করা জায়েজ নাই। কাজেই আপনার জন্য আপনার সংসারের সম্পদ স্বামী-সন্তানের অনুমতি ছাড়া বাবার বাড়িতে পাঠানো জায়েজ হবে না। কেননা প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেই মাল সন্তানের কামাই করা। আর সন্তান কামাই করে পিতামাতাকে দিয়েছে নিজেদের সংসারে ব্যয় করার জন্য। মায়ের পিত্রালয়ে (নানার বাড়িতে) পাঠানোর জন্য নয়।
আপনার বাবার বাড়ীর লোকজন যদি প্রকৃত পক্ষেই অভাবী হয় এবং তারা আপনার সাহায্য সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হয় তাহলে স্বামী-ছেলের অনুমতি সাপেক্ষে আপনি তাদের সহযোগিতা করতে পারেন।
- إذا صلَّت المرأةُ خمسَها وصامت شهرَها وحفِظت فرجَها وأطاعت زوجَها قيل لها ادخُلي الجنَّةَ من أيِّ أبوابِ الجنَّةِ شئتِ
أخرجه أحمد (1661) واللفظ له، والطبراني في ((المعجم الأوسط)) (8805)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "কোনো নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রমজানের রোজা রাখে, তার সতীত্ব (লজ্জাস্থান) সংরক্ষণ করে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করে, তখন তাকে বলা হবে: জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর।"
স্বামীর মাল হেফাজত করা, তার যথাযথ ব্যবহার করা স্ত্রীর দায়িত্ব। স্ত্রীর হাতে স্বামীর সম্পদ আমানত। সেই আমানতের খেয়ানত করা জায়েজ নাই।
কেননা, শরিয়তের দৃষ্টিতে আমানত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমানত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন-
﴿إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تُؤَدُّواْ ٱلۡأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهۡلِهَا﴾ [النساء: 58]
(হে মুসলিমগণ!) নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারকে আদায় করে দেবে। -সূরা নিসা, আয়াত নং ৫৮
আমানত রক্ষা করা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমানতকে ঈমানের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ.
যার মধ্যে আমানত নেই তার ঈমান নেই। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৩৮৩; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস নং ৩২৩৩২
আমানত আদায় ও খেয়ানত করা নিষেধ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে-
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنْ ائْتَمَنَكَ، وَلاَ تَخُنْ مَنْ خَانَكَ.
যে তোমার নিকট আমানত রেখেছে তার আমানত আদায় করে দাও। যে তোমার সাথে খেয়ানত করেছে তার সাথেও খেয়ানত করো না। -সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১২৬৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫৩৫
সুতরাং সর্বাবস্থায় সর্ব প্রকার আমানত রক্ষা করা অতীব জরুরি। সামান্য পার্থিব উদ্দেশ্যে আমানতের খেয়ানত করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
من المستندات الشرعية
** «الدر المختار» (6/ 200):
«لا يجوز التصرف في مال غيره بلا إذنه ولا ولايته»
** « الفتاوى الهندية» (4/ 338):
«فأما وجوب الحفظ فيلزم على المودع فلا بد من قبوله، والدلالة إذا وضع عنده متاعا ولم يقل شيئا، أو قال: هذا وديعة عندك، وسكت الآخر صار مودعا حتى لو غاب الآخر فضاع ضمن؛ لأنه إيداع وقبول عرفا، كذا في خزانة المفتين.»
«وأما حكمها فوجوب الحفظ على المودع وصيرورة المال أمانة في يده ووجوب أدائه عند طلب مالكه، كذا في الشمني.»
** «مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح» (1/ 126):
«وَحَقُّ الْأَمَانَةِ أَنْ تُؤَدَّى إِلَى أَهْلِهَا، فَالْخِيَانَةُ مُخَالَفَةٌ لَهَا،»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১