মুখের তিল/মাশ অপসারণে লেজার চিকিৎসা: শরিয়তের বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৩৩৬৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আস-সালামু আ'লাইকুম ওয়া-রহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতুহ,আমার মুখে একটা তিল/মাশ আছে।যেটা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার ভয় হচ্ছে যেটা আমার সৌন্দর্য নষ্ট করে ফেলবে। তাই আমি চাচ্ছি লেজার ট্রিটমেন্টের সাহায্য দিতে। যাতে করে আমি এই সমস্যাটা হাত থেকে বাঁচতে পারি। এ কাজটি করা কি আমার জন্য জায়েজ হবে?
৪ আগস্ট, ২০২৬
৪V৭M+৬৭M
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মুখের তিল/মাশটি যেহেতু সময়ের সঙ্গে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এতে চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই তা অপসারণের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা মূলত জায়েয। লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে তা অপসারণ করাও জায়েয হবে।
কারণ, এখানে উদ্দেশ্য নিছক সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আল্লাহর সৃষ্টিগত আকৃতিতে পরিবর্তন আনা নয়; বরং ক্রমবর্ধমান একটি অস্বাভাবিকতা দূর করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা। চিকিৎসার প্রয়োজনে এ ধরনের পরিবর্তন শরিয়তে নিষিদ্ধ নয়।
তবে চিকিৎসা করতে গিয়ে শরীরের অন্য কোনো ক্ষতি হওয়া যাবে না। অর্থাৎ লেজার বা অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে যদি শরীরে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে সে পদ্ধতি গ্রহণ করা জায়েয হবে না। তাই অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে।
সারকথা: ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া তিল/মাশ যদি চেহারার সৌন্দর্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাহলে শরীরের অন্য কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে তা লেজার বা উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতির মাধ্যমে অপসারণ করা জায়েয হবে।
** سنن أبي داود : رقم الحديث- 4232
أن عَرْفَجَةَ بْنَ أَسْعَدَ قُطِعَ أَنْفُهُ يَوْمَ الْكُلاَبِ فَاتَّخَذَ أَنْفًا مِنْ وَرِقٍ فَأَنْتَنَ عَلَيْهِ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاتَّخَذَ أَنْفًا مِنْ ذَهَبٍ .
** «شرح النووي على مسلم» (14/ 107):
«وَأَمَّا قَوْلُهُ الْمُتَفَلِّجَاتُ لِلْحُسْنِ فَمَعْنَاهُ يَفْعَلْنَ ذَلِكَ طَلَبًا لِلْحُسْنِ وَفِيهِ إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّ الْحَرَامَ هُوَ الْمَفْعُولُ لطلب الحسن أما لواحتاجت إِلَيْهِ لِعِلَاجٍ أَوْ عَيْبٍ فِي السِّنِّ وَنَحْوِهِ فلابأس والله أعلم»
* * فتاوى قاضيخان : 3/410
و في الفتاوى
** الفتاوى التاتار خانية : 18/288
إذا أراد أن يقطع إصبعا زائدة أو شيئا آخر، قال النصير رحمه الله تعالى : إن كان الغالب على من قطع مثل ذلك الهلاك فإنه لا يفعل؛ لأنه يعرض النفس للهلاك، وإن كان الغالب هو النجاة فهو في سعة من ذلك.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১