পশুর সাথে যৌনাচারের বিধান ও শাস্তি
প্রশ্নঃ ১৬৯১৭৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, পশুর সাথে সঙ্গম করলে তার বিচার কি ও পশুটির হুকুম কি?
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মঠবাড়ীয়া
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
পশুর সাথে সঙ্গম বা যৌন প্রবৃত্তি চরিতার্থ করাকে ইসলাম এবং আধুনিক আইন উভয় ক্ষেত্রেই জঘন্য পাপ ও অনৈতিক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তবে ফোকহা এবং মুহাদ্দিসদের মধ্যে এ বিষয়ে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, এটি যিনার হুদুদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এর জন্য বিচারক বা শাসক কঠোর তাজীর (বিবেচনামূলক শাস্তি বা কারাদণ্ড) দেবেন এবং পশুটিকে জবাই করে পুড়িয়ে ফেলা বা অন্য কোনো উপায়ে নষ্ট করা হবে যাতে এর গোশত খাওয়া না হয় এবং লজ্জার স্মৃতি না থাকে। অন্যদিকে অন্য কিছু বর্ণনায় শাস্তির কথা নেই বলেও উল্লেখ আছে।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ
قَالَ لَيْسَ عَلَى الَّذِي يَأْتِي الْبَهِيمَةَ حَدٌّ .
পশুর সাথে সঙ্গমকারীর কোন শাস্তি নেই।
قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ عَطَاءٌ وَقَالَ الْحَكَمُ أَرَى أَنْ يُجْلَدَ وَلاَ يَبْلُغَ بِهِ الْحَدَّ . وَقَالَ الْحَسَنُ هُوَ بِمَنْزِلَةِ الزَّانِي .
ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আতা রহ. ও এরূপ বর্ণনা করেছেন। আর হাকাম (রাহঃ) বলেনঃ আমার মতে তাকে চাবুক মারতে হবে, তবে সমকামীদের চাইতে তার বেত্রাদণ্ডের সাজা কিছু কম হতে হবে। রাবী হাসান (রাহঃ) বলেনঃ সে ব্যক্তির শাস্তি যিনাকারীর ন্যায়।
(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৪০৬, আন্তর্জাতিক নং: ৪৪৬৫)
হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/18753
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ " . فَقِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا شَأْنُ الْبَهِيمَةِ قَالَ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَيْئًا وَلَكِنْ أُرَى رَسُولَ اللَّهِ كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْ لَحْمِهَا أَوْ يُنْتَفَعَ بِهَا وَقَدْ عُمِلَ بِهَا ذَلِكَ الْعَمَلُ
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পশুর সাথে উপগত হতে যদি কাউকে পাও তবে তাকে কতল করে দাও এবং পশুটিকেও। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলা হল পশুটির ব্যাপার কি? তিনি বললেন, এই বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কিছু শুনিনি। তবে আমার মনে হয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গোশত খাওয়া এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়া পছন্দ করেন নি। কারণ, এর সাথে এ অশ্লীল কাজ করা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ: ২৫৬৪)
ধর্ষণের শিকার প্রাণীকে কেন হত্যা করা হবে?
যেই প্রাণীর সাথে কোনো মানুষ সহবাস করেছে, তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার কারণ হলো—এই পশুটি জীবিত থাকলে লোকজন একে নিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলবে। তাছাড়া, এর গোশতও কেউ ঘৃণা ও সংকোচে খাবে না। পাশাপাশি, এই প্রাণীর গর্ভ থেকে কোনো বিকৃত প্রাণীর জন্ম হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। একারণেই শরীয়ত এই বিধান দিয়েছে।
ফকীহগণের বিশদ মতপার্থক্যের বিষয়ে "আল-মৌসূআ আল-ফিকহিয়্যা" (২৪/৩৩)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামহুর ফকীহগণের মতে পশুর সাথে কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থাকারীর ওপর কোনো হাদ্দ (নির্দিষ্ট শাস্তি) নেই, তবে তাকে তাযীর বা শাসন করা হবে; যা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে শাফেঈ ও আহমাদ ইবনে হাম্বলের একটি বর্ণনায় একে যিনার সমতুল্য হাদ্দ বলা হয়েছে, আবার শাফেঈদের অন্য মতে তাকে নিঃশর্তে হত্যার বিধান রয়েছে।
পশু হত্যার মাসআলা ও এর গোশত খাওয়ার বিধান সম্পর্কে জমহুর (হানাফী, মালিকী ও শাফেঈ) মত হলো পশু হত্যা করা হয় না; মালিকী ও শাফেঈ মতে তা জবাই করলে হালাল ও করাহিয়াতমুক্ত, তবে আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ এর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং জবাই করে পুড়িয়ে ফেলার মত দিয়েছেন, যেখানে ইমাম আবু হানাফী তা জায়েজ বলেছেন এবং হানাফীগণ জীবিত বা মৃত সর্বাবস্থায় তা থেকে উপকার নেওয়া মাকরুহ বলেছেন। অন্যদিকে হাম্বলী এবং শাফেঈদের একটি মতে বাহীমা বা পশুটিকে হত্যা করা ওয়াজিব—চাই তা মালিকানাধীন হোক বা না হোক, খাওয়ার উপযোগী হোক বা না হোক।
وجاء في "الموسوعة الفقهية" (24/33) : " ذهب جماهير الفقهاء إلى أنه لا حد على من أتى بهيمة لكنه يعزر , لما روي عن ابن عباس رضي الله تعالى عنهما أنه قال : من أتى بهيمة فلا حد عليه . ومثل هذا لا يقوله إلا عن توقيف , ولأن الطبع السليم يأباه فلم يحتج إلى زجر بحد . وعند الشافعية قول : إنه يحد حد الزنى وهو رواية عن أحمد , وعند الشافعية قول آخر : بأنه يقتل مطلقا محصنا كان أو غير محصن ... ومذهب جمهور الفقهاء ( الحنفية والمالكية والشافعية ) أنه لا تقتل البهيمة , وإذا قتلت فإنها يجوز أكلها من غير كراهة إن كانت مما يؤكل عند المالكية والشافعية , ومنع أبو يوسف ومحمد أكلها . وقالا : تذبح وتحرق . وأجازه أبو حنيفة , وقد صرح الحنفية بكراهة الانتفاع بها حية وميتة .
وذهب الحنابلة إلى أن البهيمة تقتل سواء كانت مملوكة له أو لغيره . وسواء كانت مأكولة أو غير مأكولة . وهذا قول عند الشافعية , لما روى ابن عباس مرفوعا قال : (من وقع على بهيمة فاقتلوه واقتلوا البهيمة) . وعند الشافعية قول آخر : إنها تذبح إن كانت مأكولة , وصرحوا بحرمة أكلها إن كانت من جنس ما يؤكل " انتهى
وقال ابن قدامة رحمه الله في "المغني" (9/60) : "
واختلف في علة قتلها فقيل إنما قتلت لئلا يعير فاعلها ويذكر برؤيتها، وقد روى ابن بطة بإسناده عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه قال : من وجدتموه على بهيمة فاقتلوه واقتلوا البهيمة. قالوا يا رسول الله ما بال البهيمة ؟ قال : لا يقال هذه وهذه. و قيل : لئلا تلد خلقا مشوها وقيل : لئلا تؤكل وإليه أشار ابن عباس في تعليله. المغني
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১