ব্যাংকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করা কি যায়েজ?
প্রশ্নঃ ১৬৯৪৫৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ব্যাংকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করা কি যায়েজ?
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকা ১২০৭
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সুদভিত্তিক ব্যাংকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করার বিষয়টি কেবল এক বাক্যে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে ফয়সালা করা কঠিন। কারণ, আধুনিক ইসলামি আইনবিদদের (ফুকাহা) দৃষ্টিতে ব্যাংকের চাকরিকে প্রধানত দুটি ভাগে দেখা হয়—একদল যারা সরাসরি সুদি লেনদেনের সাথে যুক্ত, আর অন্যদল যারা সুদের সাথে সরাসরি সম্পর্কহীন সহায়ক বা কারিগরি কাজে নিয়োজিত। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ মূলত দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাই বিষয়টি একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
মূলত এখানে শরিয়তের দুটি মৌলিক নীতি কাজ করছে:
প্রথমত, সূরা আল-বাকারায় (২:২৭৫) আল্লাহ তাআলা সুদকে দ্ব্যর্থহীনভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন।
দ্বিতীয়ত, সূরা আল-মায়িদায় (৫:২) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহায়তা না করতে।
দ্বিতীয়ত, সূরা আল-মায়িদায় (৫:২) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহায়তা না করতে।
এখন প্রশ্ন হলো, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার যিনি ব্যাংকের ভবন নির্মাণ বা অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন, তিনি কি সুদের কাজে সরাসরি সহায়তা করছেন, নাকি নিছক এমন একটি ভৌত সেবা দিচ্ছেন যা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রয়োজন?
অধিকাংশ ফুকাহায়ে কেরামের মত অনুযায়ী, এ ধরনের কারিগরি পদগুলোতে চাকরি করা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। তাদের ব্যাখ্যা হলো:
ব্যাংকের যেসব পদে সরাসরি সুদের হিসাব রাখা, ঋণ দেওয়া-নেওয়া, চুক্তিপত্র লেখা বা সাক্ষী হওয়ার মতো কাজ করতে হয়—সেগুলো সম্পূর্ণ হারাম। কারণ হাদিস অনুযায়ী সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, লেখক ও সাক্ষী—সবাই সমান পাপী।
ব্যাংকের যেসব পদে সরাসরি সুদের হিসাব রাখা, ঋণ দেওয়া-নেওয়া, চুক্তিপত্র লেখা বা সাক্ষী হওয়ার মতো কাজ করতে হয়—সেগুলো সম্পূর্ণ হারাম। কারণ হাদিস অনুযায়ী সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, লেখক ও সাক্ষী—সবাই সমান পাপী।
কিন্তু সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, আইটি ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার বা নিরাপত্তারক্ষীর মতো পদগুলোতে সরাসরি কোনো সুদি চুক্তি বা লেনদেন হয় না। একজন প্রকৌশলী হিসেবে তিনি কেবল একটি ভৌত অবকাঠামো তৈরি বা দেখাশোনা করছেন, যা নিজে একটি হালাল ও পেশাগত সেবা। তিনি যে বেতন পাচ্ছেন, তা তার মেধা ও কায়িক শ্রমের পারিশ্রমিক, সুদের কোনো অংশ নয়। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটি যদি সরকারি ব্যাংক হয়, তবে সরকারি চাকুরের অংশ হিসেবে এমন নিরপেক্ষ কাজ করার অবকাশ ইসলামে আরও প্রশস্ত।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, কাজটি সরাসরি হারাম না হলেও প্রতিষ্ঠানটির মূল ভিত্তি সুদের ওপর হওয়ায় এমন চাকরিতে থাকা তাকওয়ার দৃষ্টিতে অনুত্তম। ফিকহের ‘প্রয়োজনীয়তার নীতি’ (জরুরত বা হাজত) অনুযায়ী—কারো যদি জীবিকার অন্য কোনো বিকল্প পথ না থাকে, তবে তিনি সাময়িকভাবে এমন পদে চাকরি করতে পারেন। তবে পাশাপাশি কোনো নির্ভেজাল হালাল কর্মক্ষেত্রের সন্ধান চালিয়ে যাওয়া উচিত।
صحيح مسلم (٥/٥٠)
عن جابر قال: لعن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال: هم سواء.
فقه البيوع: (٢/١٠٦٤)
السابع: أن يؤجر المرء نفسه للبنك بأن يقبل فيه وظيفة، فإن كانت الوظيفة تتضمن مباشرة العمليات الربوية، أو العمليات المحرمة الأخرى، فقبول هذه الوظيفة حرام، وذلك مثل التعاقد بالربا أخذا أو عطاء، أو خصم الكمبيالات، أو كتابة هذه العقود، أو التوقيع عليها۔۔۔۔۔ من كان موظفا في البنك بهذا الشكل، فإن راتبه الذي يأخذ من البنك كله من الأكساب المحرمة۔۔۔۔ أما إذا كانت الوظيفة ليس لها علاقة مباشرة بالعمليات الربوية، مثل وظيفة الحارس أو سائق السيارة۔۔۔۔ فلا يحرم قبولها إن لم يكن بنية الإعانة على العمليات المحرمة، وإن كان الاجتناب عنها أولى، ولا يحكم في راتبه بالحرمة.
عن جابر قال: لعن رسول الله -صلى الله عليه وسلم- آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال: هم سواء.
فقه البيوع: (٢/١٠٦٤)
السابع: أن يؤجر المرء نفسه للبنك بأن يقبل فيه وظيفة، فإن كانت الوظيفة تتضمن مباشرة العمليات الربوية، أو العمليات المحرمة الأخرى، فقبول هذه الوظيفة حرام، وذلك مثل التعاقد بالربا أخذا أو عطاء، أو خصم الكمبيالات، أو كتابة هذه العقود، أو التوقيع عليها۔۔۔۔۔ من كان موظفا في البنك بهذا الشكل، فإن راتبه الذي يأخذ من البنك كله من الأكساب المحرمة۔۔۔۔ أما إذا كانت الوظيفة ليس لها علاقة مباشرة بالعمليات الربوية، مثل وظيفة الحارس أو سائق السيارة۔۔۔۔ فلا يحرم قبولها إن لم يكن بنية الإعانة على العمليات المحرمة، وإن كان الاجتناب عنها أولى، ولا يحكم في راتبه بالحرمة.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১