সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল আদিয়াত (الـعاديات) | অভিযানকারী

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ১১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

وَالۡعٰدِیٰتِ ضَبۡحًا ۙ ١

ওয়াল ‘আ-দিয়া-তি দাবহা-।

শপথ সেই ঘোড়াসমূহের, যারা ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ায়

فَالۡمُوۡرِیٰتِ قَدۡحًا ۙ ٢

ফাল মূরিয়া-তি কাদহা-।

তারপর যারা (খুরের আঘাতে) অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উৎক্ষিপ্ত করে।

فَالۡمُغِیۡرٰتِ صُبۡحًا ۙ ٣

ফাল মুগীরা-তি সুবহা-।

তারপর প্রভাতকালে আক্রমণ চালায়

فَاَثَرۡنَ بِہٖ نَقۡعًا ۙ ٤

ফাআছারনা বিহী নাক‘আ-।

এবং তখন ধুলো উড়ায়

فَوَسَطۡنَ بِہٖ جَمۡعًا ۙ ٥

ফাওয়াছাতানা বিহী জাম‘আ-।

তারপর সেই সময়ই (শত্রু সৈন্যের) কোন ভীড়ের মাঝখানে ঢুকে পড়ে।

তাফসীরঃ

১. এর দ্বারা জঙ্গী ঘোড়া বোঝানো হয়েছে, যাতে চড়ে সেকালে যুদ্ধ করা হত। প্রথম দিকের আয়াতসমূহে সেই ঘোড়াদের যুদ্ধকালীন বিভিন্ন অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। তো সেই অবস্থাবিশিষ্ট ঘোড়াদের শপথ করার তাৎপর্য এই যে, জঙ্গী ঘোড়া মালিকের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ভক্ত হত যে, প্রভুর আদেশ পালনের জন্য কোনও রকমের ঝুঁকি গ্রহণে ইতস্তত করে না। এমনকি তার জীবন রক্ষার জন্য নিজ প্রাণের ঝুঁকি পর্যন্ত গ্রহণ করে। এতবড় শক্তিশালী প্রাণীকে আল্লাহ তাআলা মানুষের কতইনা অনুগত ও ওফাদার বানিয়ে দিয়েছেন। এর দ্বারা গুনাহগার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, ঘোড়া তো নিজ প্রভুর এ রকম ভক্ত ও বিশ্বস্ত, অথচ মানুষ হয়ে সে নিজ স্রষ্টা ও মালিকের ওফাদারী করছে না, তাঁর অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে না, উল্টো তার নাফরমানীতে লিপ্ত হয়েছে। ৬নং আয়াতে সে কথাই বলা হচ্ছে যে, মানুষ তার প্রতিপালকের বড়ই অকৃতজ্ঞ।

اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لِرَبِّہٖ لَکَنُوۡدٌ ۚ ٦

ইন্নাল ইনছা-না লিরাব্বিহী লাকানূদ।

মানুষ তার প্রতিপালকের বড়ই অকৃতজ্ঞ।

وَاِنَّہٗ عَلٰی ذٰلِکَ لَشَہِیۡدٌ ۚ ٧

ওয়া ইন্নাহূ‘আলা-যা-লিকা লাশাহীদ।

এবং সে নিজেই এ বিষয়ে সাক্ষী

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ তার কার্যকলাপ সাক্ষ্য দেয় যে, সে বড় অকৃতজ্ঞ।

وَاِنَّہٗ لِحُبِّ الۡخَیۡرِ لَشَدِیۡدٌ ؕ ٨

ওয়া ইন্নাহূলিহুব্বিল খাইরি লাশাদীদ।

এবং বস্তুত সে ধন-সম্পদের ঘোর আসক্ত

তাফসীরঃ

৩. এর দ্বারা অর্থ-সম্পদের এমন আসক্তি বোঝানো হয়েছে, যা দীনী দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে বাধা হয় বা গুনাহে লিপ্ত হতে উৎসাহ যোগায়।

اَفَلَا یَعۡلَمُ اِذَا بُعۡثِرَ مَا فِی الۡقُبُوۡرِ ۙ ٩

আফালা-ইয়া‘লামুইযা-বু‘ছিরা মা-ফিল কুবূর।

তবে কি সে সেই সময় সম্পর্কে জ্ঞাত নয়, যখন কবরে যা-কিছু আছে তা বাইরে উৎক্ষিপ্ত হবে
১০

وَحُصِّلَ مَا فِی الصُّدُوۡرِ ۙ ١۰

ওয়া হুসসিলা মা-ফিসসুদূর,

এবং বুকের ভেতর যা-কিছু আছে, তা প্রকাশ করে দেওয়া হবে?

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ মৃতদেরকে কবর থেকে বের করে ফেলা হবে এবং মানুষের মনে যেসব কথা গোপন আছে, তা প্রকাশ হয়ে যাবে।
১১

اِنَّ رَبَّہُمۡ بِہِمۡ یَوۡمَئِذٍ لَّخَبِیۡرٌ ٪ ١١

ইন্না রাব্বাহুম বিহিম ইয়াওমাইযিল্লাখাবীর।

নিশ্চয়ই তাদের প্রতিপালক সে দিন তাদের (যে অবস্থা হবে, সে) সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবহিত।
সূরা আল আদিয়াত | মুসলিম বাংলা