সূরা
পারা
Loading verses...
সূরা
পারা
Loading verses...
অন্যান্য
অনুবাদ
তেলাওয়াত
সূরা আল ফীল (الـفيل) | হাতি
মাক্কী
মোট আয়াতঃ ৫
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
اَلَمۡ تَرَ کَیۡفَ فَعَلَ رَبُّکَ بِاَصۡحٰبِ الۡفِیۡلِ ؕ ١
আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বিআসহা-বিল ফীল।
তুমি কি দেখনি তোমার প্রতিপালক হাতিওয়ালাদের সাথে কী ব্যবহার করেছেন? ১
তাফসীরঃ
১. ইশারা আবরাহার সেনাবাহিনীর প্রতি, যারা কাবা শরীফের উপর হামলা চালানোর জন্য হাতির উপর সওয়ার হয়ে এসেছিল। [الفيل ‘ফীল’ মানে হাতি। এরই থেকে সূরাটির নাম হয়েছে সূরা ফীল]। আবরাহা ছিল ইয়ামানের শাসক। সে ইয়ামানে এক জমকালো গির্জা নির্মাণ করে ইয়ামানবাসীদের মধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছিল, এখন থেকে কেউ আর হজ্জ করার জন্য মক্কায় যাবে না। এই গির্জাকেই বায়তুল্লাহ মনে করবে।
আরবের মানুষ যদিও মূর্তিপূজক ছিল, কিন্তু হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের তালীম ও তাবলীগের কারণে কাবা শরীফের মর্যাদা তাদের অন্তরে বদ্ধমূল ছিল। কাজেই আবরাহার এ ঘোষণার কারণে তাদের অন্তরে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও ঘৃণা সৃষ্টি হল। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল এভাবে যে, কেউ গিয়ে রাতের বেলা সেই গীর্জায় মলত্যাগ করে আসল। কোন-কোন বর্ণনায় আছে, গীর্জাটির একাংশে আগুনও লাগিয়ে দিয়েছিল। আবরাহা এ ঘটনা শুনে আক্রোশে উম্মত্ত হয়ে উঠল। সে এমনই দিশেহারা হয়ে পড়েছিল যে, এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এক বিশাল বাহিনী প্রস্তুত করে ফেলল এবং তাদের নিয়ে মক্কা মুকাররমার পথে যাত্রা করল। পথে আরবের কয়েকটি গোত্র তার সঙ্গে যুদ্ধ করল, কিন্তু আবরাহার বিশাল বাহিনীর কাছে তারা পরাস্ত হল। শেষ পর্যন্ত সে মক্কা মুকাররমার কাছাকাছি ‘মুগাম্মাস’ নামক এক স্থানে পৌঁছে গেল। পর দিন ভোরে যখন বাইতুল্লাহ শরীফের দিকে অগ্রসর হতে চাইল, তখন তার হাতি কিছুতেই সে দিকে যেতে চাইল না। ঠিক এ মুহূর্তেই সাগরের দিক থেকে আশ্চর্য ধরনের এক ঝাঁক পাখি উড়ে আসল এবং আবরাহার গোটা বাহিনীর উপর দিয়ে আকাশ ছেয়ে ফেলল। প্রতিটি পাখি তিনটি করে কঙ্কর বহন করছিল। তারা সেগুলো সৈন্যদের উপর বর্ষণ করল। সে কঙ্করে এমন কাজ হল যা গোলা-বারুদ দিয়েও সম্ভব হয় না। যার উপরই সে কঙ্কর পড়ত তার শরীর ভেদ করে তা মাটিতে ঢুকে যেত। এ আযাব দেখে সবগুলো হাতি পালাতে শুরু করল। কিছু সৈন্য তো সেখানেই ধ্বংস হল। আর যারা পালিয়েছিল, তাদের সকলেও রাস্তায় মারা গেল।
আবরাহার মৃত্যু হল সর্বাপেক্ষা দৃষ্টান্তমূলকভাবে। তার সারা দেহে এমন বিষ ছড়িয়ে পড়ল যে, তাতে শরীরের জোড়ায়-জোড়ায় পচন ধরল। এ অবস্থায়ই তাকে ইয়ামানে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে গলে-পচে একদম খতম হয়ে গেল। তার দুই মাহুত মক্কা মুকাররমায় থেকে গিয়েছিল। তারা অন্ধ ও বিকলাঙ্গ হয়ে গিয়েছিল। এ ঘটনাটি ঘটেছিল মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের সামান্য আগে। হযরত আয়েশা ও তাঁর বোন হযরত আসমা (রাযি.) সেই অন্ধ লোক দু’টিকে দেখেছিলেন। (বিস্তারিত জানার জন্য মাআরিফুল কুরআন দেখুন)। এ সূরার ঘটনাটি উল্লেখ করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার শক্তি অনেক বড়। যারা আপনার দুশমনীতে কোমর বেঁধে লেগেছে শেষ পর্যন্ত তারাও হাতিওয়ালাদের মত ধ্বংস হবে।